বিগত অনেক বছর যাবত প্রতি বছর বাংলাদেশে সর্ব্বেচ্চ ভ্যাটদাতা কোম্পানীর দুর্লভ সন্মান লাভ করে একটি বহুজাতিক টোব্যাকো কোম্পানী। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এই সব কোম্পানীগুলিই বোধহয় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। এই ভ্যাটের টাকাটা আসলে কে দিচ্ছে ঐ কোম্পানী না কি এই টাকাটা জনগণের পকেট থেকে কেটে রাখা হচ্ছে। প্রতি শলাকা সিগারেটের জন্য সরকারকে যে ভ্যাট দিতে হয় তা কোম্পানী কনজুমারদের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছে।
১. জাতীয় আয়ের এক শতাংশ ব্যায় হচ্ছে সিগারেটের পেছনে।
২. দেশে প্রতি বছর ধুমপান জনিত বিভিন্ন রোগে মারা যায় প্রায় ৫৭,০০০ জন। আরও প্রায় ২ লক্ষ লোক বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হয়।
৩. যত টাকা সরকারের রাজস্ব আদায় হচ্ছে তার চেয়ে বেশী টাকা চলে যাচ্ছে চিকিৎসা খাতের পেছনে।
৪. তামাক ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশী।
৫. তামাক থেকে সরকার যে রাজস্ব পায় তা বাদ দিলে বছরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
৬. বাংলাদেশে ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে দেশে উৎপাদিত সিগারেটের পরিমাণ ছিল ১৬০০ কোটি শলাকা যা ২০০৯-২০১০ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০০ কোটি শলাকা।
৭. জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষের সূত্র অনুযাযী দেশে মোট জনসংখ্যার ৪৩.৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে।
৮. তামাক চাষে ব্যবহার হয় ৪৯ হাজার হেক্টর জমি। উৎপাদিত হয় ৯৮ হাজার টন তামাক। বেসরকারী হিসাবে এর পরিমাণ অন্তত আরও তিনগুণ বেমী।
৯. একজন ধূমপাযী গড়ে প্রতিদিন ৫টি সিগারেট খান। সেই হিসাবে একজন ধূমপায়ী সিগারেটের পেছনে মাসে খরচ করেন গড়ে ৩৭৮ টাকা।
১০. রংপুর, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের অন্তত বিশটি জেলায় তামাক চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানী চাষীদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কিটনাশক দিয়ে সহায়তা করছে। অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে কৃষকের তামাক চাষে তিনগুণ বেশী লাভ হয়।
১১. বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ এ সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, বাংলাদেশে তামাক চাষের প্রসারের ফলে শাক-সবজির আবাদ কমায় এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। বৃহত্তর রংপুরে মঙ্গার জন্য তামাক চাষ দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন-অর্তনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলছে তামাক।
১২. তামাক চাষীরা থাকে সবচেয়ে ঝুকির মধ্যে। ত্বকের ক্যান্সার এর মধ্যে অন্যতম। সিগারেট কোম্পানীগুলি বাড়তি মুনাফার লোভ দেখিয়ে অন্য ফসলের পরিবর্তে চাষীদের তামাক চাষে উৎসাহিত করছে।
১৩. সিগারেটে মোট ৩০০০ এরও উপরে বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।
১৪. ধূমপান হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক, ফুসফুস ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, এর ঝুকি বাড়ায়। ধূমপায়ীদের তামাকের ধোয়ার আশে পাশে যারা থাকে তারাও সমান ঝুকির মধ্যে থাকে।
১৫. টোব্যাকো কোম্পানীগুলির মূল টার্গেট হচ্ছে ৩০ বছরের নীচের ধূমপায়ীরা। কারণ এরা হবে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী সম্পন্ন ভোক্তা।
১৬. World Health Organization (WHO) এর মতে ২০০৪ সাল নাগাদ বিশ্বে ধূমপানজনিত কারণে ৫.৪ মিলিয়ন লোকের মৃত্যু ঘটেছে। এই আনুপাতিক হারে বিশ শতকের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন লোক ধূমপানজনিত কারণে মারা যাবে।
১৭. ২০০০ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ধূমপায়ীর সংখ্যা ছিল ১.২২ বিলিয়ন। ২০১০ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৪৫ বিলিয়ন। ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াবে ১.৯ বিলিয়ন।
১৮. ২০০২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে শতকরা ২৫ ভাগ কিশোর (যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর) ধূমপানে আসক্ত। ৮০০০০ থেকে ১০০০০০ শিশু প্রতিদিন ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেক শিশু এশিয়ান। এর মধ্যে অর্ধেক হচ্ছে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য একেক জন ভোক্তা।
১৯. WHO এর মতে ২০০৪ সালে ৫৮.৮ মিলিয়ন লোকের মৃত্যু ঘটে এর মধ্যে ৫.৪ মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয় তামাক জনিত কারণে।
২০. প্রচারণার পেছনে সিগারেট কোম্পানীগুলি প্রতি বছর ১২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে। এর বেশীর ভাগই ব্যয় হয়ে থাকে তৃতীয় বিম্বের দেশগুলিতে যেখানে টোব্যাকো সংক্রান্ত আইনগুলি তুলনামূলকভাবে শিথিল।
২১. একজন ধূমপায়ী পুরুষ এর জীবন থেকে গড়ে ১৩.২ বছর এবং একজন ধূমপায়ী মহিলার জীবন থেকে গড়ে ১৪.৫ বছর আয়ু হারিয়ে যাচ্ছে।
২২. বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক জরিযপ দেখা ১০ শতাংশ হারে তামাকের মূল্য বৃদ্ধির ফলে উন্নত বিশ্বে তামাকের ব্যবহার চার শতাংশ কমে। আর বাংলাদেমের মত উন্নয়শীল দেশে তামাকের ব্যবহার কমে ৮ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. এম মোস্তফা জামান এর মতে দেশে তামাকের ব্যবহার বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অন্য দ্রব্যের তুলনায় বিড়ি, সিগারেটের দাম বৃদ্ধি না পাওয়া।
তথ্য ষূত্র: উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকা।
ছবি সূত্র: ইন্টারনেট।
ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া এক বাচ্চার মা গর্ব করে বলছেন- আমার বাচ্চা বংলা লেখা দেখলে জানতে চায়-মম এটা কি বাংলা।
বাবাও চোখ বড় বড় করে বলতে শুরু করেন-বাসায় আমরা বাচ্চাদের সামনে তেমন একটা বাংলা বলি না। ইংরেজীতে ভাল দখল না থাকার কারণে আমরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। ইংরেজী হচ্ছে অভিজাত একটি ভাষা। সারা পৃথিবী জুড়ে এর ব্যবহার। বাচ্চাদের ছোট বেলা থেকেই ইংরেজী শিক্ষা দিতে হবে। না হলে গোড়া দুর্বল থেকে যাবে।
এই মাথা মোটাদের আমি কোন ভাবেই বোঝাতে পারি না যে, ইংরেজী হচ্ছে আর দশটা ভাষার মতই বিদেশী একটি ভাষা। আগে নিজের মার্তৃ ভাষার চর্চা তারপর কারো যদি শখ থাকে তবে সে অন্য কোন বিদেশী ভাষার চর্চা করতে পারে। নিজের ভাষা না জেনে অন্য ভাষা বলার মধ্যে কোন গৌরবের ব্যাপার নাই।
বাংলাই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ভাষা যার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। এবং ঐ দিনটিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পালন করা হয়। ইংরেজরা দুইশত বছর এ দেশ শাসন করে গেছে। ফলে তাদের চিন্তাধারা এখনও আমাদের মাঝে রয়ে গেছে।
ডি.জে, ভি.জে, আর.জে এই জিনিসগুলি কি আমার বুঝতে অনেক দিন সময় লেগেছে। এরা বাংলা-ইংরেজী মিশিয়ে নতুন একটা ভাষার উদ্ভাবন করছে। হাই ফ্রেন্ডস, সো ভিউয়ারস, সো লিসেনারস কি যেন বলছিলাম.... কোন এক বিচিত্র কারণে কিছুক্ষণ এদের বকবক শুনলে আমার মাথা ভার হয়ে যায়। দুই চোখ আপনিই ঘুমে বুজে আসতে চায়।
আমাদের মাথায় কোন ভাবে ঢুকে গেছে ব্রিটিশ শিশুরা আমাদের বাচ্চাদের চেয়ে টলার, স্ট্রংগার, শার্পার (সম্ভবত বেশী হরলিক্স খাবার কারণে।)। এদের সব কিছু আমাদের অনুকরণ করে যেতে হবে। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন আমাদের বাচ্চারা ব্রিটিশ শিশুদের মত হড়বড় করে ইংরেজী বলতে পারবে।
ব্রিটিশ শিশুদের আই.কিউ এর কিছু নমুনা-
ওয়ানপোল জরিপ সংস্থা অনলাইনে ব্রিটেনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষার্থীর উপর জরিপ চালায়। জরিপের ফলাফল নিম্নরূপ:
১. প্রশ্ন: টেলিফোনের আবিস্কারক কে?
