Saturday, February 20, 2010

এপিটাফ

কত দিন এখানে আসা হয় না। চারদিকে কেমন ঘাসের জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। চারদিকে কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের আলো উকি ঝুকি মারছে। ঘাসের ডগায় ফোটা ফোটা শিশির জমে রয়েছে। রোদ পড়ে কেমন ঝলমল করছে। কাব্য হাত দিয়ে ছোযার চেস্টা করে। শিশির ফোটা কেমন হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে। তার বাবার এপিটাফের লেখাগুলি কালের বিবর্তনে অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে । কাব্যের লজ্জা লাগে। হাত বাড়িয়ে এপিটাফের উপর জমে থাকা ধুলা পরিস্কার করতে চেষ্টা করে।


ছেলে বেলায় বাবার সাথে কাটানো অসংখ্য স্মুতি মনের পর্দায় এক সাথে এসে ভিড় করে। কাব্যের গাল বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে। কাব্য মুছার কোন চেষ্টা করে না। কারো সমাধির সামনে দাড়িয়ে নাকি চোখের পানি ফেলতে নেই। কেন এই কথা বলা হয়েছে কাব্যের জানা নাই। সে কেমন করে হারিয়ে যাওয়া অসম্ভব ভাল লাগার স্মুতিগুলি তার মন থেকে মুছে ফেলবে।


নিজেকে তার কেমন স্বার্থপর মনে হয়। আজ কত দিন পর সে এখানে এসেছে। খুব ছোট বেলায় সে যখন হাটতে পারত না তখন বাবার হাত ধরে দাড়াতে চেষ্টা করত। বাবা তার হাত কখনও ছাড়েননি। আজ যখন তাকে তার বাবার সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সে কত অবলিলায় তার বাবার হাত ছেড়ে দিয়েছে।


মৃত্যুর সাথে সাথেই কি একটা মানুষের সব কিছু শেষ হয়ে যায়। সমস্ত স্মৃতি, ভাল লাগা, মন্দ লাগার সমস্ত অনুভূতি। তার সামনে বাবার নামের সেই মানুষটা নাই। বিপদে পড়লে আজ আর সেই মানুষটা তাতে আগলে দাড়াবে না। বলবে না- খোকা ভয় নেই আমি আছি। কিন্তু আর সব কিছুতো ঠিকই রয়ে গেছে। এই যে সে তার বাবার সামনে দাড়িয়ে রয়েছে তার বাবাতো তাকে দেখতে পাচ্ছেন। এখনই বুঝি ধরা গলায় বলে উঠবেন-কিরে খোকা, কত কাল পরে এলি। এত দিন পরে বুঝি বাবার কথা মনে পড়ল।


কাব্য ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে তার বাবার সমাধিটা ছোয়ার চেষ্টা করে। ধরা গরায় বলে উঠে-বাবা আমি তোমার অপরাধী। ভুল মানুষকে নিয়ে তুমি স্বপ্ন দেখেছ। কই কোন স্বপ্নইতো আমি তোমার পূরণ করতে পারলাম না। কেন তবে ছেলে বেলায় শুনিয়েছ ঘুম পাড়ানির গান। কেন স্বপ্ন দেখেতে শিখিয়েছ। তা না হলেই বুঝি ভাল ছিল। আজ বুকের মাঝে এক কষ্ট অনুভব হত না।


কাব্য যখন ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে তখন বাবার ছেলে মানুষী কান্ডে খুব লজ্জা পেত। রাস্তা পার হবার সময় বাবা হাত ধরে রাখতেন, ছেলে দিলেই বুঝি কাব্য হারিয়ে যাবে। বাবা বুঝতেন না সে এখন বড় হয়ে গেছে। হাত ধরে রাখার এখন আর দরকার নেই। রাস্তার লোকজনরাই বা কি বলবে। দেখ দেখি কত বড় ছেলে বাবার হাত ধরে হেটে যাচ্ছে। বাবা কতই না বোকা ছিলেন। আজও কাব্য সেই ছেলে মানুষী লজ্জা অনুভব করে। বাবার উপর এক রাশ অভিমান এসে জমা হয়। বাবা কেন তুমি আমার হাত ছেড়ে দিলে। এখনও যে তোমার সেই ভালবাসার হাতখানি আমার বড়ই প্রয়োজন।


কাব্য এপিটাফটাতে হাত বুলায়। বাব তোমার কানে কানে বলি-আবার আমাদের দেখা হবে। যেখানেই তুমি থাক, যতই দূরে। তোমার হাত ধরে ছেলেবেলার মত আমরা দুইজনে আবার রাস্তা ধরে হেটে যাব। এখনও যে আমাদের অনেক পথ হাটা বাকী। বিদায় বাবা, ভাল থেকো।

টুকরো খবর।

খবর-১


চারদিনের ভারত সফর শেষ করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণ বিমানবন্দরে উনাকে সংবর্ধনা জানায়। সংবর্ধনা দিতে আসা রাস্তার দুই পাশের মানুষ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহর প্রধান সড়কে আসলে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে দুপুর থেকেই পুরো বিমানবন্দর এলাকা লোকেলোকারণ্য হয়ে উঠে। নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমান বন্দরে ট্রাক-বাসে করে আসা নেতাকর্মীরা সঙ্গে নিয়ে আসে ব্যান্ড পার্টি আর মাইক। ট্রাকের উপর নেচে গেয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে। শুভেচ্ছাবার্তা সম্বলিত ব্যানারে ছেয়ে যায় পুরো বিমান বন্দর এলাকা।


অনেক দিন পর এমন আনেন্দর সংবাদ পড়লাম ভাল লাগল। আরও ভাল লাগল দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে এত ভালবাসে জেনে। কিন্তু তারপর নিচের খবরটি আর ভাল লাগল না-


