ছেলে বেলায় আমাদের কাছে তাকে এক রহস্যময় মানুষ বলে মনে হত। মাথায় লম্বা চুল, খোঁচা খোঁচা দাড়ি। চোখ দুটি রাতে না ঘুমানো লোকের মত সব সময় লাল। এমনিতে কথা বার্তা খুব কম বলতেন। প্রতিদিন বিকালে পুরনো কবরস্থান সংলগ্ন শতাব্দী প্রাচীন বট গাছের নিচে বসতেন। হাতে থাকত মাটির ছোট্র একটি নলের মত জিনিস যার ভেতরে আবার আগুন দেখা যায়। এতে মাঝে মাঝে টান দিতেন আর নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তেন। এই সময় তার মুখে কথার খই ফুটত।
ছেলে বেলায় বুঝতাম না এটা গাজার নেশার প্রলাপ। তখন শুরু হত সৃষ্টি ছাড়া সব গল্পের আসর। আমরা চোখ কপালে তুলে তা শুনতাম-
বুঝলা আমি কিন্তু তোমাদের এই মানুষের দুনিয়ার কেউ না। আমি হইলাম গিয়া জ্বীনদের দুনিয়ার লোক। তোমাদের মত জ্বীনদেরও দুনিয়া আছে। আমরা হইলাম আগুনের তৈরী। এই দেহ আমার হাতের এইডা থেইক্যা আগুন বাইর হয়। আমরা হা করে দেখতাম তার চোখ মুখ দিয়ে গলগল করে ধোয়া বের হচ্ছে।
তাকে আমরা জ্বীন মানুষ বলে ডাকতাম। তিনি থাকতেন পুরনো কবরস্থান সংলগ্ন একচালা একটি কুড়েঘরে। কর্তৃপক্ষ তাকে এমনি এমনি দয়া করে থাকতে দেয়নি। এর বিনিময়ে তাকে কবরস্থান দেখা শুনা করতে হত। এক কথায় বলতে গেলে কবরস্থানের কেয়ারটেকার।
সাথে তার বউ আর এক ছেলে থাকত। সেই দুজনকে আবার সাধারণ মানুষ বলেই আমাদের মনে হত। আমরা বুঝতাম না তারা এই জ্বীন মানবের সাথে কিভাবে থাকে।
হেইদিন হইল কি শুন- রাত তখন তৃতীয় প্রহর হইব। বাইরে চাদনী পসর রাইত। আমি বাইর হইলাম কবরস্থানের দিকে। তখন দেখি কি....
এই টুকু বলে তিনি ঝিম মেরে যান। আমরা অস্থির হয়ে পড়ি তারপর কি হল জানার জন্যে। কিন্তু এখন যদি উনাকে তাগাদা দেয়া হয় তবে তিনি আজ আর মুখ খুলবেন না। তাই আমাদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হয় । তিনি প্রায়ই গল্পের মাঝে এ ধরনের কান্ড করে আমাদের দেখে মজা পান।
ঐ দিন এক ছোট বাচ্চার নতুন এক কবর হইছে। আমি দেখি কে যেন উপুর হইয়া সেই কবর থেইকা কি বাইর করতাছে। আমার ত বুক ধক কইরা উঠল। আমি আওয়াজ দিলাম কে কে। কোন উত্তর নাই। তখন আমি সাহস কইরা আগাইয়া গেলাম। যা দেখলাম তোমরা পুলাপান মানুষ তোমাদের কাছে না কইলেই ভাল হইব। তারপর তিনি আবার চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে যান। উনার এই পদ্ধতির সাথে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি। জানি এর একটু পরই তিনি আবার মুখ খুলবেন।
দেহি এক লোক কবর থাইকা বাচ্চার লাশ টাইননা বাইর করতাছে। রক্ত ছাড়া ধবধইববা ফরসা মুখ। চোখ দিয়া যেন আগুন বাইর হইতাছে। আমারে দেইখা এক লাফ দিয়া উইঠা দাড়ায়। আমিত চোখ বন্ধ কইরা মনে মনে দুয়া দুরুদ পড়তে শুরু কইরা দিছি। একটু পরে চোখ খুইলা দেহি সাদা এক ঘোড়ার পিঠে চইড়া ঐ লোক হাওয়া। সকাল বেলা আবার লাশ কবরে ঢুকাইয়া কবর ঠিক ঠাক কইরা দিছি।
কে এই লোক-আমরা সমস্বরে জানতে চাই। লাশ নিয়ে সে কি করবে।
সে এই জগতের কেউ না। বাচ্চারাতো ফেরেশতা। সে বাচ্চাদের লাশ তার জগতে নিয়া যাইব তারপরে তারমাঝে জান দিব। যদি ভাল মা বাবা হয় তবে একদিন হেই বাচ্চা তার বাবা মার কাছে ফিরা আসব।
এখন পর্যন্ত কি কোন বাচ্চা ঐ জগত থেকে ফিরত এসেছে? আমরা জানতে চাই।
না। এখনকার মানুষ পাপী হইয়া গেছে। তবে সাচ্চা মানুষ হইলে তার বাচ্চা ঠিকই ফিরা আসব।
তখন আমরা বুঝতে পারলাম কেন মাঝে মাঝে বাচ্চাদের নতুন কবর থেকে লাশ গায়েব হয়ে যায়। এ তাহলে সেই সাদা ঘোড়সওয়ারের কান্ড। তখন বুঝতাম না নতুন কবরের মাটি নরম থাকার কারণে অনেক সময় শিয়াল লাশ বের করে ফেলে।
এর পর থেকে সাদা ঘোড়সওয়ার আমাদের কাছে মূর্তিমান এক আতংকে পরিণত হয়। সব সময় মনে হত এই বুঝি আসছে।
একদিন এই জ্বীন মানবের ছেলে হঠাৎ করে মারা গেল। আমরা তাকে পেলাম কবর খুড়তে থাকা অবস্থায়। এই কবরেই তার ছেলেকে শোয়ানো হবে। তাহলে আজ রাতে আবার সেই ঘোড়সওয়ার আসবে জ্বীন মানবের বাচ্চার লাশ নিতে।
পরদিন বিকালে জ্বীন মানবকে দেখলাম হতে আগুন ছাড়া। এই প্রথম আমরা একটি অদ্ভূত জিনিস দেখলাম। জ্বীন মানবের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আরে জ্বীনেরা কি আবার কাঁদে নাকি। তাদের আবার দুঃখ কষ্ট আছে নাকি।
এরমধ্যে আমরা উশখুশ করতে শুরু করেছি গল্প শুনার জন্য। কাল রাতে সেই সাদা ঘোড়ার সওয়ারী এসে ছিল কিনা জানতে। কিন্তু আজ আর জ্বীন মানব কোন গল্প বলল না। তারপর থেকে আমরা প্রতিদিন তাকে ঐ জায়গায় একই রকম বসা অবস্থায় দেখতে পেতাম। তার চোখ দুটি এক দৃষ্টিতে তার ছেলের কবরের দিকে নিবদ্ধ থাকত। কি যেন খুঁজে ফিরত তার দুই চোখ।
সবাই বলত ছেলের মৃত্যুতে জ্বীন মানবের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা জানতাম আসল কারণটা। জ্বীন মানব আসলে সেই সাদা ঘোড় সওয়ারকে খোঁজে ফিরত। যে এসে তার ছেলেকে সাথে করে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ঘোড় সওয়ারী আর আসে না।
হচ্ছে।
তাকে আমরা জ্বীন মানুষ বলে ডাকতাম। তিনি থাকতেন পুরনো কবরস্থান সংলগ্ন একচালা একটি কুড়েঘরে। কর্তৃপক্ষ তাকে এমনি এমনি দয়া করে থাকতে দেয়নি। এর বিনিময়ে তাকে কবরস্থান দেখা শুনা করতে হত। এক কথায় বলতে গেলে কবরস্থানের কেয়ারটেকার।
সাথে তার বউ আর এক ছেলে থাকত। সেই দুজনকে আবার সাধারণ মানুষ বলেই আমাদের মনে হত। আমরা বুঝতাম না তারা এই জ্বীন মানবের সাথে কিভাবে থাকে।
হেইদিন হইল কি শুন- রাত তখন তৃতীয় প্রহর হইব। বাইরে চাদনী পসর রাইত। আমি বাইর হইলাম কবরস্থানের দিকে। তখন দেখি কি....
এই টুকু বলে তিনি ঝিম মেরে যান। আমরা অস্থির হয়ে পড়ি তারপর কি হল জানার জন্যে। কিন্তু এখন যদি উনাকে তাগাদা দেয়া হয় তবে তিনি আজ আর মুখ খুলবেন না। তাই আমাদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হয় । তিনি প্রায়ই গল্পের মাঝে এ ধরনের কান্ড করে আমাদের দেখে মজা পান।
ঐ দিন এক ছোট বাচ্চার নতুন এক কবর হইছে। আমি দেখি কে যেন উপুর হইয়া সেই কবর থেইকা কি বাইর করতাছে। আমার ত বুক ধক কইরা উঠল। আমি আওয়াজ দিলাম কে কে। কোন উত্তর নাই। তখন আমি সাহস কইরা আগাইয়া গেলাম। যা দেখলাম তোমরা পুলাপান মানুষ তোমাদের কাছে না কইলেই ভাল হইব। তারপর তিনি আবার চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে যান। উনার এই পদ্ধতির সাথে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি। জানি এর একটু পরই তিনি আবার মুখ খুলবেন।
দেহি এক লোক কবর থাইকা বাচ্চার লাশ টাইননা বাইর করতাছে। রক্ত ছাড়া ধবধইববা ফরসা মুখ। চোখ দিয়া যেন আগুন বাইর হইতাছে। আমারে দেইখা এক লাফ দিয়া উইঠা দাড়ায়। আমিত চোখ বন্ধ কইরা মনে মনে দুয়া দুরুদ পড়তে শুরু কইরা দিছি। একটু পরে চোখ খুইলা দেহি সাদা এক ঘোড়ার পিঠে চইড়া ঐ লোক হাওয়া। সকাল বেলা আবার লাশ কবরে ঢুকাইয়া কবর ঠিক ঠাক কইরা দিছি।
কে এই লোক-আমরা সমস্বরে জানতে চাই। লাশ নিয়ে সে কি করবে।
সে এই জগতের কেউ না। বাচ্চারাতো ফেরেশতা। সে বাচ্চাদের লাশ তার জগতে নিয়া যাইব তারপরে তারমাঝে জান দিব। যদি ভাল মা বাবা হয় তবে একদিন হেই বাচ্চা তার বাবা মার কাছে ফিরা আসব।
এখন পর্যন্ত কি কোন বাচ্চা ঐ জগত থেকে ফিরত এসেছে? আমরা জানতে চাই।
না। এখনকার মানুষ পাপী হইয়া গেছে। তবে সাচ্চা মানুষ হইলে তার বাচ্চা ঠিকই ফিরা আসব।
তখন আমরা বুঝতে পারলাম কেন মাঝে মাঝে বাচ্চাদের নতুন কবর থেকে লাশ গায়েব হয়ে যায়। এ তাহলে সেই সাদা ঘোড়সওয়ারের কান্ড। তখন বুঝতাম না নতুন কবরের মাটি নরম থাকার কারণে অনেক সময় শিয়াল লাশ বের করে ফেলে।
এর পর থেকে সাদা ঘোড়সওয়ার আমাদের কাছে মূর্তিমান এক আতংকে পরিণত হয়। সব সময় মনে হত এই বুঝি আসছে।
একদিন এই জ্বীন মানবের ছেলে হঠাৎ করে মারা গেল। আমরা তাকে পেলাম কবর খুড়তে থাকা অবস্থায়। এই কবরেই তার ছেলেকে শোয়ানো হবে। তাহলে আজ রাতে আবার সেই ঘোড়সওয়ার আসবে জ্বীন মানবের বাচ্চার লাশ নিতে।
পরদিন বিকালে জ্বীন মানবকে দেখলাম হতে আগুন ছাড়া। এই প্রথম আমরা একটি অদ্ভূত জিনিস দেখলাম। জ্বীন মানবের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আরে জ্বীনেরা কি আবার কাঁদে নাকি। তাদের আবার দুঃখ কষ্ট আছে নাকি।
এরমধ্যে আমরা উশখুশ করতে শুরু করেছি গল্প শুনার জন্য। কাল রাতে সেই সাদা ঘোড়ার সওয়ারী এসে ছিল কিনা জানতে। কিন্তু আজ আর জ্বীন মানব কোন গল্প বলল না। তারপর থেকে আমরা প্রতিদিন তাকে ঐ জায়গায় একই রকম বসা অবস্থায় দেখতে পেতাম। তার চোখ দুটি এক দৃষ্টিতে তার ছেলের কবরের দিকে নিবদ্ধ থাকত। কি যেন খুঁজে ফিরত তার দুই চোখ।
সবাই বলত ছেলের মৃত্যুতে জ্বীন মানবের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা জানতাম আসল কারণটা। জ্বীন মানব আসলে সেই সাদা ঘোড় সওয়ারকে খোঁজে ফিরত। যে এসে তার ছেলেকে সাথে করে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ঘোড় সওয়ারী আর আসে না।
Monday, April 13, 2009
টিপস: কিভাবে অল্প সময়ের মধ্য একজন জনপ্রিয় লেখক হবেন।

স্যার, আমায় চিনতে পেরেছেন?
না।
ফাস্ট ইয়ার, সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট। আমি আপনার সবগুলি ক্লাস নিয়মিত এটেন্ড করতাম।
হ্যা, এই বার চিনতে পেরেছি। আমার সবগুলি পরীক্ষায় তুমি নিয়মিত ফেল মারতে। তা এখন কি করছ?
এই স্যার, লেখালেখি করে পেট চালাই আরকি।
আচ্ছা। তাহলে কেউ যদি তোমার পেটের দায়িত্ব নিয়ে নেয় তবে তুমি আর লেখালেখি করবে না।
ঠিক তা নয় স্যার। আমার স্বপ্ন আপনার মত একজন জনপ্রিয় সাই-ফাই লেখক হওয়া।
সাই বাবার নাম শুনে ছিলাম। সাই-ফাই আবার কি জিনিস, ঠিক বুঝলাম না।
ও আল্লা! এটা আধুনিক সায়েন্স ফিকশন। সংক্ষেপে সাই-ফাই। আমার ধারণা সায়েন্সের ছাত্র হওয়াতে আমি এই লাইনে ভাল করব। তাই আপনার কাছে এসেছি একটি ভাল সায়েন্স ফিকশন নামাতে হলে কি কি লাগে তার টিপস জানতে।
তোমার ধারণা বাজারের ফর্দ লেখার মত যে কেউ চাইলেই লেখালেখি শুরু করে দিতে পারে।
স্যার আমার এই স্ক্রিপ্টটা পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন আমি কত জাদরেল লেখক।
ঠিক আছে তুমি রেখে যাও আমি সময় করে দেখব।
স্যার আমি আপনাকে একটু পড়ে শুনাই।
এতো ভালই মুসিবতে পড়া গেল।
-এক দল অভিযাত্রী উত্তর মেরু অভিযানে বের হয়েছে। জুল ভার্নের-ক্যাপটেন হ্যাটেরাস’ নামে এ রকম একটি কাহিনী আছে। আমারটা আরও ভয়াবহ। টেম্পেরেচার-২৯৯ ডিগ্রী সেঃ। যেখানে শূন্য ডিগ্রীতে পানি বরফ হয়ে যায়। তাহলে বুঝেন অবস্থা। কঠিন অবস্থা। সবার অবস্থা কেরাসিন। সব চেয়ে বেশী সমস্যা হচ্ছে পেশাব করা নিয়ে। কেউ পেশাব করতে পারছে না। পেশাব জমে বরফ হয়ে গেছে। তারপর……..
