Tuesday, December 29, 2009

তদন্ত কমিটি

রোগীর আত্নীয় স্বজনরা খুবই হই চই শুরু করে দিল। বেচারার দুইটা মাত্র পা। তার মধ্যে ভুলে ডাক্তাররা ভাল পাটা কেটে বাদ দিয়ে ফেলেছে। এখন বাকী যে একটা পা রয়েছে সেটাও যদি কেটে ফেলতে হয় তবে রোগী হাঁটবে কেমন করে। 

সবাই মিলে হাসপাতালের জিনিসপত্র মনের আনন্দে (আসলে মনের দুঃখে হবে) ভাঙতে শুরু করে দিল। সাথে এসে যোগ দিল আরও লোকজন যারা রোগীর আত্নীয় নন এবং কখনও রোগীকে দেখেননি। কিন্তু এই ধরনের সুযোগতো আর প্রতিদিন আসে না। লক্ষ টাকা দামের যন্ত্রপাতি ভেঙে ফেল কেউ তোমাকে কিছু বলতে পারবে না। কারো হয়ত কোন পুরনো ক্ষোভ রয়েছে এদের প্রতি। এখন তার শোধ নাও।


অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবাইকে আশ্বস্ত করলেন। তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রোগীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
রোগী প্রতিক্ষার প্রহর গুণে। তদন্ত আর শেষ হয় না। এক দিন, দুই দিন, এক সপ্তাহ করে পার হয়ে যায় এক মাস। অবশেষে রোগী তার এক পা সম্বল করে ভয়ে ভয়ে হাসপাতারের প্রধান চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়।

-স্যার আমার কেইসটা একটু দেখবেন।
-তদন্ত কমিটিতো তাদের রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। আপনার যে পাটা কাটা হয়েছিল সেই পায়ে গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পড়ে ছিল। পা না কাটলে তা আপনার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ত। তখন আপনাকে বাঁচানোই মুসকিল হত। আমিতো সেই তরিৎকর্মা ডাক্তারের প্রশংসা করি।


-কিন্তু স্যার আমার পা কাটতে হলে তো আমার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর আমার পায়ে তেমন বড় কোন সমস্যা ছিল না যে পা একে বারেই কেটে ফেলতে হবে।
- সেটাতো আর আপনি বললে হবে না। আপনিতো আর ডাক্তার নন। তারপরও আমরা ঐ ডাক্তার প্রতি ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে তিন দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর আপনার জন্য ভাল খবর হচ্ছে আপনার অপারেশনের টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছে। এখন আপনি আপনার পা নিয়ে যেতে পারেন। ফরমালিনে চুবানো একটি বড় পাত্রে করে কাটা পা ডাক্তার রোগীর সামনে এনে হাজির করেন।


-স্যার আমি এই পা দিয়ে কি করব। এই পা আমার কি কাজে লাগবে।
-সেটাতো ভাই আমি জানি না। আপনার জিনিস আপনি নিয়ে যান। আর এক মাস ধরে আপনার এই পা যত্নের সহিত সংরক্ষণ করতে গিয়ে আমাদের যে খরচ হয়েছে তার বিল আপনি দিয়ে যান।


-রোগী চোখ কপালে তুলে ফেলে। আপনাকে কে বলেছে পা রেখে দিতে। এখন আমি টাকা দেব কোথা থেকে।
-তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ততো আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ঠিক আছে বিলের টাকা দিতে না পারলে অপারেশনের যে টাকা আপনি ফেরত পেতেন সেখান থেকে আমরা তা কেটে রাখছি। তা কেটে রাখার পরও হাসপাতাল আপনার কাছে টাকা পাওনা হয়। সেটা আমরা আপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ মাফ করে দিচ্ছি। আমাদরেকে আপনার এখন আর কোন টাকা দিতে হবে না। কি, এবার খুশি তো।


(আমাদের দেশে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটে। তদন্ত করার দায়িত্ব পড়ে ডাক্তারদের উপর। পুলিশের হাতে আসামির মৃত্যু হয় তদন্তের ভার থাকে পুলিশের হাতে।

সম্প্রতি পর পর কয়েকটি লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এখানেও তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা এই টুকুই জানি। তার পরের খবর আর পাই না। সেই তদন্ত কি কখনও আলোর মুখ দেখে আমরা জানতে পারি না। বেশীর ভাগ লঞ্চেরই ফিটনেস নেই। নেই যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যে লোকগুলি মারা গেল। যে পরিবারগুলি তাদের আপন জনদের হারাল তাদের খবর আর আমরা পরবর্তীতে নেই না।


লঞ্চ ডুবির ছাব্বিশ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ (সবেধন নীল মণি রুস্তম আর হামজা) ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌছ। মানুষ না শুধু লাশ উদ্ধার করার জন্য। বড় জাহাজ উত্তোলনের মত ক্ষমতা তাদের নেই। রাজনৈতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেন।

কয়েক দিন পত্রিকার পাতায় লেখা লেখি হবে তারপর সব হারিয়ে যাবে। বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগলে টিভিতে লাইভ টেলিকাস্ট দেখানো হয়। সব পত্রিকার সাংবাদিক কে কার আগে খবর সংগ্রহ করবেন তার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আর লঞ্চ ডুবিতে বড় জোর কি হয়। কয়েকশ দরিদ্র কিছু মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। ১৫ কোটি জনসংখ্যার দেশে এ আর এমন কি। )











শপথ

দেশে এখন শুধু শপথ এর ছড়াছড়ি। এত সব শপথ যদি আসলেই বাস্তবায়িত হত তবে বিরাট কাজের কাজ হত। এখন চলছে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ। সরকারী দলের লোকজনেরা এই কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। চারদিকে মিটিং, মিছিল, ব্যানার আর বক্তৃতার ছড়াছড়ি।


সবাই শপথ করছেন। অনেক বুদ্ধিজীবি, মডেল, মিডিয়ার লোকজনরা রয়েছেন এই কাতারে। তবে আমি আর বাদ থাকি কেন। না হলে মান সন্মান বুঝি আর থাকে না। তাই একটি শুভ দিন দেখে আমিও শপথ করলাম-আমি দেশকে একটি দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। নিজেই নিজের পিঠ চাপরাতে ইচ্ছে করছে। অনেক বড় একটি কাজের কাজ হয়েছে।


এখন সমস্যা হল শপথতো করলাম কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি দরিদ্র দেশকে আমি কিভাবে ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত দেশ করব সেটাইতো জানি না। এই দেশের কত জন লোক বেকার, কত জন লোক তিন বেলা খেতে পায় না-এই পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। এই দেশের লোকদের গড় আয় কত, আমাদের দেশের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি কত- সে হিসেব করতে গেলে আমার মাথা ঘুরায়। আরে বোকার দল এটাতো অর্থনীতিবিদদের কাজ, আমার এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কি। আমার দরকার ছিল শুধু মাত্র শপথ করা তা আমি দায়িত্বপূর্ণ ভাবে সম্পাদন করেছি। সবাই করেছে, আমিও করলাম- ব্যাস। ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়ে এখন বলতে পারব-আমি শপথ করেছি, আপনি করেছেন কি। মনে মনে বলব- আতলামি আর কাকে বলে রে।


চারদিকে রঙিন বেলুন আর রঙ বেরঙ এর ব্যানারে রাজপথ ছেয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কে কার থেকে আকর্ষনীয় ভাবে সংবাদ উপস্থাপন করবেন। বিষয়- দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ চলছে চারদিকে। যারা এই দলে যোগ দেবেন না, তারা আসলে দেশের ভাল চান না।