খবর-২


গতকাল নগরবাসীকে দীর্ঘ যানজটের দুভোর্গ পোহাতে হয়েছে। পুরো এলাকায় ভয়াবহ জানজটের সৃষ্টি হয়। একদিকে শীতের তীব্রতা আর অপর দিকে ভয়াবহ যানজট। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত ২ ঘন্টা সড়কের একদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এর প্রভাব রাত ১১ টা পর্যন্ত বিরাজ করে। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের পদচারণায় উত্তরা থেকে মহাখালী পর্যন্ত যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পোনে এক ঘন্টা আগেই যানচলাচল বন্ধ করে দেয় ডিএমপির প্রোটেকশন বিভাগ। এতে ঘরমুখী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে থেকে যাত্রীরা বাস পায়নি। যারা বাসে চরতে পেরেছেন যানজটের কারণে তাদের গাড়ীগুলি ঠায় দাড়িয়ে থাকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।


** আমার বক্তব্য হচ্ছে গতকাল কি সরকারী ছুটি ছিল। যদি না হয়ে থাকে তাহলে সারাদিন কাজ করে কর্মজীবি মানুষরা কিভাবে বাড়ী যাবেন এটা ভেবে দেখার মত কোন লোক কি সরাকারের ডিপার্টমেন্টে ছিলেন না। আর প্রধানমন্ত্রী কি এই প্রথম বিদেশ থেকে দেশে আসলেন। তাহলে হঠাৎ করে এত বিশাল আয়োজনের কি দরকার ছিল। উনার নেতাকর্মীদের যদি আনন্দ করার এতই ইচ্ছে থেকে থাকে তাহলে উনারা বিমানবন্দরের কাছাকাছি কোন খালি মাঠে গিয়ে নাচ গান করতে পারতেন, রাজপথে কেন। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই পত্রিকা পড়েন সেখান থেকে তিনি জনগণের কালকের দুর্ভোগের কথা জানতে পারবেন। তা থেকে তিনি কি ভবিষ্যতের জন্য উনার কর্মীদের সতর্ক করবেন নাকি তাদের সুরেই সুর মিলাবেন।


যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে ঐ দিন তিনি যেন ঢাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেন। কারণ আমি নিজেও গতকালকের দুর্ভোগের একজন ভোক্তভূগী। পুনরায় আর এর পুনরাবৃত্তি কামনা করি না।

গ্রাহকসেবা

সিটিসেল মোবাইল থেকে SMS পাঠিয়েছে- এই শীতে আপনার ত্বকের যত্ন নিয়ে ভাবছেন? সিটিসেল নিয়ে এর শীতকালীন বিউটি টিপস। ডায়েল করুন ২৫২৫ আর জেনে নিন বিউটি টিপস। গুরুত্ব বুঝাতে একই ম্যাসেজ দুই বার পাঠানো হয়েছে। যাতে কোন ভাবে মিস না হয়ে যায়।

আহা মোবাইল কোম্পানীগুলির তাদের গ্রাহকদের প্রতি কত সজাগ দৃষ্টি। গ্রাহকদের সেবা দিতে দিতে এখন গ্রাহকের ত্বকের যত্ন নিয়েও উনারা মাথা ঘামাচ্ছেন। এ রকম এক মোবাইল কোম্পানীর গ্রাহক হতে পেরে আমি গ...গ....গর্বিত। আমি আমার ত্বকের যত্নের ভার নিশ্চিত্নে সিটি সেলের উপর ছেড়ে দিয়েছি, আর আপনি?


ম্যাসেজ পেয়েই আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠে ছিলাম। ২৫২৫ এ ডায়াল করে এক্ষুণি জেনে নিতে হবে বিউটি টিপস। কিন্তু না বল চলে গেল মাঠের বাইরে। কারণ পুরো ম্যাসেজ এখনও শেষ হয়নি। নীচে লেখা রয়েছে- প্রতি মিনিট চার্জ ২ টাকা+ ভ্যাট। ধান্দাবাজি কত প্রকার ও কি কি তা এদের কাছ থেকে শিখতে হবে।


এবার সারা দেশে প্রচন্ড শীতের কারণে বহু লোকের মৃত্যু ঘটেছে। হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে এই পর্যন্ত লক্ষাধিক লোকের উপরে মারা গেছে। সেই জায়গায় শীতে ত্বকের যত্ন নিয়ে মাথা ঘামানোটা বোধ হয় ঠিক না। ত্বর্কবাগিশরা হয়ত বলতে পারেন আমি মাথা না ঘামালে কি এই মৃত্যুগুলি ঠেকানো যেত। আমি সেই বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না।


মোবাইল কোম্পানীগুলির কথাবার্তা শুনলে মনে হবে এদের মত দেশ প্রেমিক আমাদের দেশে বোধ হয় আর একটাও নেই। আরেকবার আরেকটি মোবাইল কোম্পানী আবেগময় একটি বিজ্ঞাপন বানাল পপ সম্রাট আজম খানকে নিয়ে। সাধাসিধে একজন আজম খান, ৭১-এ যার হাতে স্ট্যান গান গর্জে উঠেছিল গিটারের ধ্বনির মত। বিজ্ঞাপন এর শেষে আরেক পপ গায়ক আইয়ুব বাচ্চু পপ সম্রাটকে স্যালুট করেন-গুরু তোমায় সালাম বলে।
বুকের মধ্যে এক ধরণের চিনচিনে ব্যাথা অনুভব হয়-আহা মোবাইল কোম্পানী কি চমৎকার একটি বিজ্ঞাপনই না তৈরী করেছে।


এর কিছু দিন পর জানা যায় পপ সম্রাট আজম খান অসুস্থ। টাকার অভাবে উনার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। সবচেয়ে কষ্ট লাগে তখন যখন কোন একজনও শিল্পী উনাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে না। এমনকি সেই স্যালুট জনানো ব্যাক্তিটিও। প্রচন্ড ক্ষোভ জন্মে সেই মোবাইল কোম্পানীটির প্রতি। তাদের পক্ষে কি একটু সহযোগিতার হাত বাড়ানো সম্ভব ছিল না। উনারা বিজ্ঞাপন তৈরী করেই উনাদের দায় সেরেছেন। কে মরল আর কে বাঁচল তাতে তাদের কি বা যায় আসে।