উত্তর: শতকরা দশ জনের উত্তর ছিল:
ক. রানী এলিজাবেথ।
খ. চার্লস ডারউইন।
গ. নোয়েল এন্ডমন্ডস।
২. প্রশ্ন: চন্দ্রপৃষ্টে প্রথম পা দেয়া ব্যক্তির নাম কি?
উত্তর: শতকরা বিশ জনের উত্তর ছিল:
ক. স্টার ওয়ারস সিনেমার প্রধান চরিত্র লুকে স্কাইওয়াকার।
খ. শিল্পপতি রিচার্ড ব্রানসন।
৩. প্রশ্ন: স্যার আইজাক নিউটন কি আবিস্কার করেছেন?
উত্তর: জরিপে অংশ নেয়া এক তৃতীয়াংশের উত্তর ছিল:
ক. স্যার আইজাক নিউটন আগুনের আবিস্কাররক।
জরিপে অংশ নেয়া ষোল শতাংশের উত্তর ছিল:
ক. স্যার আইজাক নিউটন ইন্টারনেটের আবিস্কারক।
ক. স্যার আইজাক নিউটন সৌর পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন।
খ. স্যার আইজাক নিউটন আমেরিকা আবিস্কার করেছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পক্ষে প্রচারণা চালানো বার্মিংহাম সায়েন্স সিটির ড. পাম ওয়াডেল বলেছেন, জরিপের কিছু ফলাফল হাস্যকর। শিশুরা বিজ্ঞানের হিরোদের চেয়ে সিনেমার হিরোদের বেশী চেনে। বিজ্ঞানীর পরিবর্তে এরা নামকরা গায়কদের ব্যাপারে আগ্রহী বেশী। মজার ব্যাপার হচ্ছে ৯ থেকে ১০ বছরের ৭০ শতাংশ শিশু আবার বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার ব্যাপারে অনেক আগ্রহী। ১১ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের মধ্যে এই হার আবার ৩৩ শতাংশ।
পাদ টিকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার লন্ডন গেছেন। ইংল্যান্ডে প্রবাসী বাঙ্গালীদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে কে কার আগে রবি ঠাকুরের সাথে দেখা করবে।
এক বাঙ্গালী যুবক দীর্ঘ আট বছর ধরে লন্ডনে ব্যারিস্টারী পড়ছে। পাশ আর করা হয়ে উঠেনি। এটা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথাও নেই। কারণ তত দিনে সে ইংরেজদের আদব কায়দা ভালই রপ্ত কর নিয়েছে। সে আসল রবি ঠাকুরের সাথে দেখো করতে।
প্রথম সাক্ষাতেই সে উনার সাথে ইংরেজীতে কথাবার্তা বলা শুরু করে দেয়। এবং কথায় কথায় জানিয়ে দেয় দীর্ঘ দিন এদেশে থাকার কারণে বাংলা প্রায় সে ভুলেই গেছে তারচেয়ে ইংরেজীতে সে বেশী অভ্যস্ত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যুবকের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন-বাঙ্গালীর ছেলে বাংলা বলতে ভুলে গেছ, এ কথা জানাবার আগে লজ্জা বোধ করা উচিত ছিল। কিন্তু তুমিতো দেখছি ইংরেজীটাও ভাল করে রপ্ত করতে পারনি।
** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদাহরণ দেয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে-ব্রিটিশ সরকার একবার সিদ্ধান্ত নিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হোক। তখন সারা ভারতজুড়ে চলছিল ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন। তাই রবি ঠাকুর ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই উপাধি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তা না হলে আজকে আমাদের বলতে হত-স্যার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তথ্য সূত্র: বিবিসি নিউজ।
ছোট বেলায় দেখা সত্যজিত রায়ের অমর সৃষ্টি হীরক রাজার দেশের সেই পাগলা রাজার কথা এখনও মনে আছে।
‘জ্ঞানের কোন শেষ নাই, জ্ঞানের চেষ্টা বৃথা তাই। আজ থেকে তাই পাঠশালা বন্ধ।'
তখন মনে হয়েছিল ইস্ যদি সত্যি সত্যি সব পাঠশালা বন্ধ হয়ে যেত তবে কত মজাই না হত। রোজ রোজ বিরক্তিকর স্কুলে যাবার কোন ঝামেলাই তাহলে আর থাকত না।
আজ অনেক বছর পর মনে হয হায় কোথায় হারিয়ে গেল শৈশবের সেই সব সোনালী দিনগুলি। যদি সুযোগ থাকত তবে আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে যে কোন কিছুর বিনিময়ে আমার সেই সব সাদামাটা শৈশবের দিনগুলি ফেরত চাইতাম। সেই সব স্কুল পালানো দিনগুলি। সেইসব আনন্দ বেদনার মুহূর্তগুলি এখনও তাড়া করে ফেরে।
স্কুল পালানোর কথা বললেই অনেক বোদ্ধারা চোখ কোঁচকে ফেলবেন। কিন্তু অনেক বিখ্যাতদেরও রয়েছে পড়ায় ফাঁকি দেয়া, স্কুল পালানো এবং স্কুল থেকে বহিস্কারের ইতিহাস।
১. জেমস নেগল ফারসন: একজন আমেরিকান লেখক। উনাকে ফিলিপস অ্যকাডেমি থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এক বদমেজাজী প্রশিক্ষককে পুকুরে ছুড়ে ফেলতে তিনি সাহায্য করে ছিলেন।
২. অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: বড় হয়ে হতে চেয়েছিলেন গুন্ডা, কবি, দার্শনীক। শেষ পর্যন্ত এর কোনটাই হতে পারেননি। উনার বড় বড় নরম কান দুটি ক্লাস শিক্ষকের খুব প্রিয় ছিল। তাই ছোটবেলায় স্কুলে থাকতে শিক্ষকের বেতের বাড়ির বদলে উনাকে সব সময় কান মলা খেতে হয়েছে। ক্লাসে শিক্ষক প্রবেশ করেই ফিল্মি রংবাজ স্টাইলে উনার দুই কানের উপর ঝাপিয়ে পড়তেন।
৩. বেনিতা মুসোলিনি: ৯ বছর বয়সে স্কুলের এক শিক্ষক তাকে স্কেল দিয়ে বাড়ি দিলে তার দিকে কালির দোয়াত ছুড়ে মারেন। সে যাত্রা রক্ষা পেলেও পরবর্তীতে এক ছাত্রের নিতম্বে ছুরি মারার অপরাধে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন।
৪. লিও ট্রটস্কি: একজন রাশিয়ান কমিউনিস্ট নেতা। ১০ বছর বয়সে স্কুলে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে জোরে চিৎকার করতে বন্ধুদের উৎসাহ জোগান। ফলস্বরুপ বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার।
৫. উইলিয়াম রেগুলফ হার্স্ট: আমেরিকান পত্রিকা প্রকাশক। স্কুলের পত্যেক শিক্ষককে একটি করে প্রস্রাবের পটি পাঠান। প্রতিটি পটিতে অলংকরন করে দেন সেই শিক্ষকের নাম আর ছবি। ফলে হার্ভাড থেকে হন বহিস্কৃত।