থামো, আমরা ধারণা জুলভার্ন বেঁচে থাকলে তোমার এই কাহিনী শুনে নির্ঘাত সুইসাইড করার চেষ্টা করতেন। পদার্থ বিদ্যার সূত্র অনুযায়ী -২৭৩ ডিগ্রীর নীচে টেম্পেরেচার পৌছতে পারে না। সেখানে টেম্পেরেচার-২৯৯ ডিগ্রী সেঃ তুমি কোথায় পেলে।
স্যার, এবার তাহলে আরেকটা শুনাই। এবার একদল অভিযাত্রী মহাকাশ পর্যবেক্ষণে বের হয়েছে। নভোযান পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে পৌছে গেল মহাকাশে। আমি জুলভার্নের- এ জার্নি টু দ্যা মুন’ গল্পটিকে কাট ছাট করে চালিয়ে দেব। কেউ ধরতে পারবে না। অভিযাত্রীদের মধ্যে রয়েছে এক পাড় মাতাল। এক মুহূর্ত এ্যালকোহল না হলে তার চলে না। পকেট থেকে একটু পর পর বোতল বের করে চুমুক দিচ্ছে। তারপর তারা নামল চন্দ্র পৃষ্টে। চাঁদে হাঁটা খুব কষ্টকর। একেক জনের পা যেন দশ মণ ভারী হয়ে রয়েছে। উঠতেই চায় না।
স্টপ। লেখক চিৎকার দিয়ে উঠেন। আরে আগেতো সায়েন্স, তারপর না ফিকশন। মহাশূন্যে গিয়ে কেউ চুমুক দিয়ে তরল পান করছে এটাতো আমি বাপের জন্মে শুনিনি। কোন নভোযান যখন পৃথিবীর অভিকর্ষ বলকে অতিক্রম করে যাবে তখন মহাশূন্যে থাকা অবস্থায় ইচ্ছা করলেও বোতল থেকে উপুড় করে পানি ঢালা যাবে না। আর চন্দ্র পৃষ্টেও একই জিনিস ঘটবে। অভিকর্ষ বলের কারণে মানুষ তার ওজন হারাবে। অভিযাত্রীরা এমনিতেই নিজেদের ওজনশূন্য অনুভব করবেন। সেই জায়গায় পা দশ মণ ভারী হয়ে আছে-যত্তসব।
স্যার তাহলে আরেকটা শুনাই।
আমাকে এবার মুক্তি দাও। আর তুমি অন্য লাইনে চেষ্টা কর।
স্যার প্লীজ, এই লাস্ট। এবারের কাহিনী অতি আধুনিক । মেট্রিক্স ছবিতো আপনি নিশ্য়ই দেখে থাকবেন। অনেকটা তার ছায়া অবলম্বনে লেখা। আমার গল্পের নায়ক পুলিশ অফিসার ক্রিমিনল ধরতে ছুটে বেরাচ্ছে। পরনে তার বিশেষ পোশাক। নীল প্যান্ট, নীচে লাল আন্ডারওয়্যার দেখা যাচ্ছে।
এক মিনিট। প্যান্টের নীচে তুমি কিভাবে আন্ডারওয়্যার দেখতে পেলে।
এটা আধুনিক স্বচ্ছ পলিমারের প্যান্ট। আর আগের সুপারম্যান প্যান্টের উপরে আন্ডারওয়্যার পরত। কিন্তু আমার আধুনিক সুপার হিরো এত আবুল নয়। পাঠক যখন ভাবতে শুরু করে দিয়েছে পুলিশ ক্রিমিনাল ধাওয়া করছে এ আর এমন নতুন কি। তখনই আমি আসল চমক দেখাব। কারণ আমার হিরো কোন মানুষ নয়। মানুষের মত দেখতে একটি নবম স্কেলের রোবট।
থামো। তুমি এই মুহূর্তে তোমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে এখান থেকে বিদায় হবে। তুমি আর কিছুক্ষণ থাকলে আমাকেও জুলভার্নের মত অকালে বিদায় নিতে হবে। নীল প্যান্টের নীচে, লাল আন্ডারওয়্যার। রঙ্গীন কাপড়ের নীচে অন্য কোন রঙ্গীন কাপড় কাল দেখাবে। আর তুমি দেখছ লাল।
তুমি এই কঠিন লাইনে চেষ্টা বাদ দিয়ে প্রথমে হালকা মানের লেখা দিয়ে শুরু কর। যেমন- বাচ্চাদের ছড়া। প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
ঠিক আছে স্যার, আমি পরবর্তীতে আরও ভাল স্ক্রীপ্ট নিয়ে আপনার কাছে আসব। আমাকে একজন ভাল সাই-ফাই লেখক হতেই হবে।
এক বছর পর। এই লেখক এখনও পুরো দমে তার লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন তিনি বাংলা সিনেমার কাহিনী লেখেন। এখানে যুক্তি-অযৌক্তিক এর কোন বালাই নেই।
নায়িকা রোড এ্যাকসিডেন্টে আহত। হাসপাতালে নেবার সময় নেই। রক্ত দরকার। নায়ক পকেট থেকে নেশা করার সিরিঞ্জ বের করে নিজের শরীরের রক্ত টেনে বের করে নায়িকার শরীরে ঢুকাতে শুরু করল। ব্লাড মেচিং এর কোন দরকার নেই। ভালোবাসার মাঝে রক্তের গ্রুপ কোন সমস্যা নয়। একটু পর নায়িকা চোখ মেলল। চৈত্রের ভর দুপুরে শুরু হল বৃষ্টি। আর তারসাথে বৃষ্টি ভেজা হেভী জোসীলা নাচ-গান।
নায়ক গেয়ে উঠল- নেশা আছে হেরোইনে, নেশা আছে প্যাথেডিনে
তারচাইতেও অধিক নেশা কইন্যা তোমার যৌবন সুধাতে…এ…এ…এ।
নায়িকা গেয়ে উঠল- আমার আঁচল উড়াইয়া নিল মরার বাতাসে
আমার যৌবন ভাসিয়া গেল বৃষ্টির জলে….এ….এ….এ।
এখানে একটি তিন ঘন্টা ছবি চলার মত কাহিনী হলেই চলে। আর কাহিনীরও তেমন কিছু নেই। কয়েকটি হিন্দী-ইংরেজী ছবির কাহিনী কাট-পেস্ট করে দিলেই চলে। বর্তমানে তিনি এখন জনপ্রিয় একজন কাহিনী লেখক।
(সমস্ত ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে এর মিল খুঁজতে চাইলে যে কেউ নিজ দায়িত্বে তা করতে পারেন।)
Tuesday, April 7, 2009
ঈশ্বরের ঠিকানা
মাঝে মাঝে এই হাসপাতালের চার দেয়ালের ভিতরে কেমন দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। শাহেদ খুবই যুক্তিবাদী একটি ছেলে। সে কখনও প্রকৃতির মাঝে রহস্য খোঁজার চেষ্টা করেনি। প্রকৃতিতে রহস্য বলে কোন কিছু নেই। তার বিশ্বাস প্রকৃতিতে কোন কিছু এমনিতেই ঘটে না। সব কিছুর পেছনে একটি কারণ রয়েছে। যুক্তির বাইরে কোন কিছুতে সে কখনই বিশ্বাস করে না।
বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কি এমন কোন শক্তি লুকিয়ে আছে যা এই মহাবিশ্বের সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তার মতে এটা একদমই বাজে কথা। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন একটি বিন্দু থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। তারপর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র আর সব কিছুর। যদিও এই থিওরি তার মনে জন্ম দিয়েছে অনেক অজানা সব প্রশ্নের। বিগব্যাং এর পূর্বে কি ছিল? প্রাণের সৃস্টি কিভাবে হল? নিজে নিজে যদি প্রাণের সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে ল্যাবরেটরিতে কেন আমরা প্রাণ সৃষ্টি করতে পারছি না? তবে তার বিশ্বাস একদিন মানুষ এই সব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজে বের করে ফেলবে। তখন আর সৃষ্টির রহস্য বলে কোন কিছু থাকবে না।
তার মতে ভাল মন্দের শিক্ষা দেয়ার জন্য ও সৎ জীবন যাপনের জন্য ধর্মগ্রন্থগুলি মানুষই বিভিন্ন সময়ে তৈরী করে গেছে। এখানে যে সৃষ্টিকর্তার কথা বলা হয়েছে তা শুধুই মানুষকে ভয় দেখাবার জন্য। যাতে করে তারা অন্যায় কাজ করতে ভয় পায়।
ধীরে ধীরে শাহেদের জীবন রেখা সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তার সময় বেঁধে দিয়েছেন। এগিয়ে আসছে মৃত্যু। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষ অমর নয়, মরণশীল। শাহেদেরও তা ভাল করে জানা আছে। মরতেতো হবেই, একদিন আগে আর একদিন পরে।
তারপরও মাঝে মাঝে মন বিদ্রোহী হয়ে উঠে। মনে হয় যদি এই বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কোন এক সুপার পাওয়ার থাকত, যে সব কিছুই করতে পারত তবে শাহেদ তার কাছে আরও কয়েকটা দিন সময় চাইতে পারত। ধুর, কি সব বোকা আস্তিকবাদীদের মতো সে চিন্তা ভাবনা করতে শুরু করেছে। সৃষ্টিকর্তা বলতে কোন কিছু নেই। মানুষ তার কল্পনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তাকে তৈরী করে নিয়েছে। সে নিজে একজন ঘোর নাস্তিকবাদী। তাহলে কেন সে এই সব যুক্তি ছাড়া জিনিস কল্পনা করবে। প্রকৃতির সব কিছু তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। এখানে কারও ইচ্ছা অনিচ্ছায় কিছু যায় আসে না।
আজ বাইরে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি হচ্ছে। শাহেদ হাসপাতালের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। নিঃশ্বাসে ভেসে আসছে ভেজা মাটির ঘ্রাণ। গাছের পাতাগুলি সব বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। আহা কত সাধারণ, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে কি অপূর্ব একটি দৃশ্য। ইচ্ছা করলেও সে আজ বৃষ্টির পানি ছুতে পারবে না। ক্যান্সার তার সারা শরীরে বাসা বেধে ফেলেছে। এখন সে বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। অনেক চেষ্টা করে তার হাতটুকু সামনে বাড়িয়ে দেয়। সে জানে এতদূর থেকে সে বৃষ্টি স্পর্শ করতে পারবে না। ধপ করে তার হাতটা বিছানার উপর এলিয়ে পড়ে ।
একসময় শাহেদের সব চিন্তা ভাবনা কেমন এলোমেলো হয়ে আসে। মাথায় আবার ভোতা যন্ত্রনা শুরু হয়। নিজের অজান্তেই মনে মনে বলতে থাকে-হে মহাশক্তি, আমাকে একবার শুধু ঐ জানালা পর্যন্ত পৌছার শক্তিটুকু দান কর। প্রাণপন চেষ্টা করে সে উঠে বসে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে জানালার দিকে। অনেক দিন পর আজ সে উঠে দাঁড়াতে পারছে। আরেকটু, তাহলেই সে পৌছে যেতে পারবে। অবশেষে সে পৌছতে পারে। শাহেদ চমকে উঠে। তাহলে কি কোন অদৃশ্য শক্তি তার মনের ইচ্ছা পূরণ করে চলেছে। শাহেদ হাত বাড়িয়ে দেয় জানালার বাইরে। কত দিন পর আজ বৃষ্টির স্পর্শ অনুভব করছে। আহ্ কি শান্তি। শাহেদের দুই চোখ ভিজে আসে। হায়! বেঁচে থাকা এত আনন্দের কেন।
ইস্ এখন যদি কোন মিরাকল ঘটত। ঐশ্বরিক কোন শক্তির কল্যাণে সে যদি হঠাৎ করে ভাল হয়ে যেত। তবে কি তার এত দিনের বিশ্বাসে চিড় ধরতে আরম্ভ করেছে। শাহেদ মাথা থেকে এ ধরণের চিন্তা সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। ঈশ্বর বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। এ সব শুধুই মানুষের অবচেতন মনের কল্পনা। কিন্তু শাহেদের চোখ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে কি যেন খোঁজে ফিরে। আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে তার দৃষ্টি চলে যায় দূরে, আরো দূরে। এই বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কি তাহলে লুকিয়ে রয়েছে এমন কোন ঐশ্বরিক শক্তি বা ঈশ্বর যিনি সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যার জাদুর স্পর্শে সব কিছু বদলে যেতে পারে।
শাহেদ চোখ বন্ধ করে ফেলে। ফিস ফিস করে বলতে থাকে-হে অজানা ঐশ্বরিক শক্তি, আমাকে আর কয়েকটা দিনের আয়ু দান কর। আমি এই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর কয়েকটি দিন দেখে যেতে চাই।
শাহেদ মারা যায় এর কিছুক্ষণ পরই । একজন ক্যান্সার আক্রান্ত লোকের স্বাভাবিক মৃত্যু। কোন মিরাকল ঘটেনি । প্রকৃতিতে সব কিছু তার মত করে ঘটে। প্রকৃতি তার সব রহস্য মানুষের কাছে প্রকাশ করে না। স্রষ্টা সব সময় তার সৃষ্টি নিজের মত করে পরিচালনা করেন। স্রষ্টা তার সব ক্ষমতা মানুষকে দেখাতে পছন্দ করেন না।
(আমি সব সময় দুইটা বিষয় সযত্নে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক বির্তক, অপরটি ধর্মীয় বির্তক। দুটি ক্ষেত্রেই লোকজন খুব আক্রমণাত্নক হয়ে উঠে। মুহুর্তেই পক্ষে বিপক্ষে দুটি দল তৈরী হয়ে যায়।
আমি কোন বির্তক করার জন্য এই পোস্ট দিচ্ছি না। আমার কথা হচ্ছে মতভেদ থাকতেই পারে। সেই পুরনো কৌতুকের কথা মনে পড়ছে।
জজ আসামীকে বলছেন- তোমাকে অন্তত ৫ জন লোক চুরি করতে দেখেছে।
আসামী উত্তর দিচ্ছে-স্যার, আমি অন্তত ৫০ জনকে এই কোর্টে হাজির করতে পারব যারা আমাতে চুরি করতে দেখেনি।
পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি পাল্টা যুক্তি থাকবেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে নিজস্ব দর্শন । আমি আমার দর্শন অন্যের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারি না। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আমার দর্শন সাদরে গ্রহণ করছে।
আমরা বিজ্ঞানের মতবাদ বিশ্বাস করি না। আবার পরক্ষণেই জানতে চাই- আকাশ কেন নীল।
আমরা সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু যখন বিপদে পড়ছি, তখন আবার সেই সৃষ্টিকর্তার কাছেই প্রার্থনা করছি আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য।
এখানে দুইটাকেই পাশাপাশি চলতে দেয়া যায়। একটিকে অপরটির প্রতিপক্ষ ভাবার কোন কারণ নেই। বিজ্ঞান হোক আর ধর্মই হোক প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতবাদ রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব যুক্তি। আমার মতবাদই ঠিক, তোমারটা ভুল এমন ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিনিয়তই আমরা নতুন কিছু শিখছি। তারপরও কি কেউ দাবী করতে পারবেন যে তিনি সৃষ্টির সমস্ত রহস্য জেনে বসে আছেন। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বব্রম্মান্ডের সব কিছুর ব্যখা কি মানুষ আদৌ করতে পেরেছে। যদি না পারে তবে সেই দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যেদিন আমরা বলতে পারব সৃষ্টির রহস্য বলতে আসলে কোন কিছু নেই। তার আগে তোমার ধর্ম অযৌক্তিক আর আমার বিজ্ঞান যুক্তি সম্পন্ন এমন বলার কোন অধিকার আমার নেই।)
বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কি এমন কোন শক্তি লুকিয়ে আছে যা এই মহাবিশ্বের সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তার মতে এটা একদমই বাজে কথা। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন একটি বিন্দু থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। তারপর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র আর সব কিছুর। যদিও এই থিওরি তার মনে জন্ম দিয়েছে অনেক অজানা সব প্রশ্নের। বিগব্যাং এর পূর্বে কি ছিল? প্রাণের সৃস্টি কিভাবে হল? নিজে নিজে যদি প্রাণের সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে ল্যাবরেটরিতে কেন আমরা প্রাণ সৃষ্টি করতে পারছি না? তবে তার বিশ্বাস একদিন মানুষ এই সব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজে বের করে ফেলবে। তখন আর সৃষ্টির রহস্য বলে কোন কিছু থাকবে না।
তার মতে ভাল মন্দের শিক্ষা দেয়ার জন্য ও সৎ জীবন যাপনের জন্য ধর্মগ্রন্থগুলি মানুষই বিভিন্ন সময়ে তৈরী করে গেছে। এখানে যে সৃষ্টিকর্তার কথা বলা হয়েছে তা শুধুই মানুষকে ভয় দেখাবার জন্য। যাতে করে তারা অন্যায় কাজ করতে ভয় পায়।
ধীরে ধীরে শাহেদের জীবন রেখা সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তার সময় বেঁধে দিয়েছেন। এগিয়ে আসছে মৃত্যু। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষ অমর নয়, মরণশীল। শাহেদেরও তা ভাল করে জানা আছে। মরতেতো হবেই, একদিন আগে আর একদিন পরে।
তারপরও মাঝে মাঝে মন বিদ্রোহী হয়ে উঠে। মনে হয় যদি এই বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কোন এক সুপার পাওয়ার থাকত, যে সব কিছুই করতে পারত তবে শাহেদ তার কাছে আরও কয়েকটা দিন সময় চাইতে পারত। ধুর, কি সব বোকা আস্তিকবাদীদের মতো সে চিন্তা ভাবনা করতে শুরু করেছে। সৃষ্টিকর্তা বলতে কোন কিছু নেই। মানুষ তার কল্পনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তাকে তৈরী করে নিয়েছে। সে নিজে একজন ঘোর নাস্তিকবাদী। তাহলে কেন সে এই সব যুক্তি ছাড়া জিনিস কল্পনা করবে। প্রকৃতির সব কিছু তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। এখানে কারও ইচ্ছা অনিচ্ছায় কিছু যায় আসে না।
আজ বাইরে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি হচ্ছে। শাহেদ হাসপাতালের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। নিঃশ্বাসে ভেসে আসছে ভেজা মাটির ঘ্রাণ। গাছের পাতাগুলি সব বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। আহা কত সাধারণ, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে কি অপূর্ব একটি দৃশ্য। ইচ্ছা করলেও সে আজ বৃষ্টির পানি ছুতে পারবে না। ক্যান্সার তার সারা শরীরে বাসা বেধে ফেলেছে। এখন সে বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। অনেক চেষ্টা করে তার হাতটুকু সামনে বাড়িয়ে দেয়। সে জানে এতদূর থেকে সে বৃষ্টি স্পর্শ করতে পারবে না। ধপ করে তার হাতটা বিছানার উপর এলিয়ে পড়ে ।
একসময় শাহেদের সব চিন্তা ভাবনা কেমন এলোমেলো হয়ে আসে। মাথায় আবার ভোতা যন্ত্রনা শুরু হয়। নিজের অজান্তেই মনে মনে বলতে থাকে-হে মহাশক্তি, আমাকে একবার শুধু ঐ জানালা পর্যন্ত পৌছার শক্তিটুকু দান কর। প্রাণপন চেষ্টা করে সে উঠে বসে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে জানালার দিকে। অনেক দিন পর আজ সে উঠে দাঁড়াতে পারছে। আরেকটু, তাহলেই সে পৌছে যেতে পারবে। অবশেষে সে পৌছতে পারে। শাহেদ চমকে উঠে। তাহলে কি কোন অদৃশ্য শক্তি তার মনের ইচ্ছা পূরণ করে চলেছে। শাহেদ হাত বাড়িয়ে দেয় জানালার বাইরে। কত দিন পর আজ বৃষ্টির স্পর্শ অনুভব করছে। আহ্ কি শান্তি। শাহেদের দুই চোখ ভিজে আসে। হায়! বেঁচে থাকা এত আনন্দের কেন।
ইস্ এখন যদি কোন মিরাকল ঘটত। ঐশ্বরিক কোন শক্তির কল্যাণে সে যদি হঠাৎ করে ভাল হয়ে যেত। তবে কি তার এত দিনের বিশ্বাসে চিড় ধরতে আরম্ভ করেছে। শাহেদ মাথা থেকে এ ধরণের চিন্তা সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। ঈশ্বর বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। এ সব শুধুই মানুষের অবচেতন মনের কল্পনা। কিন্তু শাহেদের চোখ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে কি যেন খোঁজে ফিরে। আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে তার দৃষ্টি চলে যায় দূরে, আরো দূরে। এই বিশ্বব্রম্মান্ডের কোথাও কি তাহলে লুকিয়ে রয়েছে এমন কোন ঐশ্বরিক শক্তি বা ঈশ্বর যিনি সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যার জাদুর স্পর্শে সব কিছু বদলে যেতে পারে।
শাহেদ চোখ বন্ধ করে ফেলে। ফিস ফিস করে বলতে থাকে-হে অজানা ঐশ্বরিক শক্তি, আমাকে আর কয়েকটা দিনের আয়ু দান কর। আমি এই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর কয়েকটি দিন দেখে যেতে চাই।
শাহেদ মারা যায় এর কিছুক্ষণ পরই । একজন ক্যান্সার আক্রান্ত লোকের স্বাভাবিক মৃত্যু। কোন মিরাকল ঘটেনি । প্রকৃতিতে সব কিছু তার মত করে ঘটে। প্রকৃতি তার সব রহস্য মানুষের কাছে প্রকাশ করে না। স্রষ্টা সব সময় তার সৃষ্টি নিজের মত করে পরিচালনা করেন। স্রষ্টা তার সব ক্ষমতা মানুষকে দেখাতে পছন্দ করেন না।
(আমি সব সময় দুইটা বিষয় সযত্নে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক বির্তক, অপরটি ধর্মীয় বির্তক। দুটি ক্ষেত্রেই লোকজন খুব আক্রমণাত্নক হয়ে উঠে। মুহুর্তেই পক্ষে বিপক্ষে দুটি দল তৈরী হয়ে যায়।
আমি কোন বির্তক করার জন্য এই পোস্ট দিচ্ছি না। আমার কথা হচ্ছে মতভেদ থাকতেই পারে। সেই পুরনো কৌতুকের কথা মনে পড়ছে।
জজ আসামীকে বলছেন- তোমাকে অন্তত ৫ জন লোক চুরি করতে দেখেছে।
আসামী উত্তর দিচ্ছে-স্যার, আমি অন্তত ৫০ জনকে এই কোর্টে হাজির করতে পারব যারা আমাতে চুরি করতে দেখেনি।
পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি পাল্টা যুক্তি থাকবেই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে নিজস্ব দর্শন । আমি আমার দর্শন অন্যের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে পারি না। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আমার দর্শন সাদরে গ্রহণ করছে।
আমরা বিজ্ঞানের মতবাদ বিশ্বাস করি না। আবার পরক্ষণেই জানতে চাই- আকাশ কেন নীল।
আমরা সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু যখন বিপদে পড়ছি, তখন আবার সেই সৃষ্টিকর্তার কাছেই প্রার্থনা করছি আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য।
এখানে দুইটাকেই পাশাপাশি চলতে দেয়া যায়। একটিকে অপরটির প্রতিপক্ষ ভাবার কোন কারণ নেই। বিজ্ঞান হোক আর ধর্মই হোক প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতবাদ রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব যুক্তি। আমার মতবাদই ঠিক, তোমারটা ভুল এমন ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিনিয়তই আমরা নতুন কিছু শিখছি। তারপরও কি কেউ দাবী করতে পারবেন যে তিনি সৃষ্টির সমস্ত রহস্য জেনে বসে আছেন। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বব্রম্মান্ডের সব কিছুর ব্যখা কি মানুষ আদৌ করতে পেরেছে। যদি না পারে তবে সেই দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যেদিন আমরা বলতে পারব সৃষ্টির রহস্য বলতে আসলে কোন কিছু নেই। তার আগে তোমার ধর্ম অযৌক্তিক আর আমার বিজ্ঞান যুক্তি সম্পন্ন এমন বলার কোন অধিকার আমার নেই।)
Monday, March 2, 2009
না ভুলতে পারা কষ্টগুলি
আমরা বাঙালীদের খুব বড় গুণ হচ্ছে আমরা যে কোন ধাক্কা খুব সহজে কাটিয়ে উঠতে পারি। সিডরে আমদের সব কিছু ধ্বংস হয়ে যায়। তারপরও আমরা বেঁচে থাকি, আবার আশায় বুক বাঁধি। প্রকৃতি হয়ত এভাবেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে। যে কোন শোক মানুষ বেশী দিন মনে রাখতে পারে না।
বর্তমান সময়ে গোটা জাতি গভীর শোকে নিমজ্জিত। সাইক্লোনে হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ে। আমরা মনকে সান্ত্বনা দিতে পারি। কিন্তু এবার যা ঘটেছে তা ঠান্ডা মাথায় খুন ছাড়া আর কিছুই নয়। মিডিয়াগুলি সব খবর প্রচারে ব্যস্ত। ধীরে ধীরে এক সময় সব স্তিমিত হয়ে আসবে। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে দ্বিতীয় পাতায়, তারপর শেষ পাতায়, এক সময় সবাই ভুলে যাবে এদের কথা।
কিন্তু যে পরিবারগুলি তাদের আপন জনদের হারিয়েছে, যাদের আপন জনরা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে এটাও তাদের জানা নাই। তাদের কি হবে। তারা কি এই অপ্রত্যাশিত শোককে কোন দিন ভুলতে পারবে।
যে স্ত্রী তার স্বামীকে, যে মা তার সন্তানকে, যে বোন তার ভাইকে, যে সন্তান তার বাবকে হারিয়েছে সে কি এই শোক কোনদিন কাটিয়ে উঠতে পারবে। সব কিছু ভুলে কি আবার সব আগের মত হয়ে যাবে।
যারা মারা গেছে তারা কি আর্মি না বিডিআর সেই বিতর্কে গিয়ে কোন লাভ নেই। এদের এক মাত্র পরিচয় এরা সবাই বাঙালী। আমাদের দেশের সন্তান। যারা বেঁচে গেছে তার মধ্য থেকে অনেককে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এদের মধ্য থেকে অনেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। অপরাধীদের সাথে মারা পড়বে অনেক নিরীহ বিডিআর। আবার পার পেয়ে যাবে এমন অনেক লোক যারা এদের কে এই অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সবাই এই বিদ্রোহের সাথে জড়িত নয়। কারণ বিদ্রোহীদের সাথে যারা যোগ দিতে রাজী হয়নি এমন অনেক বিডিআরকে বিদ্রোহীরা মেরে ফেলেছে। তার মানে সবাই এখানে অপরাধী নয়। তাদের পরিবার এক অনিম্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কি হবে তাদের প্রিয় জনের। প্রতিটি পরিবারে একই চিত্র সেটা আর্মি হোক আর বিডিআর হোক।
সন্তান মার কাছে জানতে চাচ্ছে -মা, বাবা কখন আসবে। এই প্রশ্নের কোন উত্তর মার কাছে নেই।
এই মা কিভাবে তার বাচ্চাকে বলবেন-তোমার বাবা আর কখনও ফিরে আসবে না।
যে মা উদ্বিগ্ন-বিচারে তার ছেলের কি শাস্তি হবে। সেই মাকে কে আশার বাণি শুনাবে।
এখন দরকার ঐ সব অসহায় পরিবারের পাঁশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। তাদের আপন জনদের আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু এখন তাদের দরকার মমতার স্পর্শ। পারিবারিক, অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। এটা আর্মি হোক আর বিডিআর পরিবার হোক তাতে কি যায় আসে। কেউ যদি অন্যায় করে থাকে তার পরিবার কেন তা ভোগ করবে। তারাতো কোন পাপ করেনি। মা তার ছেলেকে, স্ত্রী তার স্বামীকে, ছেলে তার বাবাকে, বোন তার ভাইকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তাতেতো কোন খাদ ছিল না। তাহলে তাদের কথা কেন আমরা ভুলে যাব।
সবাই ব্যস্ত কতজন আর্মি আর কতজন বিডিআর মারা গেল সেই খবর সংগ্রহে। পত্রিকার পাতায়, মিডিয়াতে বিভৎস সব লাশের ছবি আর তার বর্ণনা। কে কার আগে কয়টা বেশী লাশের ছবি দেখাতে পারছে তার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। রিপোর্টাররা প্রাণের ঝুকি নিয়ে খবর সংগ্রহ করে থাকেন। এর জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এধরণের ছবি ছাপানোর আগে আমি মনে করি সম্পাদককে আরেকটু দায়িত্বশীল ও সচেতন হবার দরকার। তা যেন শুধুই পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য না হয়। কারণ সব কিছুর উপর হচ্ছে মানবতা। কারণ একটি মৃতদেহের ছবি আমাদের কাছে শুধুই একটি লাশের ছবি। কিন্তু ঐ পরিবারের কাছে তা কখনও না ভুলতে পারা তীব্র যন্ত্রণার ছবি। ঐ ছবি দেখে তাদের প্রিয়জনের কেমন কষ্ট হচ্ছে তা আমাদের একটু বোঝা উচিত।