রাস্তায় মাঝে মধ্যে পিজা হার্ট এর মুক্তি যোদ্ধাদের ছবি সম্বলিত কিছু বিলবোর্ডে চোখ পড়বে। মুক্তি যোদ্ধের সেই সব সাহসী মানুষদের আমরা জানাই শ্রদ্ধা। আহা দেখলেই বুকের রক্ত কেমন ছলকে উঠে।
কিন্তু পিজা হার্ট আজ পর্যন্ত মুক্তি যোদ্ধাদের নিয়ে কোন কিছু করেছে বলে আমার জানা নাই। তারা পিজা বিক্রি করতেই ব্যস্ত তাদের এত সময় কোথায়।


তাও আবার যেন তেন পিজা নয়।পিজা হার্ট এর এক বিক্রয় প্রতিনিধি একবার কতগুলি পিজা কেনার কূপন নিয়ে এসে হাজির। একটি কূপন কিনলে আরেকটি ফ্রি। অর্থাৎ একটি পিজা কিনলে সাথে আরেকটি পিজা ফ্রি। আজকেই অফার শেষ। আনন্দে আমি লাফিয়ে উঠলাম। কিন্তু না পরক্ষণেই আমার আশা ভঙ্গ হল। কারণ একেকটি পিজার মূল্য হাজার টাকার উপরে। আমি তাকে যতই বিদায় করার চেষ্টা করি সে ততই চীনা জোকের আঠার মত লেগে থাকে। আমি বিনীত ভাবে ঐ প্রতিনিধিকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম একটি পিজা কেনার পয়সা দিয়ে আমার সারা মাসের দুপুরের লাঞ্চ এর খরচ চলে। বেচারা সম্ভবত আমার কথা বুঝতে পারেনি ভাবল আমি বুঝি ঠাট্রা করছি। কারণ তাদের এই অফারে খুব সাড়া পাওয়া গেছে। অফারের সময় বাড়ানোর জন্য লোকজন তাদের অনুরোধ করছে। সভাবতই আমার এই উদাসিনতাকে সে ভাল ভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।

Wednesday, January 13, 2010

সভ্যতা বনাম অসভ্যতা

ফ্রান্স বোরকার বিরুদ্ধে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। যে সব নারী বোরকা পড়ে জনসমক্ষে যাবেন তাদের ১ হাজার ৮০ ডলার জরিমানা করা হবে।

ফরাসি পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন ইউএমপি দলের সভাপতি জীন ফ্রানসয়েস কোপ বলেছেন, আইনটি করা হবে নারীদের আত্নমর্যাদা রক্ষা করতে। কোপ বলেছেন বোরকা চরমপন্থাকে উৎসাহিত করে।।


ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোল সারকোজি দীর্ঘদন ধরে নারীদের বোরকা পড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।
জনসমক্ষে প্রকাশ্যে রাস্তায় কিংবা সরকারী ভবনগুলিতে বোরকা পরে যাওয়া যাবে না। কেবল বোরকা নয় আপাদমস্তক ঢেকে প্রকাশ্যে গেলেই তারা এই আইনের আওতায় পড়বেন।


সাধু সাধূ। এই আইনটি নাকি নারীদের আত্নমযার্দা রক্ষা করতে করা হচ্ছে। ফ্রান্সের কোন নারী কি কখনও ফ্রানসয়েস কোপ এর কাছে আবেদন করেছেন যে বোরকা পড়ার কারণে তাদের আত্নমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাহলে ফ্রানসয়েস কোপ এই তথ্য কোথায় পেলেন। স্বপ্নে পেয়ে থাকলে আমাদের কিছু বলার নাই। স্বপ্নে কত লোক কত রোগের অষুধ লাভ করছে আর এটাতো সামান্য জিনিস।


তার মতে বোরকা চরমপন্থাকে উৎসাহিত করে। চরমপন্থীরা কবে থেকে আবার বোরকা পড়া শুরু করে দিল। চরমপন্থীরা কোট, টাই, শার্ট প্যান্ট ও পড়ে থাকে। তাহলে অচিরেই কি আইন করা হবে রাস্তায় শার্ট, প্যান্ট পরে বের হওয়া যাবে না। তাহলেতো ভালই এই শীতে মাইনাস জিরো ডিগ্রী সেলসিয়াস টেম্পেরাচারে দিগম্বর অবস্থায় রাস্তায় বের হতে হবে।


ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোল সারকোজি দীর্ঘদন ধরে নারীদের বোরকা পড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। জনসমক্ষে প্রকাশ্যে রাস্তায় কিংবা সরকারী ভবনগুলিতে বোরকা পরে গেলেই ১ হাজার ৮০ ডলার জরিমানা করা হবে। কেন?