চারদিক আনন্দের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। এক দল দরিদ্র ক্ষুধার্ত শিশু রোদের মাঝে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছে-আসলে কি হচ্ছে। এরা অপেক্ষা করে আছে খাবারের জন্য, এক টুকরো রুটির জন্যে। অলোচনা শেষ হলে যদি তাদের কিছু খেতে দেয়া হয় সেই আশায়। সবার আনন্দ তাদেরকে স্পর্শ করছে না।


এই মুহুর্তে ক্ষুধাটাই হচ্ছে বাস্তব, আর সব কিছুই অবাস্তব-মেকী।



অমানুষ


বেশ কয়েক বছর আগে দেখা জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত ছবি টাইটানিক এখনও মনে দাগ কেটে আছে। বিশেষ করে শেষ মুহুর্তের সেই আবেগময় দৃশ্য- জাহাজ ডুবে গেছে। ছবির নায়ক জ্যাক বরফ শীতল পানিতে ডুবে আছে। তার প্রেমিকা রোজকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপন লড়াই করে যাচ্ছে। এক সময় জ্যাক মারা যায়, বাঁচিয়ে দিয়ে যায় তার প্রেমিকাকে। তারপর তার প্রেমিকা রোজ তার স্মৃতি নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়।


সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে জাহাজের এতগুলি লোক মারা গেল তাদের জন্য আমার যতটুকু দুঃখ বোধ হয় তার চেয়ে অনেক বেশী দুঃখ হয় জ্যাক বেচারার জন্য। জাহাজের অন্য লোকজন মারা যায় যাক কিন্তু পরিচালক ব্যাটাতো জ্যাককে অন্তত রোজের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে পারত। যদিও সিনেমা, তারপরও তখন নায়কের জন্য বুকে এক ধরনের হাহাকার অনুভব করি। ছবির আবেগময় শেষ দৃশ্যের সাথে সাথে আমাদের চোখও ভিজে আসে।


২০০৮ ডিসেম্বর কিছু হতদরিদ্র বঙ্গ সন্তান অভাবের তাড়নায় শেষ সহায় সম্বল বিক্রি করে দিয়ে ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। দিন দশেক পর থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমায় পৌছলে সে দেশের কোস্ট গার্ড তাদের আটক করে সাত দিন পাহাড়ের উপর খোলা আকাশের নীচে রেখে নির্যাতন চালায়। তারপর নৌকাগুলির ইঞ্জিন খুলে বড় একটি জাহাজের পেছনে দঁড়ি দিয়ে বেধে সমুদ্রে নিয়ে যায়। দুই দিন পর জাহাজ থেকে কিছু চাল, বিস্কুট , পানি দিয়ে তাদের নৌকাগুলি গভীর সমুদ্রে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ৮-১০ দিন ভাসতে ভাসতে নৌকাগুলি আন্দামানে পৌছালে ভারতীয় কোস্টগার্ড স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে। সম্প্রতি দীর্ঘ ৮ মাসের নরক যন্ত্রণার পর এরা সহায় সম্বলহীন অবস্থায় দেশে ফিরতে শুরু করেছে।


এদের থেকে বেঁচে ফিরে আসা একজনের মর্মস্পর্শী কাহিনী ছিল অনেকটা এ রকম-
ছোট্র একটি ট্রলারে আমরা ১১৯ জন ভাসছি। সাগর আর শেষ হয় না। তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সাগরের লোনাপানি খেয়েছি। লোনা পানি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চোখের সামনে ছটফট করে আমাদের সঙ্গের ১৯ জন মারা গেল। চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিল না। তাদের লাশ ফেলে দেয়া হয় সাগরে। এভাবে কেটে যায় ১০-১২ দিন। গভীর সাগরে ভাসতে ভাসতে নিকোবার নামের একটি দ্বীপে গিয়ে নৌকা ভিড়ে। সেখানে পাতা সিদ্ধ করে খেয়ে কোনমতে ক্ষুধা মিটিয়েছি। এদের ভাষ্য মতে এদের দলে ৫০০ এরও বেশী লোক ছিল্। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ মারা যায় সাগরে ডুবে। তাদের সাথে যাওয়া মোট ৩০৫ জনের মত মারা গেছে।


আমি কিছু দিন পূর্বে একটি প্রথম শ্রেণীর জাতয়ি দৈনিকের শেষ পাতায় খবরটি পড়ি। আমি সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরটি পড়ি, আমার কোন ভাবান্তর হয় না। এই সব খবর শেষের পাতায় আসবে এটাইতো স্বাভাবিক। কারণ এই সব হতভাগ্য লোকদের করুণ কাহিনী নিয়ে আমাদের পাবলিসিটির সুযোগ কম। পাবলিক এই সব জিনিস সহজে খেতে চায় না। তারচেয়ে মিডিয়াতে কোন রান্নার রেসিপি দেখানো যেতে পারে। যেমন, মরিচের ঝাল হালুয়া। তাছাড়া এর চেয়ে অনেক বড় বড় কাজ আমাদের রয়েছে। দেশকে বদলে ফেলার কাজ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ। আরও কত্ত কি।


প্রতি বছর এ ধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে আর পত্রিকার এক কোনায় এই খবর পড়ার কিছুক্ষণ পর আমরা এদের কথা ভুলে যাব। এটাই স্বাভাবিত। অথচ সিনেমায় জাহাজ ডুবি দেখে আমরা চোখের জল ফেলি। কারণ এরাতো আর সিনেমার কোন স্টার নয় যে এদের জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে। পশুদের অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। পশুদের উপর কোন নির্যাতন হলে এরা সোচ্চার হয়ে উঠে। এতগুলি মানুষ মারা গেল, এতগুলি লোকের উপর এই অমানবিক আচরণ করা হল, আমাদের কোন বিকার নাই। কারণ এরাতো আর পশূ নয়। পশুরও অধম, এরা হচ্ছে মানুষ নামের অমানুষ।

শিকার


ছেলেটির চোখে মুখে লাজুক চাহনি। চেহারায় এক ধরনের সরলতা রয়েছে। ছেলেটি যথাসম্ভব চেহারায় কাঠিন্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এতে করে তার ছেলেমানুষি ভাব আরও প্রকট হয়ে ফুটে উঠছে। আশরাফ সাহেব হেসে ফেলেন। ১৬-১৭ বছর বয়সের এই ছেলেটি হয়ত উনাকে কিছু বলতে চায়। নার্ভাসনেসের কারণে বলতে পারছে না।


খোকা তুমি কি আমায় কিছু বলবে?
ছেলেটি কোন উত্তর দেয় না। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তার একটি হাত ধীরে ধীরে ঢুকে যায় প্যান্টের পকেটে। একটু পর সে হাতটা বাইরে বের করে নিয়ে আসে।

আশরাফ সাহেব বিস্ফোরিত ভাবে ছেলেটির হাতের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ছেলেটির হাত একটু একটু কাঁপছে। তিনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ছেলেটির হাতে ধরা ছোট্র একটি আগ্নেয়াস্ত্র উনার দিকে তাক করা। একটু আগের লাজুক সেই ছেলেটিকে তিনি আর এখন চিনতে পারছেন না।
ছেলেটিকে এখন আর দেবদূত বলে মনে হচ্ছে না। যেন তার ভেতর থেকে একটি দানব বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। 