বর্তমান সময়ে গোটা জাতি গভীর শোকে নিমজ্জিত। সাইক্লোনে হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ে। আমরা মনকে সান্ত্বনা দিতে পারি। কিন্তু এবার যা ঘটেছে তা ঠান্ডা মাথায় খুন ছাড়া আর কিছুই নয়। মিডিয়াগুলি সব খবর প্রচারে ব্যস্ত। ধীরে ধীরে এক সময় সব স্তিমিত হয়ে আসবে। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে দ্বিতীয় পাতায়, তারপর শেষ পাতায়, এক সময় সবাই ভুলে যাবে এদের কথা।
কিন্তু যে পরিবারগুলি তাদের আপন জনদের হারিয়েছে, যাদের আপন জনরা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে এটাও তাদের জানা নাই। তাদের কি হবে। তারা কি এই অপ্রত্যাশিত শোককে কোন দিন ভুলতে পারবে।
যে স্ত্রী তার স্বামীকে, যে মা তার সন্তানকে, যে বোন তার ভাইকে, যে সন্তান তার বাবকে হারিয়েছে সে কি এই শোক কোনদিন কাটিয়ে উঠতে পারবে। সব কিছু ভুলে কি আবার সব আগের মত হয়ে যাবে।
যারা মারা গেছে তারা কি আর্মি না বিডিআর সেই বিতর্কে গিয়ে কোন লাভ নেই। এদের এক মাত্র পরিচয় এরা সবাই বাঙালী। আমাদের দেশের সন্তান। যারা বেঁচে গেছে তার মধ্য থেকে অনেককে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এদের মধ্য থেকে অনেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। অপরাধীদের সাথে মারা পড়বে অনেক নিরীহ বিডিআর। আবার পার পেয়ে যাবে এমন অনেক লোক যারা এদের কে এই অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সবাই এই বিদ্রোহের সাথে জড়িত নয়। কারণ বিদ্রোহীদের সাথে যারা যোগ দিতে রাজী হয়নি এমন অনেক বিডিআরকে বিদ্রোহীরা মেরে ফেলেছে। তার মানে সবাই এখানে অপরাধী নয়। তাদের পরিবার এক অনিম্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কি হবে তাদের প্রিয় জনের। প্রতিটি পরিবারে একই চিত্র সেটা আর্মি হোক আর বিডিআর হোক।
সন্তান মার কাছে জানতে চাচ্ছে -মা, বাবা কখন আসবে। এই প্রশ্নের কোন উত্তর মার কাছে নেই।
এই মা কিভাবে তার বাচ্চাকে বলবেন-তোমার বাবা আর কখনও ফিরে আসবে না।
যে মা উদ্বিগ্ন-বিচারে তার ছেলের কি শাস্তি হবে। সেই মাকে কে আশার বাণি শুনাবে।
এখন দরকার ঐ সব অসহায় পরিবারের পাঁশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। তাদের আপন জনদের আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু এখন তাদের দরকার মমতার স্পর্শ। পারিবারিক, অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। এটা আর্মি হোক আর বিডিআর পরিবার হোক তাতে কি যায় আসে। কেউ যদি অন্যায় করে থাকে তার পরিবার কেন তা ভোগ করবে। তারাতো কোন পাপ করেনি। মা তার ছেলেকে, স্ত্রী তার স্বামীকে, ছেলে তার বাবাকে, বোন তার ভাইকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তাতেতো কোন খাদ ছিল না। তাহলে তাদের কথা কেন আমরা ভুলে যাব।
সবাই ব্যস্ত কতজন আর্মি আর কতজন বিডিআর মারা গেল সেই খবর সংগ্রহে। পত্রিকার পাতায়, মিডিয়াতে বিভৎস সব লাশের ছবি আর তার বর্ণনা। কে কার আগে কয়টা বেশী লাশের ছবি দেখাতে পারছে তার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। রিপোর্টাররা প্রাণের ঝুকি নিয়ে খবর সংগ্রহ করে থাকেন। এর জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এধরণের ছবি ছাপানোর আগে আমি মনে করি সম্পাদককে আরেকটু দায়িত্বশীল ও সচেতন হবার দরকার। তা যেন শুধুই পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য না হয়। কারণ সব কিছুর উপর হচ্ছে মানবতা। কারণ একটি মৃতদেহের ছবি আমাদের কাছে শুধুই একটি লাশের ছবি। কিন্তু ঐ পরিবারের কাছে তা কখনও না ভুলতে পারা তীব্র যন্ত্রণার ছবি। ঐ ছবি দেখে তাদের প্রিয়জনের কেমন কষ্ট হচ্ছে তা আমাদের একটু বোঝা উচিত।
Sunday, February 22, 2009
ভাষা সৈনিক ও আমাদের এই প্রজন্ম

আলম সাহেব উনার কর্মজীবন থেকে রিটায়ার্ড করেছেন। প্রতিদিন সকাল বেলা তিনি পার্কে হাঁটতে বের হন। সারাজীবন কাজের মধ্যে থেকেছেন। কর্মহীন জীবন তিনি মোটেও উপভোগ করতে পারছেন না। খালি মনে হয় এই বুঝি বিদায়ের ঘন্টা বেজে গেছে। ছোট ছোট কিছু বাচ্চা ছেলে প্রতিদিন পার্কে কাগজ কুড়াতে আসে। পার্কের বেঞ্চে বসে তিনি তাদের কাজ দেখে অনেকটা সময় কাটান। এক সময় নিজের অজান্তেই এদের সাথে উনার সখ্য গড়ে উঠে। ঠিক করেন এদের তিনি পড়তে শেখাবেন। প্রথম প্রথম এরা এটাকে নতুন একটি খেলা ভেবে মজা পায়। তারপর খেলাচ্ছলেই একসময় তারা শিখতে শুরু করে। আলম সাহেব জানেন তিনি এদের বেশী দূর নিয়ে যেতে পারবেন না। সেই সার্মথ্য উনার নেই। তারপরও তিনি চান অন্তত বাংলা ভাষায় এদের হাতেখড়ি টুকু হোক।
শহীদ মিনার চত্বরটা যেন বহু দিন পর আবার প্রাণ ফিরে পেল। চারদিক ধুয়ে মুছে ঝকঝকে তকতকে করা হয়েছে। আর করা হবে না কেন। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারী। অনেক গণ্য মান্য লোকজন, নেতা, নেত্রীরা আসবেন এখানে পুস্প অর্পণ করতে। সারা বছর এখানে জমে থাকে ফেরীওয়ালা, ছিনতাইকারী আর মাদক সেবীদের আড্ডা। তবে আজকের কথা ভিন্ন। কাল থেকে আবার শহীদ চত্বর তার পূর্বের রূপে ফিরে যাবে।
আলম সাহেব উনার শিষ্যদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন। কিন্তু ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয় না। সিকিউরিটি গার্ড পথেই উনাকে আটকে দেয়। একটু পর প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রী আসবেন এখানে ফুল দিতে। অতএব এখন সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষেধ।
ভোর হতেই শুরু হয় হুড়াহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি। কে কার আগে খালি পায়ে ফুল দেবে তারই যেন প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। যে রাজনৈতিক দল সবার আগে এখানে এসে ফুল দিতে পারবে বুঝতে হবে এরাই হচ্ছে আসল ভাষা প্রেমিক। বাংলা ভাষা নিয়ে আজ এরা যে বক্তৃতা দেবেন তা শুনলে যে কারো চোখ ভিজে আসবে। এদের ছেলে মেয়েদের অবশ্য এরা পড়াবেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। কারণ প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে হলে জানতে হবে ইংরেজী। বাংলা শিখে কি লাভ! এখনকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলির নিয়ম আবার বেশ কড়া। স্কুলে ভুলেও ইংরেজী ছাড়া বাংলায় কথা বলা যাবে না।
আলম সাহেব ফুল না দিয়ে ফিরে চলে আসেন। উনার মনে হয় শুধু বছরের একটি দিনে আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা সৈনিকদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। যারা এ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে এ দিনটিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃ ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে আমরা তাদের প্রতি খুব দায় সারা ভাবে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। অথচ আমরা কত সৌভাগ্যবান জাতি যাদের রাষ্ট্রে এমন একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের আর কোন দেশে কেউ তাদের মায়ের ভাষার জন্য প্রান দিয়েছে বলে উনার জানা নাই।
ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরও আমাদের দেশে শিক্ষার হারের খুব একটা অগ্রগতি নেই। শুদ্ধ করে এখনও অনেকে বাংলা বলতে লিখতে জানে না। সাইনবোর্ডগুলিতে ভুল বাংলার ছড়াছড়ি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাংলা বাদ দিয়ে ইংরেজী শিক্ষার চর্চা চলছে। আজকের সমাজে অনেকে শুদ্ধ ইংরেজী বলতে না পারলে লজ্জিত হন। অথচ শুদ্ধ বাংলা না বলতে পারার জন্য কাউকে তিনি লজ্জিত হতে দেখেননি। এখনকার প্রজন্ম হচ্ছে ডি অর্থাৎ জিজুস নামক নতুন এক প্রজন্ম। এরা বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে নতুন এক ভাষায় কথা বলে। এখনকার বাচ্চারা ঠাকুরমার ঝুলি শুনতে পচ্ছন্দ করে না। তাদের প্রিয় চরিত্র হ্যারি পটার। এক সময় ছাত্ররা তাদের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। আজও ছাত্ররা প্রাণ দিচ্ছে তবে ভাষার জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখলের লড়াইয়ে। একুশে বই মেলায় বিদেশী ভাষার লেখকের বইয়ের ছড়াছড়ি। বাড়ীতে আমরা হিন্দি সিরিয়াল দেখি আর নাটকের চরিত্রগুলির দুঃখ দেখে চোখের জল ফেলি।
বিদেশী ভাষা শিখা নিয়ে উনার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা যখন নিজের ভাষা সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে বিদেশী সংস্কৃতিকে অনুসরণ করতে শুরু করি তখন তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। এ যেন নিজের মাকে বাদ দিয়ে বিমাতার প্রতি ভালোবাসা দেখানো হচ্ছে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আগে নিজের ভাষা সংস্কৃতিকে জানুক বুঝুক। তারপর বিদেশী ভাষা সংস্কুতির শিক্ষা লাভ করুক। ভাষা সৈনিকরা আমাদের কাছে ফুল চান না। তারা চান যে ভাষার জন্য তারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন দেশের প্রতিটি মানুষ সেই ভাষায় মিক্ষা লাভ করুক। আমরা যদি দেশের একটি নিরক্ষর লোককেও অক্ষর শিক্ষা দিতে পারি তবে ভাষা সৈনিকদের প্রতি কিছুটা হলেও আমরা আমাদের ঋণ শোধ করতে পারব।
যেদিন দেশে একটিও নিরক্ষর লোক থাকবে না, সবাই শুদ্ধ ভাবে বাংলা ভাষা লিখতে, পড়তে, বলতে জানব সেদিন অন্তত আমরা বলতে পারব- হে, ভাষা সৈনিক আমাদের এ প্রজন্ম কিছুটা হলেও তোমাদের ঋণ শোধ করতে পেরেছে।
শহীদ মিনার চত্বরটা যেন বহু দিন পর আবার প্রাণ ফিরে পেল। চারদিক ধুয়ে মুছে ঝকঝকে তকতকে করা হয়েছে। আর করা হবে না কেন। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারী। অনেক গণ্য মান্য লোকজন, নেতা, নেত্রীরা আসবেন এখানে পুস্প অর্পণ করতে। সারা বছর এখানে জমে থাকে ফেরীওয়ালা, ছিনতাইকারী আর মাদক সেবীদের আড্ডা। তবে আজকের কথা ভিন্ন। কাল থেকে আবার শহীদ চত্বর তার পূর্বের রূপে ফিরে যাবে।
আলম সাহেব উনার শিষ্যদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন। কিন্তু ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয় না। সিকিউরিটি গার্ড পথেই উনাকে আটকে দেয়। একটু পর প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রী আসবেন এখানে ফুল দিতে। অতএব এখন সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষেধ।
ভোর হতেই শুরু হয় হুড়াহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি। কে কার আগে খালি পায়ে ফুল দেবে তারই যেন প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। যে রাজনৈতিক দল সবার আগে এখানে এসে ফুল দিতে পারবে বুঝতে হবে এরাই হচ্ছে আসল ভাষা প্রেমিক। বাংলা ভাষা নিয়ে আজ এরা যে বক্তৃতা দেবেন তা শুনলে যে কারো চোখ ভিজে আসবে। এদের ছেলে মেয়েদের অবশ্য এরা পড়াবেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। কারণ প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে হলে জানতে হবে ইংরেজী। বাংলা শিখে কি লাভ! এখনকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলির নিয়ম আবার বেশ কড়া। স্কুলে ভুলেও ইংরেজী ছাড়া বাংলায় কথা বলা যাবে না।
আলম সাহেব ফুল না দিয়ে ফিরে চলে আসেন। উনার মনে হয় শুধু বছরের একটি দিনে আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা সৈনিকদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। যারা এ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে এ দিনটিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃ ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে আমরা তাদের প্রতি খুব দায় সারা ভাবে আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। অথচ আমরা কত সৌভাগ্যবান জাতি যাদের রাষ্ট্রে এমন একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের আর কোন দেশে কেউ তাদের মায়ের ভাষার জন্য প্রান দিয়েছে বলে উনার জানা নাই।
ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরও আমাদের দেশে শিক্ষার হারের খুব একটা অগ্রগতি নেই। শুদ্ধ করে এখনও অনেকে বাংলা বলতে লিখতে জানে না। সাইনবোর্ডগুলিতে ভুল বাংলার ছড়াছড়ি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাংলা বাদ দিয়ে ইংরেজী শিক্ষার চর্চা চলছে। আজকের সমাজে অনেকে শুদ্ধ ইংরেজী বলতে না পারলে লজ্জিত হন। অথচ শুদ্ধ বাংলা না বলতে পারার জন্য কাউকে তিনি লজ্জিত হতে দেখেননি। এখনকার প্রজন্ম হচ্ছে ডি অর্থাৎ জিজুস নামক নতুন এক প্রজন্ম। এরা বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে নতুন এক ভাষায় কথা বলে। এখনকার বাচ্চারা ঠাকুরমার ঝুলি শুনতে পচ্ছন্দ করে না। তাদের প্রিয় চরিত্র হ্যারি পটার। এক সময় ছাত্ররা তাদের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। আজও ছাত্ররা প্রাণ দিচ্ছে তবে ভাষার জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখলের লড়াইয়ে। একুশে বই মেলায় বিদেশী ভাষার লেখকের বইয়ের ছড়াছড়ি। বাড়ীতে আমরা হিন্দি সিরিয়াল দেখি আর নাটকের চরিত্রগুলির দুঃখ দেখে চোখের জল ফেলি।
বিদেশী ভাষা শিখা নিয়ে উনার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা যখন নিজের ভাষা সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে বিদেশী সংস্কৃতিকে অনুসরণ করতে শুরু করি তখন তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। এ যেন নিজের মাকে বাদ দিয়ে বিমাতার প্রতি ভালোবাসা দেখানো হচ্ছে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আগে নিজের ভাষা সংস্কৃতিকে জানুক বুঝুক। তারপর বিদেশী ভাষা সংস্কুতির শিক্ষা লাভ করুক। ভাষা সৈনিকরা আমাদের কাছে ফুল চান না। তারা চান যে ভাষার জন্য তারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন দেশের প্রতিটি মানুষ সেই ভাষায় মিক্ষা লাভ করুক। আমরা যদি দেশের একটি নিরক্ষর লোককেও অক্ষর শিক্ষা দিতে পারি তবে ভাষা সৈনিকদের প্রতি কিছুটা হলেও আমরা আমাদের ঋণ শোধ করতে পারব।
যেদিন দেশে একটিও নিরক্ষর লোক থাকবে না, সবাই শুদ্ধ ভাবে বাংলা ভাষা লিখতে, পড়তে, বলতে জানব সেদিন অন্তত আমরা বলতে পারব- হে, ভাষা সৈনিক আমাদের এ প্রজন্ম কিছুটা হলেও তোমাদের ঋণ শোধ করতে পেরেছে।
Saturday, February 21, 2009
ঈশপের গল্প ও একটি মোবাইলের বিজ্ঞাপনের গল্প

ঈশপের গল্পের প্রথম অংশ:
এক দেশে ছিল এক রাখাল বালক। সে মাঠে ভেড়া চরাতে গেলে প্রায়ই মজা করার জন্য বাঘ বাঘ বলে চিৎকার করত। তার ডাক শুনে লোকজন তাকে বাঁচাতে ছুটে আসলে সে মজা পেয়ে হাসত।
ঈশপের গল্পের দ্বিতীয় অংশ:
একদিন সত্যি সত্যি বাঘ আসল। কিন্তু তার চিৎকারে কেউ সাড়া দিল না। সবাই ভাবল সে আজো বুঝি মজাই করছে। ফলে রাখাল গেল বাঘের পেটে।
ঈশপের উপদেশ: কখনও মিথ্যা বলে লোকজনকে বোকা বানাবে না। এমনকি মজা করার জন্যও নয়।
আধুনিক ঈশপের গল্পের প্রথম অংশ:
এক দেশে ছিল এক মোবাইল কোম্পানী। এরা প্রায়ই মজা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন বানিয়ে লোকজনকে বোকা বানাত। এক বার তারা পত্রিকায় এক মডেলের নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করল। পত্রিকা অফিসে উদ্বিগ্ন অগণিত ভক্তকূলের ফোন আসতে শুরু করল। এর কয়েক দিন পর ঐ মডেলকে পাওয়া গেল। তিনি আসলে নিখোঁজ হননি। মোবাইল কোম্পানী মজা করার জন্য এই নাটক সাজিয়েছে। এটা তাদের নতুন ধরনের এক বিজ্ঞাপন।
আধুনিক ঈশপের গল্পের দ্বিতীয় অংশ:
এক দিন সত্যি সত্যি এক মডেল নিখোঁজ হল। কিন্তু এবার আর কেউ বিশ্বাস করল না। সবাই ভাবল এটাও মোবাইল কোম্পানীরই কোন নতুন ধরনের বিজ্ঞাপনেরই কৌশল হবে। ফলে এক সময় ঐ মডেল নিখোঁজ হয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল।
আধুনিক ঈশপের উপদেশ: কখনও মিথ্যা বলে লোকজনকে বোকা বানাবে না। এমনকি মজা করার জন্যও নয়।
(এদেশের মিডিয়া বর্তমানে মোবাইল কোম্পানীগুলির পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। আর পয়সা দিলে মডেলদের দিয়ে যে কোন ধরনের কাজ করানো সম্ভব।
বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানী কিছুদিন পূর্বে যে কান্ড করল তা এক কথায় ক্ষমার অযোগ্য। অচিরেই দেশে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ আইন করা জরুরী। আর এদের পক্ষ নিয়ে অভিনেত্রী জয়া আহসান নির্লজ্জ সাফাই গাইলেন। নতুন ধরনের কোন কিছুকে নাকি আমরা বাঙালীরা স্বাভাবিক ভাবে নিতে অভ্যস্থ নই।
জয়া আহসান আপনার পরিবারের কোন সদ্যস্যের যদি সত্যি সত্যি এমন ধরনের বিপদ হয় তাহলে আপনার কেমন লাগবে। তখনওকি আপনি সাফাই গেয়ে যাবেন। আপনার কি কোন ধারণা রয়েছে একটা পরিবারের কোন সদস্য হারিয়ে গেলে ঐ পরিবারের মা-বাবা, ভাই-বোন এদের কেমন লাগে?
আর আপনি আপনার ভক্তদের ভালোবাসা নিয়ে যে প্রতারণা করলেন তাতে করে তাদের কাছে কি আপনার ইমেজ বাড়ল না কমল?
আর দেশের মোবাইল কোম্পানীগুলি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এরা প্রতিনিয়তই এদের গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বোকা বানিয়ে চলেছে। একটা একটা করে এদের বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর অফারের বর্ণনা দিতে গেলে পুরো মহাভারত তৈরী হয়ে যাবে। অতএব অচিরেই এ দাবনদের নিয়ন্ত্রণ কার হোক। না হলে ভবিষ্যতে অমাদেরকে অনেকগুলি ফ্রাঙ্কেস্টাইনের সম্মুখিন হতে হবে।)
এক দেশে ছিল এক রাখাল বালক। সে মাঠে ভেড়া চরাতে গেলে প্রায়ই মজা করার জন্য বাঘ বাঘ বলে চিৎকার করত। তার ডাক শুনে লোকজন তাকে বাঁচাতে ছুটে আসলে সে মজা পেয়ে হাসত।
ঈশপের গল্পের দ্বিতীয় অংশ:
একদিন সত্যি সত্যি বাঘ আসল। কিন্তু তার চিৎকারে কেউ সাড়া দিল না। সবাই ভাবল সে আজো বুঝি মজাই করছে। ফলে রাখাল গেল বাঘের পেটে।
ঈশপের উপদেশ: কখনও মিথ্যা বলে লোকজনকে বোকা বানাবে না। এমনকি মজা করার জন্যও নয়।
আধুনিক ঈশপের গল্পের প্রথম অংশ:
এক দেশে ছিল এক মোবাইল কোম্পানী। এরা প্রায়ই মজা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন বানিয়ে লোকজনকে বোকা বানাত। এক বার তারা পত্রিকায় এক মডেলের নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করল। পত্রিকা অফিসে উদ্বিগ্ন অগণিত ভক্তকূলের ফোন আসতে শুরু করল। এর কয়েক দিন পর ঐ মডেলকে পাওয়া গেল। তিনি আসলে নিখোঁজ হননি। মোবাইল কোম্পানী মজা করার জন্য এই নাটক সাজিয়েছে। এটা তাদের নতুন ধরনের এক বিজ্ঞাপন।
আধুনিক ঈশপের গল্পের দ্বিতীয় অংশ:
এক দিন সত্যি সত্যি এক মডেল নিখোঁজ হল। কিন্তু এবার আর কেউ বিশ্বাস করল না। সবাই ভাবল এটাও মোবাইল কোম্পানীরই কোন নতুন ধরনের বিজ্ঞাপনেরই কৌশল হবে। ফলে এক সময় ঐ মডেল নিখোঁজ হয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল।
আধুনিক ঈশপের উপদেশ: কখনও মিথ্যা বলে লোকজনকে বোকা বানাবে না। এমনকি মজা করার জন্যও নয়।
(এদেশের মিডিয়া বর্তমানে মোবাইল কোম্পানীগুলির পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। আর পয়সা দিলে মডেলদের দিয়ে যে কোন ধরনের কাজ করানো সম্ভব।
বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানী কিছুদিন পূর্বে যে কান্ড করল তা এক কথায় ক্ষমার অযোগ্য। অচিরেই দেশে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ আইন করা জরুরী। আর এদের পক্ষ নিয়ে অভিনেত্রী জয়া আহসান নির্লজ্জ সাফাই গাইলেন। নতুন ধরনের কোন কিছুকে নাকি আমরা বাঙালীরা স্বাভাবিক ভাবে নিতে অভ্যস্থ নই।
জয়া আহসান আপনার পরিবারের কোন সদ্যস্যের যদি সত্যি সত্যি এমন ধরনের বিপদ হয় তাহলে আপনার কেমন লাগবে। তখনওকি আপনি সাফাই গেয়ে যাবেন। আপনার কি কোন ধারণা রয়েছে একটা পরিবারের কোন সদস্য হারিয়ে গেলে ঐ পরিবারের মা-বাবা, ভাই-বোন এদের কেমন লাগে?
আর আপনি আপনার ভক্তদের ভালোবাসা নিয়ে যে প্রতারণা করলেন তাতে করে তাদের কাছে কি আপনার ইমেজ বাড়ল না কমল?
আর দেশের মোবাইল কোম্পানীগুলি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এরা প্রতিনিয়তই এদের গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বোকা বানিয়ে চলেছে। একটা একটা করে এদের বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর অফারের বর্ণনা দিতে গেলে পুরো মহাভারত তৈরী হয়ে যাবে। অতএব অচিরেই এ দাবনদের নিয়ন্ত্রণ কার হোক। না হলে ভবিষ্যতে অমাদেরকে অনেকগুলি ফ্রাঙ্কেস্টাইনের সম্মুখিন হতে হবে।)
Monday, February 16, 2009
প্ল্যানচেট

অপালাদের ফ্ল্যাটে মিসেস গোমেজ নামে এক খ্রিস্টান মহিলা থাকেন। তিনি দিনে দুপুরে মৃত আত্না ডেকে নিয়ে আসতে পারেন। কিছুদিন আগে নাকি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এনেছিলেন। তবে জীবিত না, উনার আত্না। স্বর্গে রবি ঠাকুর খুব সুখেই আছেন। খাওয়া দাওয়ার কোন অভাব নেই। যা ইচ্ছে তা খাওয়া যায়। বাথরুম করার কোন ঝামেলা নেই। সারা জীবন কবিতা লিখে কাটিয়েছেন। এখন আর কবিতা ছাড়া ভালো লাগে না। স্বর্গের অপ্সরারা প্রতিদিন বিকেলে উনার কাছে কবিতা শুনতে আসে। রবি ঠাকুর মিসেস গোমেজের কাছে কবিতা লেখার কিছু কাগজ চেয়েছেন। কারণ উনাদের ঐখানে আবার এসব জিনিস পাওয়া যায় না। রবি ঠাকুর উনাকে একদিন এসে কবিতাও শুনিয়ে গেছেন-
মেযেটি যখন ধর্ষিত হচ্ছিল তখন সে ডেকেও ঈশ্বরকে কাছে পায় নি।
দারিদ্রতার কাছে পরাজিত হয়ে মা তার নবজাতককে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে ।
আমার জানতে খুব ইচ্ছে করে, ঈশ্বর আপনি তখন কোথায় ছিলেন?
ঈম্বর মৃদু হেসে উত্তর করেন- এ কুৎসিত সমাজ ব্যবস্থা তোমাদেরই তৈরী আমার নয়।
প্রতিদিন মহিলার কাছে শুনে শুনে অপালা খুব আগ্রহী হয়ে উঠে। অনেক দিন মহিলার পেছনে ঘুরঘুর করার পর মহিলা শেষ পর্যন্ত রাজী হন। মিসেস গোমেজ তাকে ঠিক রাত বারটা সময় আসতে বলে দেন। আত্নারা আবার খুব পাংচুয়াল হয়ে থাকে। দিনে আত্নাদের বিরক্ত করা যাবে না। এ সময় তাদের বিশ্রামের সময়।
অপালা রাত বারটা বাজার আগেই এসে পড়ে। মিসেস গোমেজ তাকে নিয়ে ছোট্র একটি টেবিলে মুখোমুখি বসেন। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। টেবিলে শুধু একটি মোমবাতি জ্বলছে। ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ। স্বল্প আলো আঁধারের মাঝে গা ছমছমে এক পরিবেশ। মিসেস গোমেজের সামনে একটি বোর্ড। এর নাম উইজা বোর্ড। বোর্ডে ইংরেজী সব অক্ষর বসানো। মিসেস গোমেজের অপালাকে বুঝাতে থাকেন, এই যে ছোট্র ঘুটিটি দেখতে পারছ আমি এটার উপর একটি আঙ্গুল রেখে আত্নাকে ডাকতে শুরু করব। যদি আত্না আসে তবে ঘুটি বোর্ডের ইয়েস লেখা ঘরে চলে যাবে। আর না আসলে নো লেখা ঘরে। আমি প্রশ্ন করলে তিনি তার উত্তর দেবেন। মুখে তা দেবেন না। উইজা বোর্ডের মাধ্যমে দেবেন। ধর আমি যদি উনার নাম জানতে চাই আর উনার নাম যদি হয় জন তবে ঘুটি প্রথমে ইংরেজী জে অক্ষরে যাবে, তারপর ও, এইচ এবং শেষে এন লেখা অক্ষরের উপর। এভাবেই তুমি জানতে পারবে যে উনার নাম জন। অপালা খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতে থাকে।
আচ্ছা আন্টি, ভূত যদি ইংরেজী না বুঝে তবে কি বাংলায় উত্তর দেবে।
দেখ আমি রসিকতা মোটেই পছন্দ করি না। আর তুমি ভূত বলছ কেন। এরা হচ্ছে বিদেহী আত্না। কোন দূর্ঘটনায় পড়ে যাদের অকালে মৃত্যু হয় তাদের আত্না ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পরলোকে যেতে পারে না। তাদের আত্না এই জগতেই ঘুরপাক খেতে থাকে।
মিসেস গোমেজ আজকে উনার স্বামীর আত্না ডেকে আনবেন। এক বছর আগে উনার স্বামী এক রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যান। মিসেস গোমেজ নিচু গলায় বিড়বিড় করে বলতে থাকেন- হে দুষ্ট আত্না সকল দূর হয়ে যান।
আত্নাদের আপনি করে না বললে এরা নাকি খুব মাইন্ড করে। মৃত্যুর পর জগতে আছে দুই ধরনের আত্না। ভাল আর মন্দ। এদের মধ্যে প্রায়ই ঝঁগড়াঝাঁটি মারামারি চলতে থাকে। কিছুদিন আগেই এক আত্না এসে নাকি মিসেস গোমেজের কাছে নালিশ করে গেছে উনার স্বামী মিস্টার গোমেজ তার প্রেমিকাকে নিয়ে ভেগে গেছেন। যদি ভুল করে দুষ্ট আত্না নামিয়ে ফেলা হয় তবে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তখন আর তাকে সহজে বিদেয় করা যায় না।
মিসেস গোমেজ চোখ বন্ধ করে নাঁকি সুরে বলতে আরম্ভ করেন-হে আমার স্বামী, আপনি দয়া করে দেখা দিন.........