প্রত্যেক দেশের নাগরিকের কিছু নাগরিক অধিকার রয়েছে। সরকারের তাতে হস্থক্ষেপ করার কোন অধিকার নেই। ফ্রন্সের নারীদের অধিকার রয়েছে তাদের পছন্দ অনুযাযী পোশাক নির্বাচন করা। কোন নারী যদি তার ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বোরকা বেছে নেয় তাহলে তাতে বাধা দেয়ার কোন অধিকার আমাদের নেই। এটা তার স্বাধীনতা। মিনি স্কার্ট পরতে যদি কোন বাধা না থাকে তাহলে বোরকা পড়াতে বাধা কোথায়।


কোন বাঙ্গালী যদি পশ্চিমা বিশ্বের কোন দেশে যায় তবে লুঙ্গি, পাঞ্জাবী পরে সে বাইরে বের হতে পারবে না। তাতে সাহেবদের মান যায়। আবার পাশ্চাত্যের একজন লোক আমাদের এখানে তার দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কোট, টাই পরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে কিন্তু আমাদের জাত যাচ্ছে না।


সম্ভবত আমরা এখনও সভ্য হতে পারিনি। তথাকথিত ঐ সব সভ্য দেশ থেকে আমাদেরকে হয়ত আরও অনেক কিছু শেখার বাকী।


সূত্র: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

Tuesday, December 29, 2009

তদন্ত কমিটি

রোগীর আত্নীয় স্বজনরা খুবই হই চই শুরু করে দিল। বেচারার দুইটা মাত্র পা। তার মধ্যে ভুলে ডাক্তাররা ভাল পাটা কেটে বাদ দিয়ে ফেলেছে। এখন বাকী যে একটা পা রয়েছে সেটাও যদি কেটে ফেলতে হয় তবে রোগী হাঁটবে কেমন করে। 

সবাই মিলে হাসপাতালের জিনিসপত্র মনের আনন্দে (আসলে মনের দুঃখে হবে) ভাঙতে শুরু করে দিল। সাথে এসে যোগ দিল আরও লোকজন যারা রোগীর আত্নীয় নন এবং কখনও রোগীকে দেখেননি। কিন্তু এই ধরনের সুযোগতো আর প্রতিদিন আসে না। লক্ষ টাকা দামের যন্ত্রপাতি ভেঙে ফেল কেউ তোমাকে কিছু বলতে পারবে না। কারো হয়ত কোন পুরনো ক্ষোভ রয়েছে এদের প্রতি। এখন তার শোধ নাও।


অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবাইকে আশ্বস্ত করলেন। তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রোগীকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
রোগী প্রতিক্ষার প্রহর গুণে। তদন্ত আর শেষ হয় না। এক দিন, দুই দিন, এক সপ্তাহ করে পার হয়ে যায় এক মাস। অবশেষে রোগী তার এক পা সম্বল করে ভয়ে ভয়ে হাসপাতারের প্রধান চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়।

-স্যার আমার কেইসটা একটু দেখবেন।
-তদন্ত কমিটিতো তাদের রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। আপনার যে পাটা কাটা হয়েছিল সেই পায়ে গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে পড়ে ছিল। পা না কাটলে তা আপনার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ত। তখন আপনাকে বাঁচানোই মুসকিল হত। আমিতো সেই তরিৎকর্মা ডাক্তারের প্রশংসা করি।


-কিন্তু স্যার আমার পা কাটতে হলে তো আমার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর আমার পায়ে তেমন বড় কোন সমস্যা ছিল না যে পা একে বারেই কেটে ফেলতে হবে।
- সেটাতো আর আপনি বললে হবে না। আপনিতো আর ডাক্তার নন। তারপরও আমরা ঐ ডাক্তার প্রতি ব্যবস্থা নিয়েছি। তাকে তিন দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আর আপনার জন্য ভাল খবর হচ্ছে আপনার অপারেশনের টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছে। এখন আপনি আপনার পা নিয়ে যেতে পারেন। ফরমালিনে চুবানো একটি বড় পাত্রে করে কাটা পা ডাক্তার রোগীর সামনে এনে হাজির করেন।


-স্যার আমি এই পা দিয়ে কি করব। এই পা আমার কি কাজে লাগবে।
-সেটাতো ভাই আমি জানি না। আপনার জিনিস আপনি নিয়ে যান। আর এক মাস ধরে আপনার এই পা যত্নের সহিত সংরক্ষণ করতে গিয়ে আমাদের যে খরচ হয়েছে তার বিল আপনি দিয়ে যান।


-রোগী চোখ কপালে তুলে ফেলে। আপনাকে কে বলেছে পা রেখে দিতে। এখন আমি টাকা দেব কোথা থেকে।
-তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ততো আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ঠিক আছে বিলের টাকা দিতে না পারলে অপারেশনের যে টাকা আপনি ফেরত পেতেন সেখান থেকে আমরা তা কেটে রাখছি। তা কেটে রাখার পরও হাসপাতাল আপনার কাছে টাকা পাওনা হয়। সেটা আমরা আপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ মাফ করে দিচ্ছি। আমাদরেকে আপনার এখন আর কোন টাকা দিতে হবে না। কি, এবার খুশি তো।


(আমাদের দেশে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটে। তদন্ত করার দায়িত্ব পড়ে ডাক্তারদের উপর। পুলিশের হাতে আসামির মৃত্যু হয় তদন্তের ভার থাকে পুলিশের হাতে।

সম্প্রতি পর পর কয়েকটি লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এখানেও তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা এই টুকুই জানি। তার পরের খবর আর পাই না। সেই তদন্ত কি কখনও আলোর মুখ দেখে আমরা জানতে পারি না। বেশীর ভাগ লঞ্চেরই ফিটনেস নেই। নেই যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যে লোকগুলি মারা গেল। যে পরিবারগুলি তাদের আপন জনদের হারাল তাদের খবর আর আমরা পরবর্তীতে নেই না।


লঞ্চ ডুবির ছাব্বিশ ঘন্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ (সবেধন নীল মণি রুস্তম আর হামজা) ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌছ। মানুষ না শুধু লাশ উদ্ধার করার জন্য। বড় জাহাজ উত্তোলনের মত ক্ষমতা তাদের নেই। রাজনৈতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেন।

কয়েক দিন পত্রিকার পাতায় লেখা লেখি হবে তারপর সব হারিয়ে যাবে। বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগলে টিভিতে লাইভ টেলিকাস্ট দেখানো হয়। সব পত্রিকার সাংবাদিক কে কার আগে খবর সংগ্রহ করবেন তার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আর লঞ্চ ডুবিতে বড় জোর কি হয়। কয়েকশ দরিদ্র কিছু মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। ১৫ কোটি জনসংখ্যার দেশে এ আর এমন কি। )