৬. এডগার অ্যালান পো: পর পর কয়েক সপ্তাহ ক্লাস করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে বিদ্যালয় থেকে করা হয় বহিস্কার।
৭. বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন: ছেলেবেলায় শিক্ষকরা উনাকে লেজী ডগ বলে সম্বোধন করতেন। তাদের ধারণা এই কুঁড়ের বাদশা ছেলে বড় হয়ে কোন কাজেই লাগবে না।
৮. লেখক হুমায়ূন আহমেদ: ক্লাস ওয়ানের প্রথম ক্লাসে মারামারি করে এক ছাত্রের সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলেন। ফলে হেডমাস্টার সাহেব উনাকে কান ধরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেন। ছাত্রছাত্রীদের উপদেশ দেন-এ মহাগুন্ডা। তোমরা সাবধানে থাকবে। খুব সাবধান। পুলিশের ছেলে গুন্ডা হওয়াই স্বাভাবিক। প্রথম শ্রেণীতে যতদিন তিনি ছিলেন প্রতিদিনই কোন না কোন কারণে উনাকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠার পর একদিন ক্লাসের এক সুন্দরী বালিকার কাছে গম্ভীর ভাবে জানতে চান বড় হয়ে সে তাঁকে বিযে করতে রাজী আছে কিনা। ফলে শিক্ষকের কাছে নালিশ এবং যথারীতি কপালে জোটে দুই হতে দুইটা ইট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি।
৯. আহসান হাবীব: প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট। ছেলেবেলায় ভর্তি হন কুমিল্লা জিলা স্কুলে। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক জানতে চান-হাউ ওল্ড আর ইউ?
তিনি সগর্বে উত্তর দেন-নো আই এ্যাম নট ওল্ড।
শিক্ষক হেসে ফেলে বলেন-বাহ তুইতো ইংরেজীতে দারুণ ভাল রে!
সংগৃহীত
১. শার্লক হোমসের অমর স্রষ্টা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল প্যারিসে বেড়াতে গেছেন। একটা ট্যাক্সিতে উঠতেই ট্যাক্সি চালক তাঁকে
প্রশ্ন করল-কোথায় যাবেন মিস্টার ডয়েল?
আর্থার কোনান ডয়েল অবাক হয়ে জানতে চাইলেন-তুমি আমাকে চিনলে কি করে?
ড্রাইভার উত্তর দিল-কাগজে দেখেছিলাম লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল প্যারিসে এসেছেন। আর আপনার ডান হাতে আঙ্গুলে কালি লেগে আছে দেখে বুঝলাম যে আপনি লেখক। তাছাড়া আপনার চালচলন পোশাক দেখেই বুঝেছি যে আপনি নির্ঘাত ইংরেজ।
বাহ, তোমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা যে আমার শার্লক হোমসের চেয়েও বেশী। সামান্য কয়েকটা লক্ষণ দেখেই তুমি আমাকে চিনে ফেললে।
অবশ্য আপনাকে চিনতে আরও একটা ব্যাপার সাহায্য করেছে।
সেটা কি? উৎসুক হয়ে কোনান ডয়েল জানতে চান।
আপনার হাতের ব্যাগের গায়ে বড় বড় করে আপনার নাম লেখা রয়েছে।
২. রানাঘাটের জমিদার গোপাল চৌধুরী ছিলেন ভীষণ মোটা। একবার তিনি হাতির পিঠে চড়ে পার্শ্ববর্তী জমিদারের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যান। গোপাল চৌধুরীকে দেখতে লোকের ভীড় জমে যায়।
হাসতে হাসতে চৌধুরী সাহেব বললেন-কিহে তোমাদের গাঁয়ের লোকেরা কি এর আগে কখনও হাতি দেখেনি।
প্রতিবেশী জমিদারও কম যান না। তিনি উত্তর দেন-হাতি ওরা অনেক দেখেছ্ েকিন্তু হাতির পিঠে হাতি তারা আগে কখনও দেখেনি।
৩. প্রাচীন গ্রীক কবি ফিলেমোন একদিন দুপুরে খেতে এসে দেখেন যে একটি গাধা তার জন্য রাখা সব খাবার খেয়ে নিচ্ছে। ঘটনাটি দেখে উনার ভীষণ হাসি পায়। হাসি এতই বেদম আকার ধারণ করে যে একটু পর হেচকি উঠে মারা যান দুর্ভাগা কবি।
৪. আলবার্ট আইনস্টাইন পৃথিবী বিখ্যাত বিঙ্গানী হলেও তাঁর চালচলন ছিল একেবারেই সাধাসিধে। এমনকি তিনি ট্রেনে চলাফেরা করতেন তৃতীয় শ্রেণীর কামরায়।
একবার বেলজিয়ামের রানী তাঁকে ব্রাসেলস এ নিমন্ত্রণ করলে তিনি যথারীতি সাধারণ বেশে তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় চেপে এসে নামলেন স্টেশনে। নেমে দেখলেন বেজায় ভিড়। ভিড়ের ফাঁক-ফোঁকর গলে তিনি কোন রকমে বাইরে বেরিয়ে হেঁটে এসে পৌছালেন রানীর প্রসাদে। রানী তো হঠাৎ করে আইনস্টাইনকে এভাবে সামনে দেখে হতভম্ব।
তিনি কোন মত বললেন-প্রফেসর আইনস্টাইন, আপনি এবাবে হেঁটে আসলেন, অথচ আপনাকে আনতে আমি স্টেশনে গাড়ী আর লোকজন পাঠালাম।
হবে হয়ত বললেন আইনস্টাইন। স্টেশনে তাহলে ভিড় বাধিয়েছিল আপনার পাঠানো লোকেরাই।
৫. প্রখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ তার ‘সেন্ট জোন’ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নের রাতে উপস্থিত থাকবার জন্য স্যার উন্সটন চার্চিলকে দুটি টিকেট পাঠান। সাথে একটি চিরকুট লিখে পাঠান- একটি টিকেট আপনার আর অন্যটি আপনার বন্ধুর জন্য। তবে আদৌ যদি আপনার কোন বন্ধু থেকে থাকে।
চার্চিলও শ কে একটি চিঠি পাঠান। তাতে লেখা ছিল- মঞ্চায়নের প্রথম রাতে উপস্থিত হতে পারছি না বলে দুঃখিত। সম্ভব হলে দ্বিতীয় রাতের জন্য টিকেট পাঠাবেন। অবশ্য আদৌ যদি আপনার নাটকের দ্বিতীয় রাত বলে কোন কিছু থেকে থাকে।
৬. প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক সমারসেট মম বৃদ্ধ বয়সে ভীষণ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার এক ভক্ত ফোন করে উনার কাছে জানতে চাইল-কিছু ফুল আর ফলমূল পাঠালে তিনি তা গ্রহণ করবেন কিনা।
উত্তরে মম বলেন-ফলমূল পাঠাবার ক্ষেত্রে বলতে হয় তুমি বড্ড দেরী করে ফেলেছ। আর ফুল পাঠাবার সময় এখনও আসেনি।
৭. ইউলিসিস খ্যাত লেখক জেমস জয়েস এর কাছে একদিন এক তরুণ ভক্ত এসে বলল-যে হাত দিয়ে আপনি ইউলিসিস এর মত মহৎ সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন সেই হাতে কি আমি একবার চুমু খেতে পারি?