অপালার ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে কে জানে। হঠাৎ মিসেস গোমেজ চিৎকার করে উঠেন-অপালা তিনি এসেছেন। তুমি উনার নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পাচ্ছ না।
অপালা ফিসফিস করে বলে-জ্বী, শুনতে পাচ্ছি। তবে নিঃশ্বাসের নয়, বিড়ালের মিঁউমিঁউ শব্দ। আমার মনে হয় আপনার স্বামী বিড়ালের রূপ ধরে এসে হাজির হয়েছেন।
মিসেস গোমেজ গম্ভীর স্বরে বলে উঠেন-এটা আমার পোষা বেড়ালের ডাক। টেবিলের নিচে বসে আছে। আর আত্নাদের নিয়ে ঠাট্রা করবে না। এদের সেন্স অব হিউমার খুব কম। একবার আত্না এসে তোমার উপর ভর করলে তখন টের পাবে। প্ল্যানচেট কোন ছেলে খেলা বিষয় নয়। অনেক সাধনার পর আমি এ বিদ্যা লাভ করেছি। এখানে ধৈর্য্য ধরে ধ্যান করতে হয়।
মিসেস গোমেজ পুনরায় চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় প্রলাপ শুরু করেন-আসেন আমার স্বামী, আপনি কোথায়। আমরা আপনার অপেক্ষায় বসে আছি।
অপালা নিজেও জানে না কখন সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙতে দেখে বাইরে সকাল হয়ে গেছে। মোমদানিতে মোম পুড়ে শেষ। মিসেস গোমেজ সামনের সোফায় মুখ গোমড়া করে বসে আছেন। অপালা চলে আসতে আসতে হাসি মুখে বলে- আন্টি, আঙ্কেল কি চলে গেছেন? ইস্। একটুর জন্য উনার সাথে দেখা হল না। পরের বার আসলে আমার তরফ থেকে সরি বলে দেবেন, প্লীজ।
অপালার কথা শেষ হবার আগেই মিসেস গোমেজ দুম করে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।
মেযেটি যখন ধর্ষিত হচ্ছিল তখন সে ডেকেও ঈশ্বরকে কাছে পায় নি।
দারিদ্রতার কাছে পরাজিত হয়ে মা তার নবজাতককে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে ।
আমার জানতে খুব ইচ্ছে করে, ঈশ্বর আপনি তখন কোথায় ছিলেন?
ঈম্বর মৃদু হেসে উত্তর করেন- এ কুৎসিত সমাজ ব্যবস্থা তোমাদেরই তৈরী আমার নয়।
প্রতিদিন মহিলার কাছে শুনে শুনে অপালা খুব আগ্রহী হয়ে উঠে। অনেক দিন মহিলার পেছনে ঘুরঘুর করার পর মহিলা শেষ পর্যন্ত রাজী হন। মিসেস গোমেজ তাকে ঠিক রাত বারটা সময় আসতে বলে দেন। আত্নারা আবার খুব পাংচুয়াল হয়ে থাকে। দিনে আত্নাদের বিরক্ত করা যাবে না। এ সময় তাদের বিশ্রামের সময়।
অপালা রাত বারটা বাজার আগেই এসে পড়ে। মিসেস গোমেজ তাকে নিয়ে ছোট্র একটি টেবিলে মুখোমুখি বসেন। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। টেবিলে শুধু একটি মোমবাতি জ্বলছে। ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ। স্বল্প আলো আঁধারের মাঝে গা ছমছমে এক পরিবেশ। মিসেস গোমেজের সামনে একটি বোর্ড। এর নাম উইজা বোর্ড। বোর্ডে ইংরেজী সব অক্ষর বসানো। মিসেস গোমেজের অপালাকে বুঝাতে থাকেন, এই যে ছোট্র ঘুটিটি দেখতে পারছ আমি এটার উপর একটি আঙ্গুল রেখে আত্নাকে ডাকতে শুরু করব। যদি আত্না আসে তবে ঘুটি বোর্ডের ইয়েস লেখা ঘরে চলে যাবে। আর না আসলে নো লেখা ঘরে। আমি প্রশ্ন করলে তিনি তার উত্তর দেবেন। মুখে তা দেবেন না। উইজা বোর্ডের মাধ্যমে দেবেন। ধর আমি যদি উনার নাম জানতে চাই আর উনার নাম যদি হয় জন তবে ঘুটি প্রথমে ইংরেজী জে অক্ষরে যাবে, তারপর ও, এইচ এবং শেষে এন লেখা অক্ষরের উপর। এভাবেই তুমি জানতে পারবে যে উনার নাম জন। অপালা খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতে থাকে।
আচ্ছা আন্টি, ভূত যদি ইংরেজী না বুঝে তবে কি বাংলায় উত্তর দেবে।
দেখ আমি রসিকতা মোটেই পছন্দ করি না। আর তুমি ভূত বলছ কেন। এরা হচ্ছে বিদেহী আত্না। কোন দূর্ঘটনায় পড়ে যাদের অকালে মৃত্যু হয় তাদের আত্না ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পরলোকে যেতে পারে না। তাদের আত্না এই জগতেই ঘুরপাক খেতে থাকে।
মিসেস গোমেজ আজকে উনার স্বামীর আত্না ডেকে আনবেন। এক বছর আগে উনার স্বামী এক রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যান। মিসেস গোমেজ নিচু গলায় বিড়বিড় করে বলতে থাকেন- হে দুষ্ট আত্না সকল দূর হয়ে যান।
আত্নাদের আপনি করে না বললে এরা নাকি খুব মাইন্ড করে। মৃত্যুর পর জগতে আছে দুই ধরনের আত্না। ভাল আর মন্দ। এদের মধ্যে প্রায়ই ঝঁগড়াঝাঁটি মারামারি চলতে থাকে। কিছুদিন আগেই এক আত্না এসে নাকি মিসেস গোমেজের কাছে নালিশ করে গেছে উনার স্বামী মিস্টার গোমেজ তার প্রেমিকাকে নিয়ে ভেগে গেছেন। যদি ভুল করে দুষ্ট আত্না নামিয়ে ফেলা হয় তবে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তখন আর তাকে সহজে বিদেয় করা যায় না।
মিসেস গোমেজ চোখ বন্ধ করে নাঁকি সুরে বলতে আরম্ভ করেন-হে আমার স্বামী, আপনি দয়া করে দেখা দিন.........
অপালার ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে কে জানে। হঠাৎ মিসেস গোমেজ চিৎকার করে উঠেন-অপালা তিনি এসেছেন। তুমি উনার নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পাচ্ছ না।
অপালা ফিসফিস করে বলে-জ্বী, শুনতে পাচ্ছি। তবে নিঃশ্বাসের নয়, বিড়ালের মিঁউমিঁউ শব্দ। আমার মনে হয় আপনার স্বামী বিড়ালের রূপ ধরে এসে হাজির হয়েছেন।
মিসেস গোমেজ গম্ভীর স্বরে বলে উঠেন-এটা আমার পোষা বেড়ালের ডাক। টেবিলের নিচে বসে আছে। আর আত্নাদের নিয়ে ঠাট্রা করবে না। এদের সেন্স অব হিউমার খুব কম। একবার আত্না এসে তোমার উপর ভর করলে তখন টের পাবে। প্ল্যানচেট কোন ছেলে খেলা বিষয় নয়। অনেক সাধনার পর আমি এ বিদ্যা লাভ করেছি। এখানে ধৈর্য্য ধরে ধ্যান করতে হয়।
মিসেস গোমেজ পুনরায় চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় প্রলাপ শুরু করেন-আসেন আমার স্বামী, আপনি কোথায়। আমরা আপনার অপেক্ষায় বসে আছি।
অপালা নিজেও জানে না কখন সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙতে দেখে বাইরে সকাল হয়ে গেছে। মোমদানিতে মোম পুড়ে শেষ। মিসেস গোমেজ সামনের সোফায় মুখ গোমড়া করে বসে আছেন। অপালা চলে আসতে আসতে হাসি মুখে বলে- আন্টি, আঙ্কেল কি চলে গেছেন? ইস্। একটুর জন্য উনার সাথে দেখা হল না। পরের বার আসলে আমার তরফ থেকে সরি বলে দেবেন, প্লীজ।
অপালার কথা শেষ হবার আগেই মিসেস গোমেজ দুম করে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।
Sunday, February 15, 2009
ভালোবাসা ও মৃত্যুর গল্প
এটা কি?
দেখতেইতো পারছ, আবার জনতে চাচ্ছ কেন।
তুমি এরকম কুৎসিত নোংরা একটা কুকুর ছানা নিয়ে ঘরে ঢুকেছ কেন?
রাস্তার কয়েকটা ছেলে মিলে বাচ্চাটাকে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁস লাগিয়ে মারছিল। আমি গিয়ে নিয়ে এসেছি। বাচ্চাটা খুব অসুস্থ, এখন এটাকে ছেড়ে দিলে মরে যাবে। কয়েকটা দিন আমাদের এখানে থাকুক, তারপর সুস্থ হলে বাইরে ছেড়ে দিয়ে আসব।
জেনী প্রাণপন চেষ্টা করছে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে-এক্ষুণি এটাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আস।
ফয়সল কোন উত্তর দেয় না।
এখন ঝগড়া করতে ভালো লাগছে না। জেনী সামনে থেকে সরে আসে।
ফয়সল খেতে আস। জেনী টেবিলে ভাত দিয়ে ফয়সলকে ডাকতে আসে।
ড্রয়িংরুমে ঢুকে জেনীর রাগ সপ্তমে চড়ে যায়। ফয়সল কুকুরের বাচ্চাটিকে সোফার উপর বসিয়ে রেখেছে।
ফয়সল জেনীর দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে-আজকের রাতটা এটা এখানে থাকুক, কাল সকালে এটাকে বিদেয় করে দেব।
ফয়সল খেতে বসে। জেনী তুমি চোখ মুখ এমন শক্ত করে রেখেছ কেন। আরাম করে খাও। টেবিলে এই বাড়তি প্লেটটা কার জন্যে?
ওমা, আমাদের বাড়িতে নতুন মেহমান এসেছেন। উনাকে ভাল মন্দ রান্না করে খাওয়াতে হবে না। এই প্লেটটা উনার জন্যে। তা কুকুর বাবু নিজে খেতে পারবে তো নাকি আমি খাইয়ে দেব।
জেনী তুমি খুব সামান্য একটি ব্যাপার নিয়ে হৈ চৈ করছ। একি ভাত না খেয়ে উঠে যাচ্ছ কেন?