শপথ

দেশে এখন শুধু শপথ এর ছড়াছড়ি। এত সব শপথ যদি আসলেই বাস্তবায়িত হত তবে বিরাট কাজের কাজ হত। এখন চলছে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ। সরকারী দলের লোকজনেরা এই কাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন। চারদিকে মিটিং, মিছিল, ব্যানার আর বক্তৃতার ছড়াছড়ি।


সবাই শপথ করছেন। অনেক বুদ্ধিজীবি, মডেল, মিডিয়ার লোকজনরা রয়েছেন এই কাতারে। তবে আমি আর বাদ থাকি কেন। না হলে মান সন্মান বুঝি আর থাকে না। তাই একটি শুভ দিন দেখে আমিও শপথ করলাম-আমি দেশকে একটি দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। নিজেই নিজের পিঠ চাপরাতে ইচ্ছে করছে। অনেক বড় একটি কাজের কাজ হয়েছে।


এখন সমস্যা হল শপথতো করলাম কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি দরিদ্র দেশকে আমি কিভাবে ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত দেশ করব সেটাইতো জানি না। এই দেশের কত জন লোক বেকার, কত জন লোক তিন বেলা খেতে পায় না-এই পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। এই দেশের লোকদের গড় আয় কত, আমাদের দেশের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি কত- সে হিসেব করতে গেলে আমার মাথা ঘুরায়। আরে বোকার দল এটাতো অর্থনীতিবিদদের কাজ, আমার এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ কি। আমার দরকার ছিল শুধু মাত্র শপথ করা তা আমি দায়িত্বপূর্ণ ভাবে সম্পাদন করেছি। সবাই করেছে, আমিও করলাম- ব্যাস। ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়ে এখন বলতে পারব-আমি শপথ করেছি, আপনি করেছেন কি। মনে মনে বলব- আতলামি আর কাকে বলে রে।


চারদিকে রঙিন বেলুন আর রঙ বেরঙ এর ব্যানারে রাজপথ ছেয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কে কার থেকে আকর্ষনীয় ভাবে সংবাদ উপস্থাপন করবেন। বিষয়- দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার শপথ চলছে চারদিকে। যারা এই দলে যোগ দেবেন না, তারা আসলে দেশের ভাল চান না।


চারদিক আনন্দের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। এক দল দরিদ্র ক্ষুধার্ত শিশু রোদের মাঝে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছে-আসলে কি হচ্ছে। এরা অপেক্ষা করে আছে খাবারের জন্য, এক টুকরো রুটির জন্যে। অলোচনা শেষ হলে যদি তাদের কিছু খেতে দেয়া হয় সেই আশায়। সবার আনন্দ তাদেরকে স্পর্শ করছে না।


এই মুহুর্তে ক্ষুধাটাই হচ্ছে বাস্তব, আর সব কিছুই অবাস্তব-মেকী।



অমানুষ


বেশ কয়েক বছর আগে দেখা জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত ছবি টাইটানিক এখনও মনে দাগ কেটে আছে। বিশেষ করে শেষ মুহুর্তের সেই আবেগময় দৃশ্য- জাহাজ ডুবে গেছে। ছবির নায়ক জ্যাক বরফ শীতল পানিতে ডুবে আছে। তার প্রেমিকা রোজকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপন লড়াই করে যাচ্ছে। এক সময় জ্যাক মারা যায়, বাঁচিয়ে দিয়ে যায় তার প্রেমিকাকে। তারপর তার প্রেমিকা রোজ তার স্মৃতি নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়।


সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে জাহাজের এতগুলি লোক মারা গেল তাদের জন্য আমার যতটুকু দুঃখ বোধ হয় তার চেয়ে অনেক বেশী দুঃখ হয় জ্যাক বেচারার জন্য। জাহাজের অন্য লোকজন মারা যায় যাক কিন্তু পরিচালক ব্যাটাতো জ্যাককে অন্তত রোজের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে পারত। যদিও সিনেমা, তারপরও তখন নায়কের জন্য বুকে এক ধরনের হাহাকার অনুভব করি। ছবির আবেগময় শেষ দৃশ্যের সাথে সাথে আমাদের চোখও ভিজে আসে।


২০০৮ ডিসেম্বর কিছু হতদরিদ্র বঙ্গ সন্তান অভাবের তাড়নায় শেষ সহায় সম্বল বিক্রি করে দিয়ে ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। দিন দশেক পর থাইল্যান্ডের সমুদ্রসীমায় পৌছলে সে দেশের কোস্ট গার্ড তাদের আটক করে সাত দিন পাহাড়ের উপর খোলা আকাশের নীচে রেখে নির্যাতন চালায়। তারপর নৌকাগুলির ইঞ্জিন খুলে বড় একটি জাহাজের পেছনে দঁড়ি দিয়ে বেধে সমুদ্রে নিয়ে যায়। দুই দিন পর জাহাজ থেকে কিছু চাল, বিস্কুট , পানি দিয়ে তাদের নৌকাগুলি গভীর সমুদ্রে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ৮-১০ দিন ভাসতে ভাসতে নৌকাগুলি আন্দামানে পৌছালে ভারতীয় কোস্টগার্ড স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে। সম্প্রতি দীর্ঘ ৮ মাসের নরক যন্ত্রণার পর এরা সহায় সম্বলহীন অবস্থায় দেশে ফিরতে শুরু করেছে।