ছেলেটি পর পর দুবার গুলি করে। আশরাফ সাহেব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উনার বিস্ময় ভাব এখনও কাটেনি। মনে হচ্ছে যেন এ সব কিছুই স্বপ্ন দৃশ্য। বাস্তবে ঘটছে না। 

ছেলেটির কোন ভাবান্তর হয় না। যত কঠিন হবে বলে সে ভেবেছিল কাজটা তত কঠিন হয়নি। বস ঠিকই বলে ছিল মানুষ খুন কার আসলে খুব একটা কঠিন কাজ না। একটু সাহস থাকলেই হয়। সে কোন তাড়া অনুভব করে না। তার কাজ শেষ হয়েছে। পার্টিকে এখন জানিয়ে দিতে হবে কন্ট্রাক মত সব কাজ শেষ হয়েছে। 

ছেলেটি ধীর পায়ে সামনে এগুতে থাকে তার দ্বিতীয় শিকারের দিকে। পকেটে হাত দিয়ে দুই হাজার টাকার অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করে। তার প্রথম রোজগার। নিজের উপার্জনের প্রথম টাকায় গভীর মমতা মেশানো থাকে। সে কখনই সেই মমতা অনুভব করতে পারবে না। এই টাকা সে তার প্রিয়জনদের হাতে তুলে দিতে পারবে না। এই টাকায় রক্ত লেগে আছে। আর একজন ভাড়াটে খুনির কোন পরিবার কোন প্রিয় মানুষ থাকে না। মানুষ থেকে সে কখন দানবে রুপান্তরিত হয়ে পড়েছে তা নিজেও জানে না। 

(উপরের ঘটনাটি কাল্পনিক। রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নীচের বর্ণনাটি মোটেও কাল্পনিক নয়। ২০ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক থেকে নেয়া-
পিচ্চি আল আমিনের বয়স ১৭ বছর। নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। অভাবের তাড়নায় কয়েক বছর পূর্বে ঢাকায় চলে আসে। এর মধ্যে দুই বছর একটি গার্মেন্টএ কাজ করা কালে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পিচ্চি আল আমিনের সখ্যতা গড়ে উঠে। সন্ত্রাসীদের আড্ডায় গিয়ে অস্ত্র ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ নেয় সে। এরপর পিচ্চি আল আমিন ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকান্ড, ছিনতাই, ডাকাতিসহ শুরু করে দেয় নানা অপরাধ। 

১৫ বছর বয়স থেকে সে এই সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তার বয়সী আরও ১৫-২০ জন সহযোগী রয়েছে তার। সম্প্রতি সে রেবের হাতে ধরা পড়ে। সে জানায় তার রেট খুব বেশী নয়। মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দিলে সে মানুষ খুন করে। এর মধ্যে সে এক ডজন হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় কে বেঁচে আছে আর কে মরে গেছে এটা সে কখনো খতিয়ে দেখে না। হত্যাকান্ডে তার চরম শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারে এটা সে তোয়াক্কা করছে না। গ্রেফতার হলে সে সহজে ছাড়া পেয়ে বের হয়ে আসে। এরজন্য তার বড় ভাইয়ারা তার পেছনে রয়েছে। হত্যাকান্ড সে তাদের নির্দেশে করে থাকে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র তার বড় ভাইয়ারা সরবরাহ করে থাকে।

ছবির ছেলেটির মায়াময় মুখ দেখলে কে বিশ্বাস করবে সে একজন প্রফেশনাল কিলার। মানুষ খুন করা যার পেশা। এসব ছেলের এখন স্কুল কলেজে পড়ার বয়স। এরা বড় হবে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। সেই জায়গায় একেক জন একেকটি খুনি হিসেবে গড়ে উঠছে। এরা নিজেরাও জানে না এরা কি করছে, কি ভয়াবহ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তারা জানে না এদের কে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কোল্ড ড্রিংস খাবার পর মানুষ যেমন খালি ক্যান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেয় এদের কেও কাজ হয়ে গেলে এক সময় ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। কারণ এদের কাছে এরা মানুষ মারার একটি যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।)



Thursday, July 9, 2009

পদক


জানেন এই একেকটা পদক আমার কাছে নিজের সন্তানের মত। সামনে দাঁড়ানো ভাঙাচোরা লোকটি পরম মমতায় পদকগুলির গায়ে হাত বুলাতে থাকে।

ক্যাশ বাক্সে বসা বিশাল বপুর অধিকারী সিল্কের পাঞ্জাবী গায়ে দেয়া দোকাদারের কোন ভাবান্তর হয় না। দোকানী মনে মনে হিসেব কষতে থাকে মেডেলগুলি গলালে কতটুকু সোনা আর কতটুকু খাদ বের হবে।

আমি এ্যাথলেটিকসে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই সোনার মেডেলগুলি পেয়েছি।

লোকটার কথা শেষ হয় না। দোকানী মুখ বাঁকা করে জানতে চায়-দাম চান কত। এই সব রদ্দি মালে বেশীর ভাগই স্বার্নের পানি দেয়া থাকে।

লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে- দেশ স্বাধীনের স্বপ্ন নিয়ে এক সময় যুদ্ধ করেছি। দেশ কি আমরা আসলেই স্বাধীন করতে পেরেছি। অভাবের তাড়নায় আজ আমাকে নিরুপায় হয়ে আমার সারা জীবনের সঞয় এই পদকগুলি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ যে আমার কাছে কত কষ্ট আর লজ্জার ব্যাপার আপনি তা বুঝবেন না।

নূরানী চেহারার অধিকারী দোকানী পানের পিক ফেলতে ফেলতে বলতে থাকে-এই আপনাদের আর এক সমস্যা। খালি সেন্টিমেন্টস। যুদ্ধ করছেন দেশের জন্য এর মধ্যে আবার লাভের আশা করেন ক্যান। আপনার কপালে লেখা ছিল দরিদ্র হওয়া আপনি তা হইছেন। সব আল্লাহপাকের ইচ্ছা। দোকানী কয়েকটি নোট লোকটির দিকে ছুড়ে দেয়- নেন, ভাল দাম পাইছেন। আজান হইয়া গেছে নামাজে যামু। আপনেও যান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন আর আল্লারে ডাকেন। তিনিই বিপদের মালিক তিনিই উদ্ধারকর্তা।


(মোস্তাক আহমেদ, গ্রামের বাড়ী সিলেটের বিয়ানী বাজারে বাহাদুরপুরের বারইগ্রামে। ১৯৭০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্রগ্রামের ৪ নং সেক্টর থেকে যুদ্ধে অংশ নেন। সর্বশেষে অনারারী ক্যাপ্টেন হিসেবে ২০০২ সালে অবসরে যান। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ্যাথলেটিকসে তিনি বহুবার দেশের হয়ে বিদেশে খেলেছেন। মোট ৬৯ টি স্বর্ণপদক পেয়ে বাংলাদেশের সোনার ছেলে অবিধায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি একটানা কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ।

এই কয়েকবার বর্ষসেরা এ্যাথলেট ও মুক্তিযোদ্ধা অভাবের তাড়নায় ১৯৮৯-৯০ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি থেকে পাওয়া সোয়া ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটা হরিণ বিক্রি করে দিয়েছেন। কয়েকদিন পূর্বে আবার সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন ১৯৭৭ সালে সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে পাওয়া ১ম স্বাধীনতা পদকটি বিক্রি করার জন্য।)

*ষূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুলাই ২০০৯

Friday, May 1, 2009

আপনি কি বিখ্যাত হতে চান?