জেনী হাত ধুয়ে কিচেনে চলে আসে। খাবার সব উঠিয়ে ফ্রিজে রেখে দেয়। কিছুক্ষণ পর ড্রয়িংরুমে উকি দিয়ে দেখে-ফয়সল হাতে একটি রুটির টুকরো নিয়ে কুকুরের বাচ্চাটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। কুকুরটি মানুষের এ ধরনের আচরণে অভ্যস্থ নয়। এটি আনন্দে কিছুক্ষণ পর পর কুঁই কুঁই শব্দ করছে।
ফয়সল সিগারেট ধরাতে বারান্দায় চলে আসে। জেনী একটা চেয়ারে বসে রয়েছে। জেনী এখানে বসে রয়েছ কেন, ঘুমুতে চল।
জেনী ঝটকা মেরে ফয়সলের হাত সরিয়ে দেয়। ফয়সল, তোমার ঢং দেখে আমি খুব অবাক হচ্ছি। নিজের বাচ্চার প্রতি তোমার এত মমতা দেখিনি, যতনা তুমি একটা কুকুরের বাচ্চার প্রতি দেখাচ্ছ।
ফয়সল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। জেনী আবার সেই অপ্রিয় প্রসঙ্গটি তুলেছে। জেনী, আমি আগেও অসংখ্যবার বলার চেষ্টা করেছি, বাবুর মৃত্যুর উপর আমাদের কোন হাত ছিল না। তখন আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।
ফয়সল-জেনীর দুই বছরের বাচ্চা তুষারের হঠাৎ করে একদিন রাতে শ্বাস কষ্ট আরম্ভ হয়। তাকে দ্রূত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বাইরে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি। ফয়সল বেরিয়ে পড়ে গাড়ীর খোঁজে। দুই ঘন্টা ধরে চেষ্টা করেও কোন গাড়ী যোগাড় করতে পারে না। অনেকগুলি গাড়ী তার সামনে দিয়ে পানি ছিটাতে ছিটাতে চলে যাচ্ছে। ছিটানো পানিতে তার শরীর মাখামাখি। শেষ পর্যন্ত এক টেক্সিওয়ালাকে অনেক হাতে পায়ে ধরে রাজী করাতে পারে।
ফয়সল বাসায় ফিরে দেখে জেনী তুষারকে তার বুকের সাথে চেপে ধরে রেখেছে। ভঙ্গিটা দেখে তার বুক ধক্ করে উঠে। বাচ্চার গায়ে হাত দিয়ে দেখে গা বরফের মত ঠান্ডা।
তারপর থেকে কিভাবে যেন জেনীর মাথায় ঢুকে যায় ফয়সল যদি সময় মতো গাড়ী যোগাড় করতে পারতে তাহলে তাদের বাবুটাকে বাঁচানো যেত। তুষারের মৃত্যুর জন্য সে ফয়সলকে দায়ী ভাবতে শুরু করে।
ফয়সলের চোখে সে দিনের দৃশ্যটি ভেসে উঠে।
নিজ হাতে সে তুষারের কবর খুঁড়ছে। এটা নিযে পরে কত সমালোচনা হয়। এত লোক থাকতে বাবা কেন ছেলের কবর খুঁড়বে। এটা নিয়ম বর্হিভূত। হায়রে! মৃত্যুর পরও কত নিয়ম থেকে যায়।
সেদিন খুব বৃষ্টি ছিল। কবরের গর্তে পানি জমে যাচ্ছিল। ফয়সল সারা দুপুর পলিথিনে মোড়ানো তুষারের লাশ নিয়ে হাঁটু গেড়ে কবরের সামনে বসে থাকে। সৃষ্টিকর্তা সম্ভবত সেদিন ইচ্ছে করেই বৃষ্টি দিয়েছিলেন। বৃষ্টির পানি যাতে করে তার চোখের পানিকে ধুয়ে দিতে পারে।
জেনী চল। ফয়সল তার একটা হাত জেনীর কাঁধে রাখে।
তুমি তোমার কুত্তা নিয়ে ঘুমুতে যাও। তোমার পাশে তার বিছানা করে দেয়া হয়েছে-জেনী ঝাঁঝিয়ে উঠে।
ফয়সল বুঝতে পারে না কখন সে জেনীর গালে চড় মেরে বসেছে।
ফয়সল ড্রয়িংরুমে চলে আসে। কুকুরের ছানাটিকে তুলে নেয়। এটা সম্ভবত বুঝে ফেলেছে তাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আসা হবে। দুই চোখে করুণ মিনতি নিয়ে তাকিয়ে থাকে।
জেনী দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। অনেক দিন আগের একটি দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। ফয়সল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তার কোলে তুষারের মৃত দেহ। এ মুহুর্তে সামনের মানুষটিকে তার খুব অপরিচিত বলে মনে হতে থাকে। এত দিন ধরে তারা দুইজন এক সাথে রয়েছে তারপরও কেন তারা একজন আরেকজনকে বুঝতে পারে না। দীর্ঘ দিন এক সাথে থাকার পরও একটা মানুষকে সম্ভবত কখনই পুরোপুরিভাবে জানা যায় না।
ফয়সল দাঁড়াও-জেনী পেছন থেকে ডেকে উঠে।
জেনীর কন্ঠশ্বরে এমন কিছু ছিল ফয়সল পেছনে ফিরে তাকায়।
জেনী এসে কুকুরের ছানাটিকে ফয়সলের হাত থেকে নিজের কাছে নিয়ে নেয়।
আই অ্যাম সরি ফয়সল। নিয়তির উপরে আমাদের আসলে কারোও হাত নেই। জীবনতো কারো জন্যে থেমে থাকে না। শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও মানুষ বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যায়।
আজকের দিনটির কথাই ধর। আমরা দুইজনেই প্রাণপনে আজকের দিনটির কথা ভুলে থাকার চেষ্টা করছি। খুব স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি কই। আমরা দুইজনেই জানি আমরা তা পারব না। কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে দিচ্ছি না। মিথ্যে ভান করে যাচ্ছি।
আজকের দিনেই আমাদের তুষার মারা যায়। কেন আমরা নিজেদের কষ্ট একজন আরেকজনের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারছি না।
ফয়সল জেনীর দুই কাধে হাত রাখে। তাকিয়ে থাকে জেনীর মুখের দিক। জেনীর মুখটা তার কাছে কেমন যেন খুব অপরিচিত বলে মনে হতে থাকে ।
দেখতেইতো পারছ, আবার জনতে চাচ্ছ কেন।
তুমি এরকম কুৎসিত নোংরা একটা কুকুর ছানা নিয়ে ঘরে ঢুকেছ কেন?
রাস্তার কয়েকটা ছেলে মিলে বাচ্চাটাকে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁস লাগিয়ে মারছিল। আমি গিয়ে নিয়ে এসেছি। বাচ্চাটা খুব অসুস্থ, এখন এটাকে ছেড়ে দিলে মরে যাবে। কয়েকটা দিন আমাদের এখানে থাকুক, তারপর সুস্থ হলে বাইরে ছেড়ে দিয়ে আসব।
জেনী প্রাণপন চেষ্টা করছে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে-এক্ষুণি এটাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আস।
ফয়সল কোন উত্তর দেয় না।
এখন ঝগড়া করতে ভালো লাগছে না। জেনী সামনে থেকে সরে আসে।
ফয়সল খেতে আস। জেনী টেবিলে ভাত দিয়ে ফয়সলকে ডাকতে আসে।
ড্রয়িংরুমে ঢুকে জেনীর রাগ সপ্তমে চড়ে যায়। ফয়সল কুকুরের বাচ্চাটিকে সোফার উপর বসিয়ে রেখেছে।
ফয়সল জেনীর দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে-আজকের রাতটা এটা এখানে থাকুক, কাল সকালে এটাকে বিদেয় করে দেব।
ফয়সল খেতে বসে। জেনী তুমি চোখ মুখ এমন শক্ত করে রেখেছ কেন। আরাম করে খাও। টেবিলে এই বাড়তি প্লেটটা কার জন্যে?
ওমা, আমাদের বাড়িতে নতুন মেহমান এসেছেন। উনাকে ভাল মন্দ রান্না করে খাওয়াতে হবে না। এই প্লেটটা উনার জন্যে। তা কুকুর বাবু নিজে খেতে পারবে তো নাকি আমি খাইয়ে দেব।
জেনী তুমি খুব সামান্য একটি ব্যাপার নিয়ে হৈ চৈ করছ। একি ভাত না খেয়ে উঠে যাচ্ছ কেন?
জেনী হাত ধুয়ে কিচেনে চলে আসে। খাবার সব উঠিয়ে ফ্রিজে রেখে দেয়। কিছুক্ষণ পর ড্রয়িংরুমে উকি দিয়ে দেখে-ফয়সল হাতে একটি রুটির টুকরো নিয়ে কুকুরের বাচ্চাটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। কুকুরটি মানুষের এ ধরনের আচরণে অভ্যস্থ নয়। এটি আনন্দে কিছুক্ষণ পর পর কুঁই কুঁই শব্দ করছে।
ফয়সল সিগারেট ধরাতে বারান্দায় চলে আসে। জেনী একটা চেয়ারে বসে রয়েছে। জেনী এখানে বসে রয়েছ কেন, ঘুমুতে চল।
জেনী ঝটকা মেরে ফয়সলের হাত সরিয়ে দেয়। ফয়সল, তোমার ঢং দেখে আমি খুব অবাক হচ্ছি। নিজের বাচ্চার প্রতি তোমার এত মমতা দেখিনি, যতনা তুমি একটা কুকুরের বাচ্চার প্রতি দেখাচ্ছ।
ফয়সল দীর্ঘশ্বাস ফেলে। জেনী আবার সেই অপ্রিয় প্রসঙ্গটি তুলেছে। জেনী, আমি আগেও অসংখ্যবার বলার চেষ্টা করেছি, বাবুর মৃত্যুর উপর আমাদের কোন হাত ছিল না। তখন আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।
ফয়সল-জেনীর দুই বছরের বাচ্চা তুষারের হঠাৎ করে একদিন রাতে শ্বাস কষ্ট আরম্ভ হয়। তাকে দ্রূত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বাইরে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি। ফয়সল বেরিয়ে পড়ে গাড়ীর খোঁজে। দুই ঘন্টা ধরে চেষ্টা করেও কোন গাড়ী যোগাড় করতে পারে না। অনেকগুলি গাড়ী তার সামনে দিয়ে পানি ছিটাতে ছিটাতে চলে যাচ্ছে। ছিটানো পানিতে তার শরীর মাখামাখি। শেষ পর্যন্ত এক টেক্সিওয়ালাকে অনেক হাতে পায়ে ধরে রাজী করাতে পারে।
ফয়সল বাসায় ফিরে দেখে জেনী তুষারকে তার বুকের সাথে চেপে ধরে রেখেছে। ভঙ্গিটা দেখে তার বুক ধক্ করে উঠে। বাচ্চার গায়ে হাত দিয়ে দেখে গা বরফের মত ঠান্ডা।
তারপর থেকে কিভাবে যেন জেনীর মাথায় ঢুকে যায় ফয়সল যদি সময় মতো গাড়ী যোগাড় করতে পারতে তাহলে তাদের বাবুটাকে বাঁচানো যেত। তুষারের মৃত্যুর জন্য সে ফয়সলকে দায়ী ভাবতে শুরু করে।
ফয়সলের চোখে সে দিনের দৃশ্যটি ভেসে উঠে।
নিজ হাতে সে তুষারের কবর খুঁড়ছে। এটা নিযে পরে কত সমালোচনা হয়। এত লোক থাকতে বাবা কেন ছেলের কবর খুঁড়বে। এটা নিয়ম বর্হিভূত। হায়রে! মৃত্যুর পরও কত নিয়ম থেকে যায়।
সেদিন খুব বৃষ্টি ছিল। কবরের গর্তে পানি জমে যাচ্ছিল। ফয়সল সারা দুপুর পলিথিনে মোড়ানো তুষারের লাশ নিয়ে হাঁটু গেড়ে কবরের সামনে বসে থাকে। সৃষ্টিকর্তা সম্ভবত সেদিন ইচ্ছে করেই বৃষ্টি দিয়েছিলেন। বৃষ্টির পানি যাতে করে তার চোখের পানিকে ধুয়ে দিতে পারে।
জেনী চল। ফয়সল তার একটা হাত জেনীর কাঁধে রাখে।
তুমি তোমার কুত্তা নিয়ে ঘুমুতে যাও। তোমার পাশে তার বিছানা করে দেয়া হয়েছে-জেনী ঝাঁঝিয়ে উঠে।
ফয়সল বুঝতে পারে না কখন সে জেনীর গালে চড় মেরে বসেছে।
ফয়সল ড্রয়িংরুমে চলে আসে। কুকুরের ছানাটিকে তুলে নেয়। এটা সম্ভবত বুঝে ফেলেছে তাকে বাইরে ফেলে দিয়ে আসা হবে। দুই চোখে করুণ মিনতি নিয়ে তাকিয়ে থাকে।
জেনী দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। অনেক দিন আগের একটি দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। ফয়সল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তার কোলে তুষারের মৃত দেহ। এ মুহুর্তে সামনের মানুষটিকে তার খুব অপরিচিত বলে মনে হতে থাকে। এত দিন ধরে তারা দুইজন এক সাথে রয়েছে তারপরও কেন তারা একজন আরেকজনকে বুঝতে পারে না। দীর্ঘ দিন এক সাথে থাকার পরও একটা মানুষকে সম্ভবত কখনই পুরোপুরিভাবে জানা যায় না।
ফয়সল দাঁড়াও-জেনী পেছন থেকে ডেকে উঠে।
জেনীর কন্ঠশ্বরে এমন কিছু ছিল ফয়সল পেছনে ফিরে তাকায়।
জেনী এসে কুকুরের ছানাটিকে ফয়সলের হাত থেকে নিজের কাছে নিয়ে নেয়।
আই অ্যাম সরি ফয়সল। নিয়তির উপরে আমাদের আসলে কারোও হাত নেই। জীবনতো কারো জন্যে থেমে থাকে না। শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও মানুষ বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যায়।
আজকের দিনটির কথাই ধর। আমরা দুইজনেই প্রাণপনে আজকের দিনটির কথা ভুলে থাকার চেষ্টা করছি। খুব স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি কই। আমরা দুইজনেই জানি আমরা তা পারব না। কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে দিচ্ছি না। মিথ্যে ভান করে যাচ্ছি।
আজকের দিনেই আমাদের তুষার মারা যায়। কেন আমরা নিজেদের কষ্ট একজন আরেকজনের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারছি না।
ফয়সল জেনীর দুই কাধে হাত রাখে। তাকিয়ে থাকে জেনীর মুখের দিক। জেনীর মুখটা তার কাছে কেমন যেন খুব অপরিচিত বলে মনে হতে থাকে ।
Friday, February 13, 2009
অপার্থিব ভালোবাসা
জামিল আহমেদ রুনুকে বসতে নির্দেশ করেন।
আপনি এখন যা দেখবেন তা কেবলই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। বাস্তবের সাথে একে কম্পেয়ার করার কিছু নেই। আমি কি শুরু করব?
হ্যাঁ। রুনু সহজ ভাবে উত্তর দেয়।
আপনি এখানে বসুন প্লীজ।
অদ্ভুত দর্শন একটি চেয়ারে রুনু বসে পড়ে। জামিল আহমেদ এবার রুনুর হাতের বিভিন্ন অংশে অনেকগুলি সেন্সর লাগানো তার টেপ দিয়ে আটকে দেন। মাথায় হেলমেটের মতো দেখতে একটি জিনিস পড়িয়ে দেন। এতে রুনুর চোখ ঢাকা পড়ে যায়। এখন আর সে কিছু দেখতে পারছে না। কানের দুই পাশে লাগানো ইয়ার ফোনে জামিল আহমেদের ধাতব কন্ঠস্বর ভেসে আসে-আমরা শুরু করছি।
রুনুর কানের পাশে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ। চোখের সামনে আবছা আবছা আলোতে বিচিত্র বর্ণের খেলা। গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা মনে হচ্ছে চারপাশের জগতকে। কুয়াশা ভাব ধীরে ধীরে কেটে যেতে শুরু করে। আবছা আবছা কিছু লোকজনকে দেখা যাচ্ছে। এবার পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। কয়েক জনকে সে চিনতেও পারছে। তার আত্নীয় স্বজন। এরা সবাই তার বাড়ীতে কি করছে। ঘটনাটা যেন আগেও একবার ঘটেছে। মনে পড়ছে না।
দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। অনেক লোক একটি টেবিলকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। টেবিলের মাঝখানে একটি কেক, কয়েকটি মোমবাতি জ্বলছে। সম্ভবত কারো জন্মদিন, কিন্তু কার?