এদের থেকে বেঁচে ফিরে আসা একজনের মর্মস্পর্শী কাহিনী ছিল অনেকটা এ রকম-
ছোট্র একটি ট্রলারে আমরা ১১৯ জন ভাসছি। সাগর আর শেষ হয় না। তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সাগরের লোনাপানি খেয়েছি। লোনা পানি খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চোখের সামনে ছটফট করে আমাদের সঙ্গের ১৯ জন মারা গেল। চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার ছিল না। তাদের লাশ ফেলে দেয়া হয় সাগরে। এভাবে কেটে যায় ১০-১২ দিন। গভীর সাগরে ভাসতে ভাসতে নিকোবার নামের একটি দ্বীপে গিয়ে নৌকা ভিড়ে। সেখানে পাতা সিদ্ধ করে খেয়ে কোনমতে ক্ষুধা মিটিয়েছি। এদের ভাষ্য মতে এদের দলে ৫০০ এরও বেশী লোক ছিল্। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ মারা যায় সাগরে ডুবে। তাদের সাথে যাওয়া মোট ৩০৫ জনের মত মারা গেছে।


আমি কিছু দিন পূর্বে একটি প্রথম শ্রেণীর জাতয়ি দৈনিকের শেষ পাতায় খবরটি পড়ি। আমি সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরটি পড়ি, আমার কোন ভাবান্তর হয় না। এই সব খবর শেষের পাতায় আসবে এটাইতো স্বাভাবিক। কারণ এই সব হতভাগ্য লোকদের করুণ কাহিনী নিয়ে আমাদের পাবলিসিটির সুযোগ কম। পাবলিক এই সব জিনিস সহজে খেতে চায় না। তারচেয়ে মিডিয়াতে কোন রান্নার রেসিপি দেখানো যেতে পারে। যেমন, মরিচের ঝাল হালুয়া। তাছাড়া এর চেয়ে অনেক বড় বড় কাজ আমাদের রয়েছে। দেশকে বদলে ফেলার কাজ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ। আরও কত্ত কি।


প্রতি বছর এ ধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে আর পত্রিকার এক কোনায় এই খবর পড়ার কিছুক্ষণ পর আমরা এদের কথা ভুলে যাব। এটাই স্বাভাবিত। অথচ সিনেমায় জাহাজ ডুবি দেখে আমরা চোখের জল ফেলি। কারণ এরাতো আর সিনেমার কোন স্টার নয় যে এদের জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে। পশুদের অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। পশুদের উপর কোন নির্যাতন হলে এরা সোচ্চার হয়ে উঠে। এতগুলি মানুষ মারা গেল, এতগুলি লোকের উপর এই অমানবিক আচরণ করা হল, আমাদের কোন বিকার নাই। কারণ এরাতো আর পশূ নয়। পশুরও অধম, এরা হচ্ছে মানুষ নামের অমানুষ।

শিকার


ছেলেটির চোখে মুখে লাজুক চাহনি। চেহারায় এক ধরনের সরলতা রয়েছে। ছেলেটি যথাসম্ভব চেহারায় কাঠিন্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এতে করে তার ছেলেমানুষি ভাব আরও প্রকট হয়ে ফুটে উঠছে। আশরাফ সাহেব হেসে ফেলেন। ১৬-১৭ বছর বয়সের এই ছেলেটি হয়ত উনাকে কিছু বলতে চায়। নার্ভাসনেসের কারণে বলতে পারছে না।


খোকা তুমি কি আমায় কিছু বলবে?
ছেলেটি কোন উত্তর দেয় না। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তার একটি হাত ধীরে ধীরে ঢুকে যায় প্যান্টের পকেটে। একটু পর সে হাতটা বাইরে বের করে নিয়ে আসে।

আশরাফ সাহেব বিস্ফোরিত ভাবে ছেলেটির হাতের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ছেলেটির হাত একটু একটু কাঁপছে। তিনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। ছেলেটির হাতে ধরা ছোট্র একটি আগ্নেয়াস্ত্র উনার দিকে তাক করা। একটু আগের লাজুক সেই ছেলেটিকে তিনি আর এখন চিনতে পারছেন না।
ছেলেটিকে এখন আর দেবদূত বলে মনে হচ্ছে না। যেন তার ভেতর থেকে একটি দানব বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। 

ছেলেটি পর পর দুবার গুলি করে। আশরাফ সাহেব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উনার বিস্ময় ভাব এখনও কাটেনি। মনে হচ্ছে যেন এ সব কিছুই স্বপ্ন দৃশ্য। বাস্তবে ঘটছে না। 

ছেলেটির কোন ভাবান্তর হয় না। যত কঠিন হবে বলে সে ভেবেছিল কাজটা তত কঠিন হয়নি। বস ঠিকই বলে ছিল মানুষ খুন কার আসলে খুব একটা কঠিন কাজ না। একটু সাহস থাকলেই হয়। সে কোন তাড়া অনুভব করে না। তার কাজ শেষ হয়েছে। পার্টিকে এখন জানিয়ে দিতে হবে কন্ট্রাক মত সব কাজ শেষ হয়েছে। 

ছেলেটি ধীর পায়ে সামনে এগুতে থাকে তার দ্বিতীয় শিকারের দিকে। পকেটে হাত দিয়ে দুই হাজার টাকার অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করে। তার প্রথম রোজগার। নিজের উপার্জনের প্রথম টাকায় গভীর মমতা মেশানো থাকে। সে কখনই সেই মমতা অনুভব করতে পারবে না। এই টাকা সে তার প্রিয়জনদের হাতে তুলে দিতে পারবে না। এই টাকায় রক্ত লেগে আছে। আর একজন ভাড়াটে খুনির কোন পরিবার কোন প্রিয় মানুষ থাকে না। মানুষ থেকে সে কখন দানবে রুপান্তরিত হয়ে পড়েছে তা নিজেও জানে না। 