বিখ্যাতরা যা করেন তাই মজার কান্ড। আপনি আমি করলে তা হবে পাগলামী। নীচে এদের কিছু মজার কান্ডকীর্তি দেয়া হল। এখন আপনি চিন্তা করে বের করুন কোন কান্ডটি ঘটিয়ে আপনি ইতিহাসে এদের মত জায়গা করে নিতে পারবেন।

১. হামদার্দ এর প্রতিষ্ঠাতা হেকিম আজমল খানের চিকিৎসক হিসেবে খুব নাম ডাক ছিল। তিনি নাকি রোগীকে না দেখেই শুধু রোগীর প্রশ্রাব দেখেই রোগ নির্ণয় করতে পারতেন। এ কথা শুনে একবার এক ব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য নিজের প্রশ্রাব না পাঠিয়ে উটের প্রশ্রাব পাঠালেন রোগ নির্ণয়ের জন্য। আজমল খান প্রশ্রাব পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিলেন-এই প্রশ্রাবের মালিককে আরও বেশী করে খড় এবং ভুষি খেতে হবে।

২. নামী হস্তরেখাবিদ কিরোর পান্ডিত্য পরীক্ষা করে দেখার জন্য একবার এক লোক চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জির হাতের ছাপ নিয়ে কিরোকে হাতের ছাপের মালিক সম্পর্কে কিছু বলতে অনুরোধ করেন। কিরো হাতের ছাপটি দেখে বলেন-এটি নিশ্চয়ই আপনার কোন ঘনিষ্ট আত্নীয়ের হাতের ছাপ হবে। তাকে বলবেন খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসে আপনার সাথে থাকতে। তা হলে আপনাদের দুই জনের উন্নতি হবে।

৩. বিশ্ববিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের সুনাম তখন চারদিকে । কে কতটুকু চার্লি চ্যাপলিনের মত অভিনয় করতে পারে এই নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে চার্লি চ্যাপলিনও ঐ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ফলাফল ঘোষণার দিন দেখা গেল স্বয়ং চার্লি চ্যাপলিন প্রতিযোগিতায় অভিনয় করে তৃতীয় হয়েছেন।

৪. এক ব্যাংকের কর্মকর্তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেলে তিনি একটি পাথরের চোখ লাগান। এবং চোখটি এত নিখুত ছিল কেউ ধরতে পারত না কোনটা নকল চোখ। মার্ক টোয়েন একবার ঐ ব্যাংকে টাকা উঠাতে গেলে ঐ কর্মকর্তা মজা করার জন্য মার্ক টোয়েনকে বলেন আপনি যদি বলতে পারেন আমার কোন চোখটা নকল তবে আমি আপনাকে টাকা দেব।
মার্ক টোয়েন কিছুক্ষণ লোকটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন-আপনার বাম চোখটা নকল।
লোকটি বিস্মিত হয়ে জানতে চায়-কিভাবে বুঝলেন?
মার্ক টোয়েন উত্তর দেন- কারণ আপনার বাম চোখের মাঝেই এখনও দয়া ও করুণার কিছু আভা দেখা যাচ্ছ।

৫. নামি চিত্রকর হেনরি মোশের বিমূর্ত ছবি লা বের প্রদর্শন চলছিল নিউ ইয়র্কের একটি জাদুঘরে। প্রদর্শনীতেলোকে ভিড় করে দেখতে এল ছবিটি। সবাই খুব প্রশংসা করলেন। প্রদর্শনীর সাতচল্লিশ দিনের মাথায় শিল্পী নিজে আসলেন প্রদর্শনী দেখতে। জাদুঘরের কিউরেটর জানাল- আপনার ছবিটির সবাই খুব প্রশংসা করছে।
কিন্তু শিল্পী মোটেও খুশি হলেন না। মুখ গোমড়া করে জানতে চাইলেন-ছবিটা কি সেই প্রথম থেকেই এখাবে উল্টা হয়ে ঝুলছে।

৬. রুটস খ্যাত লেখক আরেক্স হ্যালি রুটস বইয়ের তথ্য সংগ্রহে জাহাজে জাহাজে ঘুরে বেড়ান। তেমনি এক জাহাজে ইউরোপিয়ান এক মহিরা উনার কাছে জানতে চান-আপনারা আফ্রিকানরা নাকি মানুষের মাংস খান?
এমন প্রশ্ন শুনে রেগে বললেন হ্যালি-হ্যা, খাই।
শুনে ভড়কে গিয়ে সামনে থেকে সরে পড়লেন মহিলা।
রাতে খাবার টেবিলে ঐ মহিলার পাশের চেয়ারেই বসলেন হ্যালি। সবাইকে খাবার পছন্দ করার জন্য খাদ্য তালিকা দেয়া হল। মহিলাকে আরও ঘাবড়ে দেয়ার জন্য হ্যালি বেয়ারাকে ডেকে গম্ভীর গলায় বললেন-আমাকে জাহাজের যাত্রীদের তালিকাটি দিন।

৭. সকাল বেলা কাজের লোক বিজ্ঞানী নিউটনের হাতে একটি ডিম দিয়ে বলল-স্যার, আমি একটু বাজারে যাচ্ছি। চুলায় পানি ফুটতে দিয়েছি। ফুটে গেলে তাতে ডিমটা ছেড়ে দিয়ে সিদ্ধ করে নেবেন। একটু পর কাজের লোক ফিরে এসে দেখল ডিমটি নিউটনের হাতেই রয়ে গেছে, আর চুলায় সিদ্ধ হচ্ছে নিউটনের হাত ঘড়িটি।

৮. নিউটন একটি মেয়েকে ভালবাসতেন। একদিন বিকেলে বাগানে বসে মেয়েটির সাথে আলাপে মশগুল ছিলেন। নিউটনের চুরুট খাবার ইচ্ছে হল। হঠাৎ মেয়েটির চিৎকারে নিউটন লাফিয়ে উঠেন। চুরুট ভেবে তিনি মেয়েটির আঙ্গুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।


সংগ্রহ: আসমার ওসমান সম্পাদিত বিখ্যাতদের সত্যি জোকস।





Tuesday, April 28, 2009

বিখ্যাতদের মজার উত্তর

বিখ্যাতরা প্রায়ই বিভিন্ন প্রশ্নের মজার উত্তর দিয়ে থাকেন। তাই শিরোনাম- বিখ্যাতদের মজার উত্তর। যেহেতু তারা বিখ্যাত।
তবে এ ধরনের বেফাস মন্তব্য আমি করলে শিরোনাম হত- ছাগু ব্লগারের আতলামি। যেহেতু আমি অখ্যাত।

১. সুপারম্যান খ্যাত অভিনেতা ক্রিস্টোফার রীভকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল -সুপারম্যান আর জেন্টেলম্যান এর মধ্যে পার্থক্য কি?
তিনি গম্ভীর মুখে উত্তর দিলেন- সহজ পার্থক্য। জেন্টেলম্যানরা আন্ডারঅয়্যার পরে প্যান্টের নিচে আর সুপারম্যান পরে ওপরে।

২. কিংবদন্তীমুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে প্লেনে উড়বার আগে সিট বেল্ট বাঁধার কথা মনে করিয়ে দিলেন বিমানবালা। আলী অহংকারী গলায় উত্তর দিলেন- সুপারম্যানের সিট বেল্ট বাধার প্রয়োজন হয়না।
কিন্তু সত্যিকার সুপারম্যানের প্লেনে চড়বারও দরকার হয় না-বিমানবালা চটপট উত্তর দেয়।