না-উত্তর দিলেন জয়েস। কারণ এই হাতে আমি অনেক মন্দ কাজও করেছি।
৮. ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জন ডেভিড রকফেলারের ব্যক্তিগত জীবন ছিল খুব সাধাসিধে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি অর্থ উপার্জন করেছিলেন বলে অযথা অপব্যায়ে তার মন সায় দিত না।
একবার ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে তিনি একটি হোটেলের সবচেয়ে কমদামী কক্ষটি নিজের জন্য ভাড়া করেন।
হোটেলের ম্যানেজার একদিন বলে বসে-স্যার আপনার ছেলে যখন এই হেটেলে আসে তখন সবচেয়ে দামী কক্ষটি ভাড়া নেন। অথচ আপনি সবচেয়ে কমদামি কক্ষটি ভাড়া নিলেন কেন?
রকফেলার জবাব দেন-কারণ আমার ছেলের বাবা পয়সাঅলা লোক। কিন্তু আমার বাব ছিলেন নিতান্তই গরীব।
৯. ভারতে জন্মগ্রহণকারী নোবেল বিজয়ী ইংরেজ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং যে পত্রিকাটির গ্রাহক ছিলেন সেখানে একবার ভুলবশত কিপলিং এর মৃত’্য সংবাদ ছাপা হয়। সংবাদটি পড়ে তৎক্ষণাৎ কিপলিং পত্রিকা সম্পাদককে চিঠি লিখলেন-আপনার পত্রিকা মারফতে জানতে পারলাম যে আমার মৃত্যু হয়েছে। তাই দয়া করে আপনাদের গ্রাহক তালিকাটা থেকে আমার নামটি বাদ দিয়ে দিবেন।
১০. একবার ব্রিটিশ পুলিশ এক চোরকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল যার চেহারার সাথে তখনকার প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের চেহারার অনেক মিল ছিল। পুলিশ চোরের ছবি দিয়ে ধরিয়ে দিন বিঞ্জাপনও ছাপিয়েছিল।
লোকে জন মেজরকেই চোর ভেবে ভুল করতে পারে ভেবে তারা বিঞ্জাপনের নিচে লিখে দিল-প্রধানমন্ত্রী নন।
সংগ্রহ: আসমার ওসমান সম্পাদিত বিখ্যাতদের সত্যি জোকস।
১. আমার কাছে সত্যই একটা ব্যাপার হাসির মনে হয় যখন শুনি মানুষ প্রশ্ন করে যে ভালবেসে বিয়ে করা ভাল নাকি পারিবারিক ভাবে বিয়ে করা ভাল। আমার কাছে মনে হয় একজন যেন অন্য একজনকে প্রশ্ন করছেঃ আত্মহত্যা ভাল নাকি খুন হওয়া ভাল।
২. মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল স্ত্রীর। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখলেন, স্বামী বিছানায় নেই। বিছানা থেকে নেমে গায়ে গাউন চাপালেন তিনি। তারপর স্বামীকে খুঁজতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলেন।
বেশি খুঁজতে হলো না। রান্নাঘরের টেবিলেই বসে থাকতে দেখা গেল স্বামীপ্রবরকে। হাতে গরম এক কাপ কফি নিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, গভীর কোনো চিন্তায় মগ্ন। মাঝেমধ্যে অবশ্য হাতের রুমাল দিয়ে চোখ থেকে পানি মুছে নিচ্ছেন, তারপর কফি খাচ্ছেন।
‘কী হয়েছে তোমার?’ রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে চিন্তিতভাবে বললেন স্ত্রী। ‘এত রাতে রান্নাঘরে কেন?’
স্বামী তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তারপর গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘হঠাৎ ২০ বছর আগের কথা মনে পড়ল। খেয়াল আছে তোমার, যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। আর তার পর থেকেই তো আমরা ডেট করতে শুরু করেছিলাম। তোমার বয়স ছিল ষোলো। তোমার কি মনে পড়ে সেসব?’
স্ত্রী তাঁর স্বামীর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই মনে আছে।’
স্বামী একটু থেমে বললেন, ‘তোমার কি মনে আছে, পার্কে তোমার বাবা আমাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন?’