(উপরের ঘটনাটি কাল্পনিক। রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নীচের বর্ণনাটি মোটেও কাল্পনিক নয়। ২০ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাক থেকে নেয়া-
পিচ্চি আল আমিনের বয়স ১৭ বছর। নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অর্থের অভাবে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। অভাবের তাড়নায় কয়েক বছর পূর্বে ঢাকায় চলে আসে। এর মধ্যে দুই বছর একটি গার্মেন্টএ কাজ করা কালে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পিচ্চি আল আমিনের সখ্যতা গড়ে উঠে। সন্ত্রাসীদের আড্ডায় গিয়ে অস্ত্র ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ নেয় সে। এরপর পিচ্চি আল আমিন ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকান্ড, ছিনতাই, ডাকাতিসহ শুরু করে দেয় নানা অপরাধ। 

১৫ বছর বয়স থেকে সে এই সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তার বয়সী আরও ১৫-২০ জন সহযোগী রয়েছে তার। সম্প্রতি সে রেবের হাতে ধরা পড়ে। সে জানায় তার রেট খুব বেশী নয়। মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দিলে সে মানুষ খুন করে। এর মধ্যে সে এক ডজন হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় কে বেঁচে আছে আর কে মরে গেছে এটা সে কখনো খতিয়ে দেখে না। হত্যাকান্ডে তার চরম শাস্তি মৃত্যুদন্ড হতে পারে এটা সে তোয়াক্কা করছে না। গ্রেফতার হলে সে সহজে ছাড়া পেয়ে বের হয়ে আসে। এরজন্য তার বড় ভাইয়ারা তার পেছনে রয়েছে। হত্যাকান্ড সে তাদের নির্দেশে করে থাকে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র তার বড় ভাইয়ারা সরবরাহ করে থাকে।

ছবির ছেলেটির মায়াময় মুখ দেখলে কে বিশ্বাস করবে সে একজন প্রফেশনাল কিলার। মানুষ খুন করা যার পেশা। এসব ছেলের এখন স্কুল কলেজে পড়ার বয়স। এরা বড় হবে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। সেই জায়গায় একেক জন একেকটি খুনি হিসেবে গড়ে উঠছে। এরা নিজেরাও জানে না এরা কি করছে, কি ভয়াবহ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তারা জানে না এদের কে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কোল্ড ড্রিংস খাবার পর মানুষ যেমন খালি ক্যান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেয় এদের কেও কাজ হয়ে গেলে এক সময় ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। কারণ এদের কাছে এরা মানুষ মারার একটি যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।)



Thursday, July 9, 2009

পদক


জানেন এই একেকটা পদক আমার কাছে নিজের সন্তানের মত। সামনে দাঁড়ানো ভাঙাচোরা লোকটি পরম মমতায় পদকগুলির গায়ে হাত বুলাতে থাকে।

ক্যাশ বাক্সে বসা বিশাল বপুর অধিকারী সিল্কের পাঞ্জাবী গায়ে দেয়া দোকাদারের কোন ভাবান্তর হয় না। দোকানী মনে মনে হিসেব কষতে থাকে মেডেলগুলি গলালে কতটুকু সোনা আর কতটুকু খাদ বের হবে।

আমি এ্যাথলেটিকসে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই সোনার মেডেলগুলি পেয়েছি।

লোকটার কথা শেষ হয় না। দোকানী মুখ বাঁকা করে জানতে চায়-দাম চান কত। এই সব রদ্দি মালে বেশীর ভাগই স্বার্নের পানি দেয়া থাকে।

লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে- দেশ স্বাধীনের স্বপ্ন নিয়ে এক সময় যুদ্ধ করেছি। দেশ কি আমরা আসলেই স্বাধীন করতে পেরেছি। অভাবের তাড়নায় আজ আমাকে নিরুপায় হয়ে আমার সারা জীবনের সঞয় এই পদকগুলি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ যে আমার কাছে কত কষ্ট আর লজ্জার ব্যাপার আপনি তা বুঝবেন না।

নূরানী চেহারার অধিকারী দোকানী পানের পিক ফেলতে ফেলতে বলতে থাকে-এই আপনাদের আর এক সমস্যা। খালি সেন্টিমেন্টস। যুদ্ধ করছেন দেশের জন্য এর মধ্যে আবার লাভের আশা করেন ক্যান। আপনার কপালে লেখা ছিল দরিদ্র হওয়া আপনি তা হইছেন। সব আল্লাহপাকের ইচ্ছা। দোকানী কয়েকটি নোট লোকটির দিকে ছুড়ে দেয়- নেন, ভাল দাম পাইছেন। আজান হইয়া গেছে নামাজে যামু। আপনেও যান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন আর আল্লারে ডাকেন। তিনিই বিপদের মালিক তিনিই উদ্ধারকর্তা।


(মোস্তাক আহমেদ, গ্রামের বাড়ী সিলেটের বিয়ানী বাজারে বাহাদুরপুরের বারইগ্রামে। ১৯৭০ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্রগ্রামের ৪ নং সেক্টর থেকে যুদ্ধে অংশ নেন। সর্বশেষে অনারারী ক্যাপ্টেন হিসেবে ২০০২ সালে অবসরে যান। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ্যাথলেটিকসে তিনি বহুবার দেশের হয়ে বিদেশে খেলেছেন। মোট ৬৯ টি স্বর্ণপদক পেয়ে বাংলাদেশের সোনার ছেলে অবিধায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি একটানা কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ।

এই কয়েকবার বর্ষসেরা এ্যাথলেট ও মুক্তিযোদ্ধা অভাবের তাড়নায় ১৯৮৯-৯০ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি থেকে পাওয়া সোয়া ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটা হরিণ বিক্রি করে দিয়েছেন। কয়েকদিন পূর্বে আবার সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন ১৯৭৭ সালে সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে পাওয়া ১ম স্বাধীনতা পদকটি বিক্রি করার জন্য।)

*ষূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুলাই ২০০৯

Friday, May 1, 2009

আপনি কি বিখ্যাত হতে চান?