৩. স্বামী বিবেকানন্দের বাবা তার বৈঠকখানায় অনেকগুলি হুকো রাখতেন যেন এক জনের পান করা হুকো মুখে দিয়ে অন্যের জাত না যায়। একদিন বিবেকানন্দ সবগুলো হুকোয় একবার করে টান দিলেন।
এ তুমি কি করলে -ক্ষেপে গিয়ে উনার বাবা জানতে চাইলেন।
দেখলাম জাত যায় কিনা-বিবেকানন্দের উত্তর।

৪. একবার এক মহিলা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য কিছু পিঠা বানিয়ে নিয়ে যান। কেমন লাগল পিঠা জানতে চাইলে কবি গুরু উত্তর দেন- লৌহ কঠিন, প্রস্তর কঠিন, আর কঠিন ইষ্টক, তাহার অধিক কঠিন কন্যা তোমার হাতের পিষ্টক।

৫. কবি মাইকেল মধুসুদনের অর্থিক অনটনের সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। একদিন এক মাতাল উনার কাছে সাহায্য চাইতে এলে বিদ্যাসাগর বললেন-আমি কোন মাতালকে সাহায্য করি না।
কিন্তু আপনি যে মধুসুদনকে সাহায্য করেন তিনিওতো মদ খান-মাতালের উত্তর।
বিদ্যাসাগর উত্তর দেন -ঠিক আছে আমিও তোমাকে মধুসুদনের মত সাহায্য করতে রাজী আছি তবে তুমি তার আগে একটি মেঘনাথ বধ কাব্য লিখে আন দেখি।

৬. বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর মেধার তুলনায় চেহারা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। একবার এক সুন্দরী অভিনেত্রী প্রস্তাব দেন-চলুন আমরা বিয়ে করে ফেলি। তাহলে আমাদের সন্তানের চেহারা হবে আমার মত সুন্দর আর মেধা হবে আপনার মত প্রখর।
কিন্তু যদি ঠিক এর উল্টোটা ঘটে তবে কি হবে-আইনস্টাইন নির্বিকার ভাবে উত্তর দেন।

৭. স্যার উইন্সটন চার্চিলের তর্ক হচ্ছিল নারী নেত্রী ন্যান্সি অ্যাস্টয়ের সাথে। তর্ক একসময় রীতিমতো ঝগড়ার পর্যায়ে চলে যায়। গলা উচিয়ে ন্যান্সি বলেন-তোমার সাথে বিয়ে হলে কফিতে বিষ মিশিয়ে আমি তোমাকে খুন করতাম।
চার্চিল উত্তর দেন- তোমার মত বউ হলে বিষ খেয়ে মরতে আমার কোনও আপত্তি থাকত না।

৮. একবার এক ছাত্র মার্ক টোয়েনের কাছে এসে বলল-আমি ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের উপকার করতে চাই।
মার্ক টোয়েন উত্তর দিলেন-তুমি ডাক্তারী পড়া ছেড়ে দিয়ে এমনিতেই মানবজাতির অনেক উপকার করেছ। আর উপকার না করলেও চলবে।

৯. মার্ক টোয়েন একবার উনার এক সাংবাদিক বন্ধুকে বললেন বছর দশেক লেখালেখি করার পর বুঝতে পারলাম এ ব্যাপারে আমার কোনও প্রতিভা নেই।
তাহলে এটা বুঝবার পরও তুমি কেন লেখালেখি চালিযে যাচ্ছ-বন্ধু জানতে চায়।
মার্ক টোয়েন উত্তর দেন-কি করব, ততদিনে আমি রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গেছি যে।

১০. সমাধীস্থলের চারদিকেল দেয়ালের জন্য মার্ক টোয়েনের কাছে চাঁদা চাইতে গেলে তিনি উত্তর দেন-সমাধীস্থলের চারদিকে দেয়াল দেয়ার কোন প্রয়োজন দেখি না। কারণ যারা ওখানে থাকে তাদের বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নেই। আর যারা বাইরে থাকেন তাদের ওখানে যাবার কোন ইচ্ছে আছে বলে আমার মনে হয় না।

সংগ্রহ: আসমার ওসমান সম্পাদিত বিখ্যাতদের সত্যি জোকস।









Monday, April 27, 2009

রাজনীতির কৌতুক

১. আলোচনা হচ্ছিল মালয়েশিয়ার এক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের এক মন্ত্রীর মধ্যে।
মালয়েশিয়ার মন্ত্রী: আমরা আমাদের দেশের লোকদের বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করে থাকি। ধরা যাক শীতার্ত একজন লোক। তাকে আমরা আগুন জ্বালানো শিখিয়ে দেই। ফলে তার আর কখনই উষ্ণতার অভাব হয়না।
বাংলাদেশের মন্ত্রী: আমাদের নীতি আরও সহজ। একজন শীতার্তকে আগুন জ্বালানো শিখানো সমসাপেক্ষ কাজ। আমরা বলি একজন শীতার্তকেই আগুনে পুড়িয়ে দাও, তাহলে বাকী জীবন আর তার
উষ্ণতার দরকারই হবে না।

২. মারা গেছেন বুশ। ততদিনে আমেরিকা সারা বিশ্বে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত বিধ্বস্থ। তাই বুশের মৃত্যুতে আমেরিকানরা উল্লসিত। বুশকে কবর দেয়ার দায়িত্ব নিতে চাইল তার আজীবনের বন্ধু ইহুদীরা। ইহুদীদের প্রধান এ ব্যাপারে আমেরিকানদের কাছে আবেদন জানাল। কিন্তু আমেরিকানরা এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল-যা ব্যাটা, তোদের বিম্বাস নেই। তোরা যীশু খৃষ্টকে কবর দিয়েছিলি, তিনি তিনদিন পর বেঁচে উঠেছিলেন। বুশকে পুনর্জন্ম নেবার কোন রিক্স আমরা নিতে পারি না।

৩. জর্জ ওয়াশিংটন এক দিনের জন্য পৃথিবীতে আসার ইচ্ছা পোষণ করলে ঈশ্বর তার ইচ্ছা পূরণ করেন। কফিন থেকে পুর্নজন্ম নিয়ে বেরিয়ে এসে সামনে কবরস্থানের কেয়ারটেকারকে দেখতে পান। জর্জ ওয়াশিংটনের খুব ক্ষিদে পেয়েছে। কেয়ারটেকারকে বললেন-তুমি কি আমার জন্য একটু শিক কাবাবের ব্যবস্থা করতে পারবে। সামনে জলজ্যান্ত ওয়াশিংটনকে দেখে কেয়ারটেকারের ভিমরি খাবার অবস্থা। এক্ষুণি ব্যবস্থা করছি স্যার-কেয়ারটেকার পড়িমড়ি করে ছুট লাগাল। প্রথমেই সে গিয়ে ফোন দিল জর্জ বুশের কাছে। জর্জ বুশ কেয়ারটেকারকে নিয়ে ছুটে চলে আসেন কবরস্থানে। বুশকে দেখে ওয়াশিংটন বিরক্ত গলায় কেয়ারটেকারকে বলেন- তোকে আনতে বললাম শিক কাবাব, আর তুই কিনা আস্ত গরুটাই এখানে নিয়ে এলি।