‘হ্যাঁ, আমার মনে আছে।’ একটা চেয়ার নিয়ে স্বামীর কাছে বসতে বসতে বললেন স্ত্রী।
স্বামী আবার বললেন, ‘মনে আছে, তোমার বাবা তখন রেগে গিয়ে আমার মুখে শটগান ধরে বলেছিলেন, ‘এক্ষুনি আমার মেয়েকে বিয়ে করো, নয়তো তোমাকে ২০ বছর জেল খাটাব আমি।’
স্ত্রী নরম সুরে বললেন, ‘আমার সবই মনে আছে।’
স্বামী আবার তাঁর গাল থেকে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, ‘আজকে আমি জেল থেকে ছাড়া পেতাম।’
৩. একটা উপদেশ- সবসময় মানিব্যাগে আপনি আপনার স্ত্রীর ছবি রাখুন। যখনই বড়ো কোনো সমস্যায় পড়বেন তখন মানিব্যাগ বের করে স্ত্রীর ছবিটা দেখবেন, আর মনে করবেন এর চেয়ে বড় সমস্যা আর কিছুই হতে পারে না।
৪. জামাতে ইসলামী, বিএনপি আর ঐক্যজোটের তিন র্কমী মদ্যপান করা অবস্থায় সৌদী আরবে ধরা পড়। সৌদী আরবে যেহেতু প্রকাশ্যে মদ্যপানের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর, তাই সেখানে এর শাস্তি হচ্ছে চাবুকের বিশ দোররা বাড়ি। আরবের শেখ যখন এই তিন কর্মীকে শাস্তির জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন, তখন শেখ বললেন, "আজ আমার প্রথম বউয়ের জন্মদিন, তাই আমি তোমাদের প্রত্যকেকে চাবুক মারার আগে একটা করে আর্জি জানাবার অনুমতি দিলাম এবং তোমাদরে আর্জি মঞ্জুর করা হবে।
লাইনের প্রথমে দাঁড়ানো ঐক্যজোটের কর্মী বলল, "শেখ তুমি যদি চাবুক মারার আগে পিঠের সাথে একটা বালিশ বেঁধে দিতে। তার আর্জি মোতাবকে বালিশ বেঁধে চাবুক মারা শুরু হলো। বালিশ চাবুকের বাড়ি ১০ টা র্পযন্ত নিল, তারপর বালিশ গেল ফেটে। ব্যথায় কুঁচকে রক্তাত্ব অবস্থায় তাকে সরানো হলো বিশ দোররার পর।
এর পরে লাইনে ছিল বিএনপির র্কমী। সে ঐক্যজোটের কর্মীর বেহাল অবস্থা দেখে আর্জি জানাল দু'টো বালিশ বাঁধার। তার আর্জি মোতাবকে ২টা বালিশ বেঁধে চাবুক মারা শুরু হলো। বালিশ চাবুকের বাড়ি ১৫ টা র্পযন্ত নিতে পারল, তার পর বালিশ গেল ফেটে। ব্যথায় কুঁচকে গোঙ্গানো অবস্থায় বিএনপি'র র্কমীকে সরানো হলো বিশ দোররার পর।
সবার শেষে লাইনে ছিল জামাত কর্মী। সে কোন কিছু বলার আগেই শেখ জামাত র্কমীকে বলল, "তুমি হচ্ছো গোলাম আযমের দলের লোক। তাই তুমি ২টা আর্জি রাখতে পার"। জামাতী কর্মী খুশীতে গদগদ হয়ে বলল, "হুযুর, আমি নাদানের মতো কাজ করেছি, তাই তুমি আমাকে চাবুকের ২০ দোররা না, ১০০ দোররা মার। শেখের চোখ আনন্দে জ্বলজল করে উঠল। বলল, "তার পরের আর্জি"? জামাত কর্মী ব্যথায় কুঁকড়ানো বিএনপি কর্মীকে আঙ্গুলের ইশারায় দেখিয়ে বলল, "বালিশ টালিশ না, তুমি ঐ ব্যাটারে (বিএনপি'র কর্মী) আমার পিঠের পেছনে বাইন্ধা দাও"।
৫. রাতে গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন এক ভদ্রলোক। গাড়ি জ্যামে আটকে গেলে এক ভিক্ষুক এসে হাত পাতল।
: দয়া করে কিছু দিন স্যার !
: তুমি মদ খাও ?
: না স্যার।
: তুমি ধূমপান কর ?
: না।
: জুয়া খেল ?
: না।
: তুমি শিগগির আমার গাড়িতে উঠ।
: যা দেবার এখানেই দিন, স্যার।
: না, তোমাকে বাড়ি নিয়ে আমার স্ত্রীকে দেখাতে চাই যে, মদ, জুয়া, ধূমপান এ সবের সাথে না থাকলে মানুষের জীবনের কি ভয়াবহ অবস্থা হয়।
৬. এক দাওয়াতের অনুষ্ঠানে এক বাংলাদেশী ও এক আমেরিকান খেতে বসেছে।তো সেই দাওয়াতের অনুষ্ঠানে সোনার চামচ দেয়া হয়েছিল সবাইকে খাওয়ার সময় ব্যবহার করার জন্য।হঠাৎ আমেরিকানটা খাওয়ার মাঝখানে খুব সাবধানে নিজের প্যান্টের পকেটে একটা সোনার চামচ লুকিয়ে ফেললো।শুধু বাংলাদেশীটা এটা দেখল,কিন্তু কিছু বলল না।খাওয়া শেষে সবাই গল্প করছে।হঠাৎ বাংলাদেশীটা বলল,সে একটা ম্যাজিক দেখাবে।ম্যাজিক দেখতে সবাই তার চারপাশে এসে ভিড় করে দাড়ালো।তখন বাংলাদেশীটা একটা সোনার চামচ চাইল একজনের কাছ থেকে।সেই বাড়ির মালিকের ছেলে তাকে একটা সোনার চামচ এনে দিল।বাংলাদেশীটা সেই সোনার চামচটা তার নিজের প্যান্টের পকেটে ঢুকাল এবং আমেরিকানটাকে কাছে ডেকে এনে তার পকেট থেকে সোনার চামচ বের করল। সবাই খুব জোরে তালি দিয়ে ওঠল....আর আমেরিকানটা
৭. এক বন্ধুর মন খুব খারাপ। অন্য বন্ধু তাই দেখে কথা বলছেঃ
১ম বন্ধুঃ কিরে দোস্ত, মন খারাপ কেন? ওঃ তোর বউ সেই যে বাপের বাড়ি গেল, এখনও আসেনি, তাই?
২য় বন্ধুঃ নারে দোস্ত, আজকে তার ফিরে আসার কথা!
৮. একজন মানুষকে টেলিগ্রাম করা হলঃ বউ মারা গেছে, কবর দিব নাকি পুড়িয়ে ফেলব?
সেই মানুষ সাথে সাথে উত্তর পাঠালঃ কোন রিস্ক নেবার দরকার নাই; প্রথমে পোড়ান, তারপর সেই ছাই কবর দিন।
৯. স্ত্রীঃ স্বামী এবং স্ত্রীকে কখনো একসঙ্গে স্বর্গে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয় না।
স্বামীঃ হ্যাঁ, এজন্যই এর নাম স্বর্গ।
১০. চল্লিশ বছর পার হবার হয়ে গেছে তবু বিয়ে করেনি এক লোক । একদিন একজন এর কারন জানতে চাইল ।
লোকপ্টি বলল সারা জীবন আমি একটা পারফেক্ট মেয়ের খোজ করেছি ।
তা একটি ও পাননি?