বিখ্যাতরা যা করেন তাই মজার কান্ড। আপনি আমি করলে তা হবে পাগলামী। নীচে এদের কিছু মজার কান্ডকীর্তি দেয়া হল। এখন আপনি চিন্তা করে বের করুন কোন কান্ডটি ঘটিয়ে আপনি ইতিহাসে এদের মত জায়গা করে নিতে পারবেন।

১. হামদার্দ এর প্রতিষ্ঠাতা হেকিম আজমল খানের চিকিৎসক হিসেবে খুব নাম ডাক ছিল। তিনি নাকি রোগীকে না দেখেই শুধু রোগীর প্রশ্রাব দেখেই রোগ নির্ণয় করতে পারতেন। এ কথা শুনে একবার এক ব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য নিজের প্রশ্রাব না পাঠিয়ে উটের প্রশ্রাব পাঠালেন রোগ নির্ণয়ের জন্য। আজমল খান প্রশ্রাব পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিলেন-এই প্রশ্রাবের মালিককে আরও বেশী করে খড় এবং ভুষি খেতে হবে।

২. নামী হস্তরেখাবিদ কিরোর পান্ডিত্য পরীক্ষা করে দেখার জন্য একবার এক লোক চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জির হাতের ছাপ নিয়ে কিরোকে হাতের ছাপের মালিক সম্পর্কে কিছু বলতে অনুরোধ করেন। কিরো হাতের ছাপটি দেখে বলেন-এটি নিশ্চয়ই আপনার কোন ঘনিষ্ট আত্নীয়ের হাতের ছাপ হবে। তাকে বলবেন খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসে আপনার সাথে থাকতে। তা হলে আপনাদের দুই জনের উন্নতি হবে।

৩. বিশ্ববিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের সুনাম তখন চারদিকে । কে কতটুকু চার্লি চ্যাপলিনের মত অভিনয় করতে পারে এই নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে চার্লি চ্যাপলিনও ঐ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ফলাফল ঘোষণার দিন দেখা গেল স্বয়ং চার্লি চ্যাপলিন প্রতিযোগিতায় অভিনয় করে তৃতীয় হয়েছেন।

৪. এক ব্যাংকের কর্মকর্তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেলে তিনি একটি পাথরের চোখ লাগান। এবং চোখটি এত নিখুত ছিল কেউ ধরতে পারত না কোনটা নকল চোখ। মার্ক টোয়েন একবার ঐ ব্যাংকে টাকা উঠাতে গেলে ঐ কর্মকর্তা মজা করার জন্য মার্ক টোয়েনকে বলেন আপনি যদি বলতে পারেন আমার কোন চোখটা নকল তবে আমি আপনাকে টাকা দেব।
মার্ক টোয়েন কিছুক্ষণ লোকটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন-আপনার বাম চোখটা নকল।
লোকটি বিস্মিত হয়ে জানতে চায়-কিভাবে বুঝলেন?
মার্ক টোয়েন উত্তর দেন- কারণ আপনার বাম চোখের মাঝেই এখনও দয়া ও করুণার কিছু আভা দেখা যাচ্ছ।

৫. নামি চিত্রকর হেনরি মোশের বিমূর্ত ছবি লা বের প্রদর্শন চলছিল নিউ ইয়র্কের একটি জাদুঘরে। প্রদর্শনীতেলোকে ভিড় করে দেখতে এল ছবিটি। সবাই খুব প্রশংসা করলেন। প্রদর্শনীর সাতচল্লিশ দিনের মাথায় শিল্পী নিজে আসলেন প্রদর্শনী দেখতে। জাদুঘরের কিউরেটর জানাল- আপনার ছবিটির সবাই খুব প্রশংসা করছে।
কিন্তু শিল্পী মোটেও খুশি হলেন না। মুখ গোমড়া করে জানতে চাইলেন-ছবিটা কি সেই প্রথম থেকেই এখাবে উল্টা হয়ে ঝুলছে।

৬. রুটস খ্যাত লেখক আরেক্স হ্যালি রুটস বইয়ের তথ্য সংগ্রহে জাহাজে জাহাজে ঘুরে বেড়ান। তেমনি এক জাহাজে ইউরোপিয়ান এক মহিরা উনার কাছে জানতে চান-আপনারা আফ্রিকানরা নাকি মানুষের মাংস খান?
এমন প্রশ্ন শুনে রেগে বললেন হ্যালি-হ্যা, খাই।
শুনে ভড়কে গিয়ে সামনে থেকে সরে পড়লেন মহিলা।
রাতে খাবার টেবিলে ঐ মহিলার পাশের চেয়ারেই বসলেন হ্যালি। সবাইকে খাবার পছন্দ করার জন্য খাদ্য তালিকা দেয়া হল। মহিলাকে আরও ঘাবড়ে দেয়ার জন্য হ্যালি বেয়ারাকে ডেকে গম্ভীর গলায় বললেন-আমাকে জাহাজের যাত্রীদের তালিকাটি দিন।

৭. সকাল বেলা কাজের লোক বিজ্ঞানী নিউটনের হাতে একটি ডিম দিয়ে বলল-স্যার, আমি একটু বাজারে যাচ্ছি। চুলায় পানি ফুটতে দিয়েছি। ফুটে গেলে তাতে ডিমটা ছেড়ে দিয়ে সিদ্ধ করে নেবেন। একটু পর কাজের লোক ফিরে এসে দেখল ডিমটি নিউটনের হাতেই রয়ে গেছে, আর চুলায় সিদ্ধ হচ্ছে নিউটনের হাত ঘড়িটি।

৮. নিউটন একটি মেয়েকে ভালবাসতেন। একদিন বিকেলে বাগানে বসে মেয়েটির সাথে আলাপে মশগুল ছিলেন। নিউটনের চুরুট খাবার ইচ্ছে হল। হঠাৎ মেয়েটির চিৎকারে নিউটন লাফিয়ে উঠেন। চুরুট ভেবে তিনি মেয়েটির আঙ্গুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।


সংগ্রহ: আসমার ওসমান সম্পাদিত বিখ্যাতদের সত্যি জোকস।