৪. দেশের সেরা দশজন রাজনীতিবিদ নিয়ে দূর গ্রামে বিধ্বস্থ হয়েছে একটি হেলিকপ্টার। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল রওয়ানা হল। গ্রামে পৌছে দেখল দশটি সারিবদ্ধ কবর। গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই তাদের কবর দিয়ে ফেলেছ। উদ্ধারকারী দলের নেতা পাশে দাড়ানো গ্রামবাসীর কাছে জানতে চাইলে- সবাই কি এক সাথেই মারা গিয়েছিল।
লোকটি দাঁত কেলিয়ে বলল-দুয়েক জন অবশ্য কবর দেয়ার আগ পর্যন্ত বলছিল যে, তারা মরেনি, বেঁচে আছে। আমরা তাদের কথা মোটেও বিশ্বাস করিনি। কারণ আপনারাতো জানেনই যে, রাজনীতিবিদ নেতারা কত মিথ্যা কথা বলে থাকেন। আমরা সবাইকেই কবর দিয়েছি।

৫. বাংলাদেশের টি.এন্ড.টি মন্ত্রী গেছেন ব্রিটেনে। ব্রিটেনের টি.এন্ড.টি মন্ত্রী উনাকে জংলা মত একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে বললেন-মাটি খুড়ুন।
বাংলাদেশের মন্ত্রী মাটি খুড়তে শুরু করলেন। দশ ফুট মাটি খুড়ে পাওয়া গেল জীর্ণ টেলিগ্রাফের তার। ব্রিটেনের মন্ত্রী সগর্বে বললেন-দেখলেনতো দুইশ বছর আগেও আমাদের দেশে টেলিগ্রাফের প্রচলন ছিল।
এর কিছুদিন পর ব্রিটেনের টি.এন্ড.টি মন্ত্রী এসেছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মন্ত্রীও উনাকে জংগলে গিয়ে মাটি খুড়তে অনুরোধ করলেন। মন্ত্রী খুড়তে আরম্ভ করলেন। দশ-বিশ-ত্রিশ ফিট পর্যন্ত খোড়া হল। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। ব্রিটেনের মন্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন-কই, কোন তারইতো পাচ্ছি না।
এবার গর্বের সাথে উত্তর দিলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী-তাহলেই বুঝুন, দুইশ বছর আগেই আমাদের দেশে মোবাইল ফোনের প্রচলন ছিল।

৬. আমাদের দেশের এক রাজাকার মন্ত্রী যাচ্ছেন গ্রামের রাস্ত দিয়ে। হঠাৎ করে একটি শূকর ছানা উনার গাড়ীর নিচে চাপা পড়ল। মন্ত্রী ড্রাইভারকে বললেন -আহা, কার জানি শূকর ছানা। তুমি গ্রামের ভিতরে গিয়ে এর মালিককে উপযুক্ত দাম দিয়ে এস।
ঘন্টা খানেক পর মন্ত্রীর ড্রাইভার হাসতে হাসতে হাতে একটি ঝুড়িতে করে অনেক ফলমূল-শাকসব্জি নিয়ে আসছে-গ্রামবাসীরা ভালবেসে আমাকে এ সব উপহার দিয়েছে।
মন্ত্রী খুব অবাক হলেন। জানতে চাইলেন-তুমি তাদের গিয়ে আসলে কি বলেছ?
ড্রাইভার উত্তর দিল-আমি গিয়ে বললাম, আমি অমুক মন্ত্রীর ড্রাইভার। তারপর একটু থেমে বললাম, শুওরের বাচ্চাটাকে রাস্তায় আমিই মেরে ফেলেছি। তারপর সবাই খুশি হয়ে আমাকে এই সব দিল।

৭. বিরোধী দলীয় নেতা সমুদ্র সৈকতে একটি প্রাচীন বোতল কুড়িয়ে পেলেন। বোতলের ছিপি খুলতেই ভেতর থেকে এক দৈত্য। নেতাকে কুর্নিশ করে দৈত বলল-আপনি আমাকে জাদুর বোতল থেকে মুক্ত করেছেন, তাই আমি আপনার তিনটি ইচ্ছা পূরণ করব। তবে শর্ত হচ্ছে আপনি যা পাবেন আপনার প্রতিপক্ষ নেতা পাবে এর দুই গুণ।
ঠিক আছে-নেতা রাজী হলেন। আমার প্রথম ইচ্ছা একটি বিলাস বহুল বাড়ী, ২য় ইচ্ছা একটি বিলাস বহুল গাড়ী, আর শেষ ইচ্ছা আমি আমার একটি কিডনি জনস্বার্থে দান করে দিতে চাই।

৮. নির্বাচন সামনে রেখে এক ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকানের মধ্যে কথা হচ্ছিল।
ডেমোক্রেট-আমি যখন কোন টেক্সিতে চড়ি তখন সেই টেক্সি ড্রাইভারের সাথে খুব ভাল ব্যবহার করি। প্রথমে তার ছেলে মেয়ের কোজ খবর নেই, তাকে মোটা বকশিস দেই। এবং নামার সময় বলি ডেমোক্রেটদের ভোট দিও।
রিপাবলিকান-আমি টেক্সিতে উঠেই ড্রাইভারকে গালাগালি দিতে শুরু করে দেই। সিগারেট ধরিয়ে তার মুখে ধোয়া ছেড়ে দেই, এক টাকাও টিপস দেই না। তবে নামার সময় তোমার মতই বলি ডেমোক্রেটদের ভোট দিও।



সংগ্রহ: আরিফ জেবতিক সম্পাদিত পলিটিক্যাল জোকস।


Saturday, April 25, 2009

পৃথিবী বিখ্যাত সব ব্যর্থ কাহিনী

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে বিভিন্ন ব্যর্থতার কাহিনী। এখানে পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্যর্থতার কাহিনী দেয়া হল। যা পড়ে আমাদের নিজেদের ব্যর্থ জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসতে পারে। অতএব Don’t worry be happy.

১. ব্যর্থতম লেখক: জার্মানীর এক লেখক তার জীবনে ৬৪ টা বই লেখেন যার মধ্যে মাত্র ৩টি বই এর প্রকাশক ধরতে তিনি সমর্থ হন। এর মধ্যে একটি বই প্রকাশক তার নিজের নামে ছাপিয়ে ফেলে। দ্বিতীয়টি ভুলক্রমে লেখকের নাম ছাড়াই প্রকাশিত হয়ে পড়ে। আর তৃতীয়টির ক্ষেত্রে এ রকম কোন সমস্যা হয়নি। পুরো বইযের বান্ডিল মার্কেটে যাবার পথে মিসিং হয় আর সে বই এর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে অবশ্য এক ঠোঙ্গা বিক্রেতার কাছে হারানো বই এর হদিস পাওয়া যায়। তবে বই হিসেবে নয় ঠোঙ্গা হিসেবে।

২. ব্যর্থতম ব্যাংক ডাকাত: ১৯৭১ সালে তিনজন ব্যাংক ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের স্থানীয় একটি ব্যাংক এ ঢুকে পড়ে। এটা ছিল তাদের প্রথম ব্যাংক ডাকাতি। তাই উত্তেজনাবশত তারা ভুল করে ব্যাংক এ না ঢুকে পাশের ডির্পামেন্টাল স্টোরে ঢুকে পড়ে। হাতের অস্ত্র উচিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে আমরা ব্যাংক লুট করতে এসেছি। দোকানের কর্মচারীরা এটাকে উচুদরের রসিকতা ভেবে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। তাদের হাসি শুনে ডাকাতরা ঘাবড়ে গিয়ে কিছু না বুঝেই এক গাদা কয়েন চকলেট নিয়ে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।