পেয়েছিলাম একটি কিন্তু সে আবার একটি পারফেক্ট ছেলের অপেক্ষায় ছিল।
১১. প্রশ্ন: রাজাকার আর এক বালতি গোবরের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
উত্তর: ঐ বালতিটা।
১২. কোনো মহিলা যখন গলার স্বর নামিয়ে কথা বলে তখন বুঝতে হবে তিনি কিছু চাইছেন ।
আর যখন গলা চড়া করে কথা বলে তখন বুঝতে হবে তিনি যা চেয়েছিলেন তা পান নি ।
১৩. এক ভদ্রলোক একটা মোটর গাড়ী দুঘটনার একেবারে চুরমার হয়ে গেছে । তিনি তার গাড়ী যেখানে বীমা করেছিলেন সেখানে গিয়ে টাকার দাবী করলেন । কোম্পানীর ম্যানেজার বললেন যে আপনাকে তো টাকা দেয়া হবে না । আপনাকে গাড়ীর বদলে একটা নতুন গাড়ী দেয়া হবে । ভদ্রলোক তো আৎকে ঊঠলেন । আরে আমার স্ত্রীর নামে বীমা করা , সে মরে গেলে কি আপনারা একই ব্যবস্থা করবেন ?
আমির আলির ছেলে আতংকে পেছন থেকে চেঁচিয়ে উঠে-বাবা জোঁক। আমির আলি তাকিয়ে দেখে তার পায়ে অনেকক্ষণ ধরে একটি জোক প্যাঁচিয়ে আছে। রক্ত খেয়ে একবারে ঢোল হয়ে আছে। ছেলের দিকে তাকিয়ে আমির আলী অভয়ের হাসি হাসে। ব্যাটা ভয় নাইরে। জমিতে কাজ করতে হইলে এমুন কিছু জোঁকের কামড় সহ্য করতে হয়।
সে টান দিয়ে জোঁকটি পা থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। একেবারে কামড় দিয়ে ধরে আছে। অনেক্ষনের চেষ্টার পর ছাড়াতে পারে। ছেলে অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। তার বাবা কত সাহসী।
সারাদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের পর বাপ ছেলে ঘরে ফিরে আসে। এই সময়টুকুর জন্য আমির আলি সারাদিন অপেক্ষা করে থাকে। বাবুর মা না খেয়ে তাদের দুইজনের জন্য ভাত বেড়ে বারান্দায় বসে থাকবে। তারা সবাই মিলে একসাথে খেতে বসবে। খাবার মাঝে টুকটাক সাংসারিক আলাপ চলবে। আহ, পরিবারের এই ভালবাসার কাছে সারাদিনের ক্লান্তি কত তুচ্ছ হয়ে পড়ে।
ঘরে এসে আমির আলি অবাক হয় অনেক লোকজন দেখে। এরা সব এসেছে ব্যাংক থেকে। পর পর কয়েকটি কিস্তির টাকা বাকী পড়াতে তারা তার গোলা থেকে ধান, ঘরের চালা সব খুলে নিয়ে যাচ্ছে। যাবার সময় শাসিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বাকী টাকা কালকের মধ্যে শোধ না হলে পুলিশ দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়া হবে।
আমির আলি ক্লান্তিতে ঘর্মাক্ত দেহ নিয়ে মাটিতে বসে পড়ে। অনেক দিন ধরে সংসারে টানাটানি যাচ্ছে। যা আয় হয় তার সব টাকাই ব্যংকের কিস্তি শোধ করতেই চলে যায়। এ বছর ভাল ফসল হয়েছে। ভেবে ছিল এবার হয়ত ব্যাংকের টাকা শোধ করে দিতে পারবে। কিন্তু সেই সময়টুকু আর সে পেল না। বাবুর মা বাবুকে কোলে নিয়ে নিরবে কাঁদছে। বারান্দার দাওয়ায় বাড়া ভাত তেমনিই পড়ে আছে।
ছেলে তাকিয়ে দেখে বাবার গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে খুব অবাক হয়। তার বাবা কত সাহসী, কত বড় জোঁকটাকে কিভাবে টেনে পা থেকে টেনে ফেলে ছিলেন। তাহলে এই লোকগুলিকে তার বাবা কিছু বলছে না কেন। ধানগুলি সারা বছর ধরে তারা দুইজনে মিলে কত কষ্ট করে গোলায় তুলেছিল। লোকগুলি সব নিয়ে যাচ্ছে।
আমির আলি ছেলের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। সে আজ আর ছেলেকে কোন অভয় বাণী দিতে পারে না। ছেলেকে সে কিভাবে বুঝাবে জমির জোঁক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কিন্তু এখন সামনে মানুষরূপী যে জোঁকগুলি দাড়িয়ে আছে তাদের হাত থেকে মুক্তির কোন উপায় তার জানা নাই। সত্যিকারের জোঁক কয়েক ফোটা রক্ত খেয়েই থেমে যায়। কিন্তু এই জোঁকগুলি অনবরত মানুষের রক্ত খেয়েই চলে।
ছেলে অনবরত ডেকেই চলেছে-বাবা, ও বাবা। আমির আলি লজ্জায় ছেলের দিকে মুখ তোলে তাকাতে পারছেন না। আজ তিনি জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক ভীতু বাবা।
(স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ১৯৭১ সালে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তিনি ব্র্যাক, কালক্রমে যা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থায় পরিণত হয়। দেশের বাইরে এশিয়া এবং আফ্রিকার ৮টি দেশে ব্র্যাক এর কার্যক্রম বিস্তৃত। কাজের স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন রেমন ম্যাগসাসে পুরস্কার, ইউএনডিপি পুরস্কার, ক্লিনটন গোবাল সিটিজেন পুরস্কার এবং সবশেষে এ বছরই পেলেন ব্রিটেনের রাজপরিবার থেকে নাইট উপাধি।
আহ্ একটা মানুষের জীবনে এর চেয়ে বেশী আর কিইবা চাইবার থাকে। আমাদের এই সবুজ দেশটাকে বিশ্ব দরবারে তিনি নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এর জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।
কিন্তু স্যার আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন ব্র্যাক এর শাখাগুলি কর্মীদের জন্য মোটা অংকের বেতন আর ঝা চকচকে জৌলুস নিয়ে কিভাবে বেড়ে উঠছে। একমাত্র উচ্চহারের সুদের কারণেই এটা সম্ভবপর হয়েছে। ঋণ আদায়ের নামে আপনার লোকেরা দরিদ্র পরিবারগুলির উপর কি পরিমাণ অত্যাচার করে আপনার কি কোন ধারণা আছে।
এর পেছনে যে কত অসহায় পরিবারের কান্না লুকিয়ে আছে তা কি আপনি কখনও অনুভব করেছেন। আপনি কি রাতে একজন সাধারন লোকের মতই ঘুমাতে পারেন। অসহায় মুখগুলি কি দুঃস্বপ্ন হয়ে আপনাকে তাড়া করে ফেরে না। চোখ বন্ধ করলে কি এদের কান্নার শব্দ আপনার কানে ভেসে আসে না।
ধুর কি সব ফালতু সেন্টিমেন্টস নিয়ে কথা বলছি। এতসব দেখলে কি আর আপনার চলবে। আপনার যে এখনও নোবেল প্রাইজ পাওয়া বাকী। দরিদ্র লোকগুলির জীবিত লাশ পাড়ি দিয়ে আপনাকে যে এখনও হাঁটতে হবে অনেক অনেক দূরের পথ। পেছনে ফিরে তাকালে কি আর একজন সফল মানুষ হওয়া যায়।)
একটি গল্প ও একটি পোস্ট
একটি গল্প
এক নৈশ প্রহরী রাজার বাড়ী পাহাড়া দিত। একদিন সে স্বপ্ন দেখল রাজা একটি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছেন। হঠাৎ ভূমিকম্পে রাজা সহ সেই গ্রামের সব লোক মারা গেল।