৩. ব্যর্থতম কম্পিউটার প্রোগ্রামার: জার্মানীর জন মারথুস পেশায় একজন সৌখিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। তার কাজ হচ্ছে এন্টি ভাইরাস প্রোগ্রাম তৈরী করা। একবার বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে তিনি একটি এন্টি ভাইরাস তৈরী করে পরীক্ষামূলক ভাবে বন্ধুর পিসিতে এটাকে টেস্ট রান করান। পিসিটি চালাতে গিয়ে দেখা গেল তার এন্টি ভাইরাসটি আসল ভাইরাস হয়ে বন্ধুর পিসির হার্ডডিস্ক ক্রাশ করে ফেলেছে।

৪. ব্যর্থতম বই: পশ্চিমা লেখক রুডলফ স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি নামে একটি গবেষণামূলক বই লেখেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বইটি বেস্ট সেলার বই এর তালিকায় চলে যায়। এর মধ্যে আকস্মাৎ লেখকের মৃত্যূ হলে ময়না তদন্ত করে ডাক্তার সার্টিফিকেট দেন। তাতে মৃত্যুর কারণ দেখানো হয় পুষ্টিহীনতা। এ খবর প্রচার হলে পরের সপ্তাহেই বই এর বিক্র বেস্ট সেলার থেকে ওর্স্ট সেলারে নেমে আসে।

৫. ব্যর্থতম আর্কিওলজিস্ট: মরক্কোর আবিওয়ালা আল রাজি একজন সৌখিন আর্কিওলজিস্ট। পেশায় তিনি একজন ইন্জিনিয়ার হলেও তার নেশা হচ্ছে প্রাচীণ কালের হাড়-গোড় খুজে বের করা। দীর্ঘ বার বছর পরিশ্রম করে তিনি নিজের এলাকাতেই নিয়ানডারথল যুগের মানুষের চোয়াল খুজে পান। যা নিয়ে আর্কিওলজিস্টদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। পরে কার্বন টেস্টে ধরা পড়ে যে ঐ চোয়ালটি কোন নিয়ানডারথল যুগের মানুষের নয় তারই মৃত দাদার চোয়াল।

৬. ব্যর্থতম শিক্ষক: আফ্রিকার এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক প্রাইমারী স্কুল। স্কুলের অবস্থা খুবই করুণ। ঐ স্কুলে কোন ঘন্টা ছিল না। ফলে তারা ক্লাশ শেষ হলে বা ছুটির আগে স্কুলের বাইরে অপেক্ষমান এক আইসক্রিমওয়ালার কাছ থেকে ঘন্টা ধার করে এনে বাজাত। কিন্তু এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে আইসক্রিমওয়ালা ঐ স্কুলে ঘন্টার বিনিময়ে শিক্ষকের চাকুরী দাবী করে বসে। স্কুলে শিক্ষকের কিছু স্বল্পতাও ছিল আবার ঘন্টারও দরকার তাই তার চাকরী হয়ে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর ঐ ঘন্টা স্কুল থেকে চুরি হয়ে গেলে ঐ আইসক্রিমওয়ালা শিক্ষকের চাকরী চলে যায়।

৭. ব্যর্ততম ধূমপায়ী: কলম্বিয়ার মাইকেল জর্জ কখনই ধূমপান করতেন না। কিন্তু বিয়ের পর তার স্ত্রী তাকে ধূমপান করতে উৎসাহিত করেন। কেননা তার স্ত্রীর ধারণা পুরুষ মানুষ সিগারেট না খেলে ম্যনলি লাগে না। স্ত্রীর অনুরোধে জর্জ একদিন বিমর্ষ মুখে এক প্যাকেট সিগারেট কিনে এনে একটি ধরালেন। সিগারেটে টান দেয়া মাত্র তিনি কাশতে কাশতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে আসলে তিনি একটি চিঠি পান। তার স্ত্রীর ডিভোর্স লেটার।

৮. ব্যর্থতম উদ্ধার অভিযান: ১৯৭৮ সালের ১৪ জানুয়ারী সম্ভবত পৃথিবীর সব চাইতে সফল পশু উদ্ধার ঘটনাটি ঘটে বৃটেনে। এক বৃদ্ধার পোষা বিড়াল ছানাটি কি ভাবে যেন এক বিশাল বৃক্ষের মগডালে উঠে আটকে যায়। তখন দমকল বাহিনীর ধর্মঘট চলছিল বলে বৃটিশ সৈন্যরা বিপুল উদ্যমে ঐ বিড়ালটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে। এবং অসাধারণ দক্ষতায় বিড়ালটিতে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। সমস্ত ব্যাপরটিতে বৃদ্দা এতই খুশি হন যে তিনি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সৈন্যদের না খাইয়ে ছাড়েন না। সৈন্যরা বিদায় পর্ব শেষ করে গাড়ীতে উঠে যাওয়ার সময় উদ্ধারকৃত বিড়ালটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। কারণ কোন ফাকে বিড়ালটি বৃদ্ধার কোল থেকে নেমে গাড়ীর চাকার নিচে অবস্থান করছিল তা কেউই লক্ষ্য করেনি।

৯. ব্যর্থতম সার্কাস: ফ্রান্সে মিস রিটা থান্ডারবার্ড নামে এক মহিলা কামানের গোলা হিসেবে খেলা দেখাতেন সার্কাসে। খেলার নিয়ম অনুযায়ী তিনি কামানের ভেতর গিয়ে ঢুকতেন, কামান দাগা হলে তিনি ছিটকে গিয়ে দূরবর্তী জালে গিয়ে পড়তেন। একদিন শহরের মেয়র আসলেন খেলা দেখতে। যথারীতি কামান দাগা হল। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে মিস রিটার পরিবর্তে তার অর্ন্তবাসটি ছিটকে গিয়ে মেয়রের মাথায় পড়ে। কামানের ভেতর মিস রিটার কাছে দ্বিতীয় অর্ন্তবাসটি পৌছানো পর্যন্ত সার্কাস বন্ধ রাখতে হয়।

১০. ব্যর্থতম রাজনৈতিক হত্যা প্রচেষ্টা: ফিদেল কাস্ট্রো ভাগ্যবানদের একজন। ১৯৭৪ সালের ভেতরেই উনাকে অন্তত ২৪ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। এবং প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়। একবার কোল্ড ক্রিমের ডিব্বায় বিষ ভরা ক্যাপসুল রাখলে তা গলে যায়। আরেকবার কালো চুলের এক মায়াবিনী ঘাতক উল্টো্ উনার প্রেমে পড়ে যায়। আরেকবার ফ্রিজে রাখা চকলেট মিল্ক শেকে বিষ মিশিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তা জমে বরফ হয়ে গিয়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়ে। উনাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পয়জন পেলেটস ছোড়া হয় যা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। আরেকবার এক আস্ত বাজুকা নিয়ে মারতে আসা দুই ঘাতক ধরা পড়ে যায়। বিস্ফোরিত একগাদা সী শেল মাত্র চল্লিশ মিনিটের জন্য ক্যাস্ট্রোকে মিস করলেও মূল হাভানা শহরের সমস্ত ট্রাফিক লাইট ফিউজ করে দিতে সক্ষম হয়।

১১. ব্যর্থতমবিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী: বাংলাদেশের বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বিদ্যুত সমস্যাকে টর্নেডো, সুনামির মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে তুলনা করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেমন মানুষের সাধ্যের বাইরে তেমনি বর্তমানে দেশের বিদ্যুত পরিস্থিতিও সমাধান করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। খুবই চমৎকার যুক্তি। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিদ্যুত খাতের সমস্যা সমাধান করার জন্য। তিনি যেন শীঘ্রই একজন দেবদূত পাঠিয়ে আমাদের দেশের বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করে দেন।

* মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি পৃথিবীর বর্থ্যতম একজন মানুষ হিসেবে এই জীবনে কিছুইতো করা হল না । মাঝে মাঝে মা-বাবাকে বলতে ইচ্ছে করে তোমরা ভুল মানুষকে নিয়ে কেন স্বপ্ন দেখলে? ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে আয়ু। হায়! জীবন এত ছোট কেন?

সংগৃহীত: আহসান হাবীব সম্পাদিত পৃথিবী বিখ্যাত সব ফেলটুস। (১১ নম্বরটি বাদে)

Thursday, April 23, 2009

সেলিব্রেটিদের শৈশব স্মৃতি

১. বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমাযূন আহমেদ তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন-
আমি অতি সুবোধ বালকের মত ক্লাসে গিয়ে বসলাম। মেঝেতে পাটি পাতা। সেই পাটির উপর বসে পড়াশোনা। ছেলেমেয়ে সবাই পড়ে। মেয়েরা বসে প্রথমদিকে, তাদের পেছনে ছেলেরা। আমি খানিক্ষণ বিচার-বিবেচনা করে সবচেয়ে রূপবতী বালিকার পাশে ঠেলেঠুলে জায়গা করে বসে পড়লাম। রূপবতী বালিকা অত্যন্ত হৃদয়হীন ভঙ্গিতে তুই তুই করে সিলেটি ভাষায় বলল, এই তোর প্যান্টের ভেতরের সবকিছু দেখা যায়।

ক্লাসের সবকটা ছেলেমেয়ে এক সঙ্গে হেসে উঠল। মেয়েদের আক্রমণ অনুচিত বিবেচনা করে সবচেয়ে উচ্চস্বরে যে ছেলেটি হেসেছে, তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। হাতের কুনুইয়ের প্রবল আঘাতে রক্তারক্তি ঘটে গেল। দেখা গেল ছেলেটির সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গ গেছে। হেডমাস্টার সাহেব আমাকে কান ধরে সারাক্ষণ দাড়িয়েঁ থাকার নির্দেশ দিলেন। ছাত্রছাত্রীদের উপদেশ দিলেন-এ মহাগুন্ডা। তোমরা সাবধানে থাকবে। খুব সাবধান। পুলিশের ছেলে গুন্ডা হওয়াই স্বাভাবিক।
ক্লাস ওয়ান বারটার মধ্যে ছুটি হয়ে যায়। এই দুই ঘন্টা আমি কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম।

ক্লাস টুতে উঠে আমি আরেকটি অপকর্ম করি। যে রুপবতী বালিকা আমার হৃদয় হরণ করেছিল, তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেলি। গম্ভীর গলায় জানতে চাই বড় হয়ে সে আমাকে বিয়ে করতে রাজী আছে কিনা। প্রকৃতির কোন এক অদ্ভূত নিয়মে রুপবতীরা শুধু যে হৃদয়হীন হয় তাই না, খানিকটা হিংস্র স্বভাবের হয়। সে আমার প্রস্তাবে খুশি হবার বদলে বাঘিনীর মতো আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। খামচি দিয়ে হাতের দু-তিন জায়গার চামড়া তুলে ফেলে। স্যারের কাছে নালিশ করে। শাস্তি হিসেবে দুই হাতে দুটি ইট নিয়ে আমাকে নীল ডাউন হয়ে বসে থাকতে হয়।

প্রেমিক পুরুষদের প্রেমের কারণে কঠিন শাস্তি ভোগকার নতুন কোন ব্যাপার নয়, তবে আমার মত এত কম বয়সে প্রেমের এমন শাস্তির নজির বোধহয় খুব বেশি নেই।

২. বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর স্কুল জীবনের এক শিক্ষক সম্পর্কে স্মুতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন-
স্যারের কানমলা চিরকালই ছিল অত্যন্ত শিল্পসম্মত ও উচ্চস্তরের। কোন ছাত্র কোন ভুল উত্তর দিয়েছে কি অমনি ডান হাতের তর্জনি দিয়ে ফিল্মী রংবাজদের কায়দায় দুবার তাকে নিজের দিকে আহবান করতেন। তারপরেই ডান হাতে খপ করে তার কান চেপে ধরতেন। হ্যাঁ, কাচের গুড়োঁয় মাঞ্জা দেওয়া সেই বিখ্যাত হাতের চেপে ধরা। কানের গোড়াসুদ্ধ মাথাটাকে হ্যাঁচকা টানে তাঁর দিকে টেনে নিতেন। আর তারপরই দ্বিতীয় পর্যায়। এক ধাক্কায় কান-মাথাসুদ্ধ ছাত্রটাকে সোজা পাঠিয়ে দিতেন বেঞ্চের সিটে। সেদিনও ঘটল একই ব্যাপার। উত্তর ভুল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্যারের ব্যতিক্রমহীন আহবান শোনা গেল। আমার কানের ওপর হাত পড়তেই খুশিতে বড় বড় হয়ে উঠল স্যারের দুই চোখ, যেন অভাবিত কোন খাবার দেখেছেন সামনে। গভীর পরিতৃপ্তির সঙ্গে গড়গড় শব্দও হচ্ছে মনে হয় গলা থেকে-বাহ্ তোর কান দুটো বেশ বড় রে।
আলতো ভাবে কানদুটো নেড়েচেড়েও দেখলেন কিছুক্ষণ-বাহ্, বেশ নরমও তোর কান দুটো।
আর তারপরে সেই অতিপরিচিত দৃশ্যকাব্য। কান মাথাসুদ্ধ নিজের সিটে আমার প্রত্যাবর্তন। গোড়াসুদ্ধ সারাটা কান তখন যন্ত্রণায় চিঁ চিঁ করছে।
সেদিন থেকে স্যার আমার কানের একনিষ্ট ভক্ত হয়ে গেলেন। জোড় বেতের বিদ্যুত ঝলক আমার জন্য প্রায় নিষিদ্ধই করে দিলেন। পরিবর্তে আমার বড় বড় আর নরম কান দুটোকে মধ্যাহ্নফলার হিসেবে ব্যবহার শুরু করলেন।

৩. প্রখ্যাত কবি-লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ছেলেবেলার স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে বলেছেন-
এ বছরই প্রথম দেখি গ্রামোফোন যন্ত্রটি। বাংলায় যার নাম কলের গান। অমন গ্রামদেশে ওই বস্তুটি খুবই অভিনব। আমাদের মত বাচ্চাদের অবস্থা হিজ মাস্টার্স ভয়েস-এর কুকুরটিরই মতন, আমরা হাঁটু গেড়ে অবাক বিস্ময়ে শুনতে শুনতে ভাবতাম, ওই বাক্সটির মধ্যে গুটিশুটি মেরে একজন লোক গানগুলো গাইছে। এটা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে যথেষ্ট সংশয়ও ছিল। একই লোক বিভিন্ন গান, বিভিন্ন রকম গলায়, এমনকি মেয়েদের মতন গলাতেও গায় কী করে? কমিক গুলিতে চার-পাঁচজন লোকের গলা এক সঙ্গে শোনাযায়। এই বাক্সের মধ্যে একজনের বেশি মানুষ থাকা তো কোন ক্রমেই সম্ভব নয়!


সংগৃহীত: আসমার ওসমান সম্পাদিত বিখ্যাতদের সত্যি জোকস্