পরদিন দেখা গেল রাজা সত্যি সত্যি স্বপ্নে দেখা গ্রাম পরিদর্শনে যাচ্ছেন। নৈশ প্রহরী রাজাকে রাতে দেখা স্বপ্নের কথা বর্ণনা করে না যাবার অনুরোধ করল। ঐ দিন দুপুরে ভূমিম্পে ঐ গ্রামের অনেক লোক মারা গেল।
রাজা ঐ নৈশ প্রহরীকে ডেকে এনে খুশি হয়ে অনেক বখশিস দিলেন এবং তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্থ করলেন। নৈশ প্রহরী অবাক হয়ে জানতে চায়- মহারাজ আমি আপনার প্রাণ বাচিয়েছি তাই খুশি হয়ে আপনি আমাকে বখশিস দিয়েছেন কিন্তু পুনরায় আবার চাকরি থেকে বের করে দিচ্ছেন। এটা কেমন বিচার।
রাজা উত্তর দেন-বখশিস দিয়েছি কারণ তুমি আমার প্রাণ বাচিয়েছ। আর চাকরি থেকে তোমাকে ছাটাই করেছি কারণ তুমি কর্তব্য পালনে অবহেলা করেছ। রাতে পাহারা দেবার বদলে তুমি সারা রাত ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে কাটিয়েছ।
গল্পের ব্লগীয় রূপান্তর
একবার এক সাইটে মুসলিমদের কোরআন শরীফে লেখা একটি সংখ্যা নিয়ে ভুল ব্যাখা প্রদান করা হয়। বলা হয় ধর্মগ্রন্থে ঐ সংখ্যাটির যে অর্থ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এই সংখ্যাটি মূলত হিন্দু বেদ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে এবং মুসলমানরা নিজেদের অজ্ঞতার কারণে এতদিন এর ভুল ব্যাখা প্রদান করে আসছে।
এক ব্লগার একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য একটি ব্লগ সাইটে সবার কাছে প্রকাশ করে দেয়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সম্প্রদায়কে আসন্ন ধর্মীয় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা।
কিন্তু সবাই তাকে ভুল বুঝল। কেউ বুঝার চেষ্টা করল না যে এর পেছনে তার কোন অসৎ উদ্দেশ্য নাই। তারা ধরে নিল এটা ঐ পেস্টদাতার নিজস্ব মতামত। তার মনে নিশ্চয়ই কু রয়েছে। ফলে সবাই ইয়া আলি বলে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। কেউ তাকে ছাগল, কেউ তাকে গাধা উপাদিতে ভূষিত করল। সন্মিলিত আক্রমণের কাছে ঐ ব্লগার কোণঠাসা হয়ে পড়ল এবং এক পর্যয়ে সেও সবাই কে তুই তুকারি করা শুরু করে দিল।
ইয়া মাবুদ- তুমি মানবকূলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা, আমাদের সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আমিন।
ফাদার মারিনো রিগন এর জন্ম ইটালির ভেনিসের অদূরে ভিচেন্সার ভিল্লাভেরলা গ্রামে। ১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারী কলকাতা হয়ে বেনাপোল সীমান্ত পথে এ দেশে আসেন। সেই থেকে আজ অবধি বাংলাদেমের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে তিনি ধর্ম প্রচার করে চলেছেন। এখন স্থায়ী ভাবে বাস করছেন সমুদ্রবন্দর মংলা পৌর এলাকার শেলাবুনিয়ায়। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন সাধুপলের গীর্জা। ১০০ টির মত বাংলা বই তিনি ইটালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। তিনি এ দেশে বসবাস করছেন প্রায় ৫৮ বছর ধরে। ২৬ বছর বয়সে তিনি ফাদার পদে অভিষিক্ত হওয়ার দুই বছর পর এ দেশে চলে আসেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন বানিয়ারচর গ্রামের ক্যাথলিক গির্জার প্রধান যাজক। দিনের বেলায় গির্জা, রাতের বেলায় তিনি গির্জাটাকে বানিয়ে ফেলতেন হাসপাতাল। ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফরিদপুর অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রমসহ অনেক মুক্তিযুদ্ধাকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে।হাজার হাজার শরণার্থী ও মুক্তি যোদ্ধাদের দিয়েছেন আশ্রয়, খাদ্য সবোর্পরি খ্রিস্টীয় মিশনের ছত্রছায়ায় নিরাপদে বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়ার সুযোগ।
ফাদার মারিনো রিগন ২০০৮ সাল পর্যন্ত বারবার আবেদন করেছেন তাঁকে এ দেশের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য অথচ তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। অবশেষে, ২০০৯ সালে তিনি এ দেশের নাগরিত্ব পান। এর জন্য উনাকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে। কিন্তু তারপরও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ দেশের সন্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রাপ্তিকে তিনি স্মরণ করেন পরম কৃতজ্ঞতার সাথে।
দীর্ঘ ৩৮ বছরে এটা নিয়ে কথা বলার মত কেউকি আমাদের দেশে ছিলেন না? আমাদের দেশে এত সব বুদ্ধিজীবিরা রয়েছেন। যারা স্বাধীনতা, বিজয় দিবসের মাস এলেই ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে টিভি পর্দায় উপস্থিত হন। মুক্তিযুদ্ধের আবেগে উনাদের গলা কাঁপতে শুরু করে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কাঁপতে থাকে টিভি পর্দা। এদের অনলবর্ষী বক্তব্যে কাঁপতে থাকি আমরাও। আফসোস এদের মুখ দিয়ে যে ভাবে আগুন নির্গত হতে থাকে দেখে মনে হয় আহারে লোকটা কেন ড্রাগন হয়ে জন্মাল না।
আমার খালি মনে হয় এটা কি করে সম্ভব হয়। বিদেশী একটি মানুষ কিভাবে একটি দেশকে সেই দেশের মানুষকে এভাবে ভালবাসতে পারেন। এই অসম্ভব হৃদয়বান মানুষটাকে আমরা কি দিয়েছি। এরকম অনেক ফাদার মারিনো রিগন রয়েছেন আমাদের দেশে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে এদের অসামান্য অবদানের কথা জানি না। মুক্তিযুদ্ধের কথা আসলে শিয়ারের কুমিরের বাচ্চা দেখানোর মত করে গুটিকতক মানুষের চেহারাই আমরা বার বার ঘুরে ফিরে দেখি।
ফাদার মারিনো রিগন এর মনে কি এই প্রজন্মের প্রতি কি কোন ক্ষোভের সঞ্চার হয় না। নিশ্চয়ই না। কারণ এই জন্যেই উনার মত মানুষেরা অসাধারণ আর আররা অতি সাধারণ। কি পেলাম আর কি হারালাম তা দেখার জন্য উনার মত মানুষেরা কখনও পেছনে ফিরে তাকান না। না হলে তিনি এভাবে বলতে পারতেন না-
গতবছর তিনি জটিল অপারেশনের জন্য ইতালী যাওয়ার আগে গির্জার লোকজনকে বলে গিয়েছিলেন, ইতালীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁকে যেন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়, এখানেই সমাহিত করা হয়।
যাওয়ার আগে তিনি বলে গিয়েছিলেন কবি জীবনানন্দের ভাষায়- আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়, এই ধানসিঁড়ি নদীর তীরে...।
মাঝে মাঝে মনে হয় একবার গিয়ে দেখে আসি আজ এত বছর পর কেমন আছেন ফাদার মারিনো রিগন নামের ৮৪ বছরের অশিতপর লোকটি। জানি আমার সীমাবদ্ধ জীবনের গন্ডিতে এই কাজটি হয়ত কখনও করা হয়ে উঠবে না।
তারপরও যদি কখনও সুযোগ আসে তাহলে আমি উনার কাছে জানতে চাইব- ফাদার, আপনি আপনার জীবনের শ্রেষ্ট সময়টুকু এই দেশ এই দেশের লোকদের দিয়ে দিয়েছেন। কখনও কি আপনার নিজের দেশ ইতালি, নিজের গ্রাম যেখানে আপনি আপনার শৈশবের শ্রেষ্ট সময়টুকু কাটিয়েছেন, সেই গ্রামের মানুষের জন্য মন কাঁদে না।
হয়ত ফাদার উত্তর দিবেন-মাই সান, আমার মনও তাদের জন্য কাঁদে বৈকি। কিছু চোখের পানি আছে যা দেখা যায়, কিছু আছে দেখা যায় না- এইটুকুই খালি যা পার্থক্য।
তথ্য ঋণ: ১. দৈনিক ইত্তেফাক (০৭.০৩.২০১০)
২. click the link
লোকটাকে প্রথম দেখে আমি চমকে উঠি। আরে ইনি যে অনেকটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত দেখতে। মুখে লম্বা দাড়িঁ। চোখে চশমা। হাঁটেন মাথা নীচু করে। স্বল্পভাষী লোকটা সব সময় কি যেন চিন্তা করেন। অনেকটা আপন খেয়ালে মগ্ন।
পরে জানতে পারলাম ইনি কবি নির্মলেন্দু গুণ। কবিতা আমি বুঝি না। কিন্তু কবি নির্মলেন্দু গুণ কি এক অজানা কারণে আমাকে আকৃষ্ট করতেন। হয়ত উনার সাধাসিধা চলন। হয়তবা উনার ব্যক্তিত্ব। আমি ঠিক জানি না।
‘আবদুল গাফফার চৌধুরী ও নির্মলেন্দুগুণের দৃষ্টিতে জয়নাল হাজারী’-তরফদার প্রকাশনী। বইটি একুশের বই মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। দাম ২০ টাকা। আমি বিস্মিত হইনি। এখন আর আমি কোন কিছুতে তেমন একটা বিস্মিত হই না।
বইটি আমি পড়িনি, পড়ার কোন আগ্রহও নেই। বইয়ে কি লেখা আছে আমার জানা নাই। কিন্তু আমি যেটা জানি সেটা হচ্ছে-প্রতিনিয়ত আমরা দানবীয় শক্তির কাছে কত সহজেই না পরাজিত হচ্ছি। কিন্তু তারপরও বুকের মাঝে কেমন এক চাপা কষ্টের অনুভূতি এসে ভিড় করে। মন বিদ্রোহ করে উঠে। কেন এমন হয়। এত সহজে কেন আমরা হার মানি।
শুধু দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ভাবি গুণ দা শেষ পর্যন্ত আপনিও.......
ছবি সূত্র: কালের কন্ঠ, ২২.০২.২০১০
গ্রামীণ ফোন এর দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট। মিডিয়া পার্টনার প্রথম আলো, চ্যানেল আই। পুরো দুনিয়াকে এরা কাঁপাতে পেরেছেন কিনা জানি না। তবে মিডিয়াকে ভাল ভাবেই কাঁপাতে পেরেছেন। এদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নমুনা-
মোবাইল কোম্পানীগুলি টয়লেটে কোন টিস্যু পেপার ব্যবহার করে প্রতিকাওয়ালারা এটাও ফলাও করে প্রকাশ করে। কিন্তু এই খবরটি বেমালুম হজম করে ফেলেছে।
বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলি থেকে শুরু করে দেশীয় আলকাতরা কোম্পানী কেউই পিছিয়ে নেই। পত্রিকা টিভিতে অনেক টাকা খরচ করে এদের একেক জনের ঢাউস সাইজের বিজ্ঞাপন-ভাষা আন্দোলনের সকল সৈনিক ও অমর শহীদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
শহীদ মিনারে ভোর বেলায় খালি পায়ে কার আগে কোন দল ফুল দেবে তা নিয়ে রীতিমতো মারামারি লেগে যায়। একজন বুদ্ধিজীবি টিভিটে সাক্ষাতকার দিচ্ছেন-আজকাল একুশের চেতনা সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে। আমার কাজের মেয়েটি বলছে-স্যার কাইল আমারে ছুটি দেন। শহীদ মিনারে ফুল দিতে যামু।
বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গরা (সবাই নন) সেখানে তাদের বক্তব্য পেশ করেন। টিভিতে শহীদ দিবসের নাটক, অনুষ্ঠান প্রচারের ধুম পড়ে যায়।
চা-পান-সিগারেটের দোকানগুলিতে সারাদিন বাজতে থাকে-আমার ভাই এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি।
এরকম এক আবেগপ্রবণ জাতি আমরা। একজন বাঙালী হিসেবে আমাদের আর এর বেশী কিই বা চাইবার থাকতে পারে।
সারা বছর আমরা ঘুমিয়ে থাকি শুধু বিশেষ বিশেষ দিনগুলিতে আমরা হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে উঠি। ঐ এক দিনেই দুনিয়া না হোক দেশকে অন্তত আমরা কাঁপিয়ে ফেলি।
১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের ছোট ভাই এর ছেলে আলাউদ্দিন বরকত বলেন- চাচা শহীদ হবার পর আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে একুশের অনুষ্ঠানে কিংবা বই মেলায় আমাদের কেউ কোন দিন ডাকেনি। ডাকা হয় না জেলা পর্যায়ের কোন অনুষ্ঠানেও। যাঁদের আত্নত্যাগ নিয়ে এত আয়োজন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের শহীদ দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। এ বছরও প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন বরকতের পরিবারের সদস্যরা। যোগাযোগও করেছিলেন বাংলা একাডেমীর কর্তৃপক্ষের সাথে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করে তাদের সেখানে যাবার অনুমতি দেয়া হয়নি। (তথ্য সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ)
আমরা বাঙালীরা সব কিছুতেই ব্যবসা খুজে ফিরি। একজন দেহপসারিণী তার দেহ বিক্রি করে। কিন্তু আমরা বিক্রি করি জন্মভূমি দেশকে, মায়ের ভাষা কে।
তারপরও দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি বুকের কোথায় যেন এক ধরণের বেদনার অনুভব হয়। যারা নিঃস্বার্থ ভাবে প্রাণ দিয়ে এ দেশকে দেশের ভাষাকে রক্ষা করেছেন তারাও এ দেশেরই সন্তান।