সামনের দৃশ্য আবার বদলে যেতে শুরু করে। একটি ছোট ছেলে কেক কাটছে। পাশে তার মা দাঁড়ানো। ছোট ছেলেটি কাব্য, তার মা রুনু নিজেই। কাব্য একটি কেকের টুকরো তার মাকে খাওয়াচ্ছে। রুনু নিচু হয়ে তার মুখ ছেলের মুখের সামনে নিয়ে আসে। রুনুর মনে হচ্ছে তার শরীরের ভিতর দিয়ে হাজার ভোল্টের বিদ্যুত প্রবাহিত হচ্ছে। তার মুখে কাব্যের নিঃশ্বাস এসে পড়ছে। রুনু ছেলেকে চুমু খেল। তার প্রতিটি স্নায়ুতে কাব্যের স্পর্শ ছড়িযে পড়ছে। কাব্য দৌড়ে দু’তলা যাবার সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছে, পেছনে তার মা। হঠাৎ পিছলে কাব্য পড়ে যায়। তার হাঁটু ছড়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ব্যাঁথায় চোখ মুখ কুঁচকে গেছে। উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। একটা হাত রুনুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আম্মু আম্মু করে ডাকছে।
রুনু ছুটে যেতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না। কোন এক অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে রেখেছে। চোখের পানিতে তার দু’গাল ভিজে যাচ্ছে। নিজের অজান্তেই রুনু চিৎকার করে উঠে। চিৎকার করার সাথে সাথে আবার সব কিছু আগের মত হযে যায়। রুনু টের পায় মাথার উপর হেলমেটের মতো চেপে বসা যন্ত্রটি সরে যাচ্ছে।
অনেকক্ষণ লাগে রুনু বুঝে উঠতে সে কোথায় আছে। হার্ট বিট বেড়ে যাওয়াতে রুনু হাপাচ্ছে। চট করে গাল স্পর্শ করে দেখে তার দু’গালই ভেজা। সত্যিই সে কাঁদছিল। জামিল আহদমদ এগিয়ে এসে তার হাতের তারগুলি খুলে দেন।
তা আজকে কেমন লাগল আমাদের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এই জগত?
কথা বলতে রুনুকে প্রচন্ড মানসিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।
আমার কাব্য ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে, তার সাহায্য দরকার।
রুনু, আমি আগেও বলেছি কাব্য বলে বাস্তবে কেউ নেই। সে শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। এখানে প্রোগ্রামার যেভাবে প্রোগ্রামটি তৈরী করবেন আপনি সেভাবেই দেখতে পাবেন।
রুনু হাপাতে হাপাতে বলে পুরো ব্যাপারটি শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম হতে পারে না। আমার ছেলের স্পর্শ এখনও আমার গালে লেগে রয়েছে। আপনি আমাকে আমার ছেলের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
দেখুন রুনু, আমাদের তৈরী এই ভার্চূয়াল জগত আমাদের ব্যাবসারই একটি অংশ। এর মাধ্যমে আমরা মানুষকে বিনোদন দিয়ে থাকি। বিনিময়ে আমার টাকা পাই। কাউকে কষ্ট দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
আমার ছেলে কাব্য রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে আজ ছয়টা মাস পেরিয়ে গেছে। এখনও আমি রাতে ঠিক মতো ঘুমুতে পারি না। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে লাফিয়ে উঠি। মনে হয় আমার ছেলে দরজার বাইরে থেকে আমাকে ডাকছে। পরম মমতায় দরজা খুলে দেখি কোথাও কেউ নেই। এরপর সারা রাত আর ঘুমুতে পারি না। খালি মনে হয় আমি ঘুমিয়ে পড়েল আমার ছেলে এসে আমাকে না পেয়ে ফিরে চলে যাবে। তারপর একদিন আপনাদের বিজ্ঞাপন দেখে এখানে চলে আসি। আপনারা যে ছেলেটিকে তৈরী করেছেন সে অবিকল আমার কাব্যের মতো। তার ভালোবাসার টানে আমি আজ এক সপ্তাহ ধরে রোজ এখানে ছুটে আসি। এই ছেলেটিকে আমি কাব্যের মতোই ভালোবাসতে শুরু করেছি। মনে হচ্ছে আমার কাব্যই আবার ফিরে এসেছে।
জামিল আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ঠিক আছে এবার আমি আপনাকে প্রোগ্রামের বাকী অংশটুকু দেখাচ্ছি। তবে আপনি তা না দেখলেই ভাল করতেন।
রুনু আবার গিয়ে আগের চেয়ারটিতে বসে পড়ে। কিছুক্ষনের মধ্যেই রুনু পৌছে যায় ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে। আগে যেখানে শেষ হয়েছিল এবার তার পর থেকে শুরু হয়। রুনু কাব্যকে মেঝে থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে। রুনু কাঁদছে। ছেলের মুখে হাসি।
এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ন বদলে যেতে আরম্ভ করে।
রাতের সময় একটি গাড়ী রাস্তা দিয়ে তীব্র বেগে ছুটে চলেছে। গাড়ী চালাচ্ছে কাব্যের বাবা জয়। রুনু পিছনের সিটে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে। কাব্য ঘুমিয়ে পড়েছে। রুনুর চোখেও ঘুম। জয় ঘন ঘন হাই তুলছে। হঠাৎ কয়েক মুহুর্তের জন্য ঝিমুনি এসে পড়ে। এই কয়েক সেকেন্ডেই গাড়ী রাস্তা থেকে পাশের মাঠে ঢুকে পড়ে। জয় স্টিয়ারিং এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়ী নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই পাশের এক গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। তারপর শুধু কাঁচ ভাঙার শব্দ।
আবার দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটে।
রুনুর জ্ঞান ফিরে আসছে। সারা শরীরে অসহ্য ব্যাথা। মাথাটা মনে হচ্ছে ছিঁড়ে পড়ে যাবে। সামনে জয় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সামনে ড্যাশবোর্ডে তার মাথা ঠুকে আছে। কাব্যের শরীরের নিচের অংশটা এখনও রুনুর হাতে ধরা রয়েছে। কিন্তু উপরের অংশটুকু গাড়ীর জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বের হয়ে রয়েছে। মাথাটা থেতলে গেছে। রুনুর গলা দিয়ে জবাই করা পশুর চিৎকার বেরিয়ে আসে। হঠাৎ করে রুনু বাস্তবতায় ফিরে আসে । সামনে জামিল আহমেদের ভীত মুখ আবিস্কার করে। তার মানে আসলেই সে এতক্ষণ চিৎকার করছিল। রুনু উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। সে রীতিমতো টলছে। ধপ করে আবার চেয়ারে বসে পড়ে।
জামিল আহমেদ এগিয়ে আসেন। আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন। রুনু মাথা নাড়ে। কোন মতে উচ্চারণ করে আমার ছেলে আবার মারা গেছে।
জামিল আহমেদ এক গ্লাস পানি রুনুর দিকে এগিযে দিয়ে বলেন- আপনার কাব্যের মৃত্যূ একবারই হয়েছে। এখন যে মারা গেছে সে আপনার ছেলে নয় । শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। আমি এজন্যেই আপনাকে এ অংশটুকু দেখাতে চাচ্ছিলাম না।
আমি কি আবার আমার ছেলেকে দেখতে পারি।
জামিল আহমেদ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে রুনুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। না আপনি আর এই জগতে ঢুকতে পারবেন না। আমার প্রোগ্রামটি নষ্ট করে ফেলেছি। আপনার জন্য আমাদের তৈরী করা প্রোগ্রামের এটাই ছিল শেষ অংশ। আমাদের প্রোগ্রাম এখানেই শেষ।
রুনু কিছুক্ষণ জামিল আহমেদের মুখের দিকে তাকিয়ে কি যেন খোঁজার চেষ্টা করে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
জামিল সাহেব আপনি এক সন্তান হারা মাকে তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছেন। হোক তা ক্ষণিকের কাল্পনিক ভালোবাসা। আপনাকে ধন্যবাদ। এই টুকু বলে রুনু চলে আসে।
জামিল আহমেদের মনটা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। একজন মার সাথে তিনি প্রতারণা করেছেন। প্রোগ্রামটা আসলে নষ্ট করা হয়নি। সম্পূর্ন অক্ষত আছে। এটা করা ছাড়া আসলে উনার কোন উপায় ছিল না। রুনু কাল্পনিক জগতের কাব্য নামক এক চরিত্রকে ভালোবাসতে শুরু করে ছিল। কাল্পনিক এই কাব্যকে বাস্তব জগতের তার ছেলে কাব্যের সাথে মেলাতে চেষ্টা ক
রছিল। এ এক অপার্থিব ভালোবাসা। এত করে শুধু তার কষ্টটুকুই বাড়ত। তারচেয়ে বরং এটাই ভাল হয়েছে। পার্থিব এই জগতে অপার্থিব ভালোবাসার কোন স্থান নেই।
আপনি এখন যা দেখবেন তা কেবলই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। বাস্তবের সাথে একে কম্পেয়ার করার কিছু নেই। আমি কি শুরু করব?
হ্যাঁ। রুনু সহজ ভাবে উত্তর দেয়।
আপনি এখানে বসুন প্লীজ।
অদ্ভুত দর্শন একটি চেয়ারে রুনু বসে পড়ে। জামিল আহমেদ এবার রুনুর হাতের বিভিন্ন অংশে অনেকগুলি সেন্সর লাগানো তার টেপ দিয়ে আটকে দেন। মাথায় হেলমেটের মতো দেখতে একটি জিনিস পড়িয়ে দেন। এতে রুনুর চোখ ঢাকা পড়ে যায়। এখন আর সে কিছু দেখতে পারছে না। কানের দুই পাশে লাগানো ইয়ার ফোনে জামিল আহমেদের ধাতব কন্ঠস্বর ভেসে আসে-আমরা শুরু করছি।
রুনুর কানের পাশে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ। চোখের সামনে আবছা আবছা আলোতে বিচিত্র বর্ণের খেলা। গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা মনে হচ্ছে চারপাশের জগতকে। কুয়াশা ভাব ধীরে ধীরে কেটে যেতে শুরু করে। আবছা আবছা কিছু লোকজনকে দেখা যাচ্ছে। এবার পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। কয়েক জনকে সে চিনতেও পারছে। তার আত্নীয় স্বজন। এরা সবাই তার বাড়ীতে কি করছে। ঘটনাটা যেন আগেও একবার ঘটেছে। মনে পড়ছে না।
দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। অনেক লোক একটি টেবিলকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। টেবিলের মাঝখানে একটি কেক, কয়েকটি মোমবাতি জ্বলছে। সম্ভবত কারো জন্মদিন, কিন্তু কার?
সামনের দৃশ্য আবার বদলে যেতে শুরু করে। একটি ছোট ছেলে কেক কাটছে। পাশে তার মা দাঁড়ানো। ছোট ছেলেটি কাব্য, তার মা রুনু নিজেই। কাব্য একটি কেকের টুকরো তার মাকে খাওয়াচ্ছে। রুনু নিচু হয়ে তার মুখ ছেলের মুখের সামনে নিয়ে আসে। রুনুর মনে হচ্ছে তার শরীরের ভিতর দিয়ে হাজার ভোল্টের বিদ্যুত প্রবাহিত হচ্ছে। তার মুখে কাব্যের নিঃশ্বাস এসে পড়ছে। রুনু ছেলেকে চুমু খেল। তার প্রতিটি স্নায়ুতে কাব্যের স্পর্শ ছড়িযে পড়ছে। কাব্য দৌড়ে দু’তলা যাবার সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছে, পেছনে তার মা। হঠাৎ পিছলে কাব্য পড়ে যায়। তার হাঁটু ছড়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ব্যাঁথায় চোখ মুখ কুঁচকে গেছে। উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। একটা হাত রুনুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আম্মু আম্মু করে ডাকছে।
রুনু ছুটে যেতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না। কোন এক অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে রেখেছে। চোখের পানিতে তার দু’গাল ভিজে যাচ্ছে। নিজের অজান্তেই রুনু চিৎকার করে উঠে। চিৎকার করার সাথে সাথে আবার সব কিছু আগের মত হযে যায়। রুনু টের পায় মাথার উপর হেলমেটের মতো চেপে বসা যন্ত্রটি সরে যাচ্ছে।
অনেকক্ষণ লাগে রুনু বুঝে উঠতে সে কোথায় আছে। হার্ট বিট বেড়ে যাওয়াতে রুনু হাপাচ্ছে। চট করে গাল স্পর্শ করে দেখে তার দু’গালই ভেজা। সত্যিই সে কাঁদছিল। জামিল আহদমদ এগিয়ে এসে তার হাতের তারগুলি খুলে দেন।
তা আজকে কেমন লাগল আমাদের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির এই জগত?
কথা বলতে রুনুকে প্রচন্ড মানসিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।
আমার কাব্য ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে, তার সাহায্য দরকার।
রুনু, আমি আগেও বলেছি কাব্য বলে বাস্তবে কেউ নেই। সে শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। এখানে প্রোগ্রামার যেভাবে প্রোগ্রামটি তৈরী করবেন আপনি সেভাবেই দেখতে পাবেন।
রুনু হাপাতে হাপাতে বলে পুরো ব্যাপারটি শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম হতে পারে না। আমার ছেলের স্পর্শ এখনও আমার গালে লেগে রয়েছে। আপনি আমাকে আমার ছেলের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
দেখুন রুনু, আমাদের তৈরী এই ভার্চূয়াল জগত আমাদের ব্যাবসারই একটি অংশ। এর মাধ্যমে আমরা মানুষকে বিনোদন দিয়ে থাকি। বিনিময়ে আমার টাকা পাই। কাউকে কষ্ট দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
আমার ছেলে কাব্য রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে আজ ছয়টা মাস পেরিয়ে গেছে। এখনও আমি রাতে ঠিক মতো ঘুমুতে পারি না। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে লাফিয়ে উঠি। মনে হয় আমার ছেলে দরজার বাইরে থেকে আমাকে ডাকছে। পরম মমতায় দরজা খুলে দেখি কোথাও কেউ নেই। এরপর সারা রাত আর ঘুমুতে পারি না। খালি মনে হয় আমি ঘুমিয়ে পড়েল আমার ছেলে এসে আমাকে না পেয়ে ফিরে চলে যাবে। তারপর একদিন আপনাদের বিজ্ঞাপন দেখে এখানে চলে আসি। আপনারা যে ছেলেটিকে তৈরী করেছেন সে অবিকল আমার কাব্যের মতো। তার ভালোবাসার টানে আমি আজ এক সপ্তাহ ধরে রোজ এখানে ছুটে আসি। এই ছেলেটিকে আমি কাব্যের মতোই ভালোবাসতে শুরু করেছি। মনে হচ্ছে আমার কাব্যই আবার ফিরে এসেছে।
জামিল আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ঠিক আছে এবার আমি আপনাকে প্রোগ্রামের বাকী অংশটুকু দেখাচ্ছি। তবে আপনি তা না দেখলেই ভাল করতেন।
রুনু আবার গিয়ে আগের চেয়ারটিতে বসে পড়ে। কিছুক্ষনের মধ্যেই রুনু পৌছে যায় ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগতে। আগে যেখানে শেষ হয়েছিল এবার তার পর থেকে শুরু হয়। রুনু কাব্যকে মেঝে থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে। রুনু কাঁদছে। ছেলের মুখে হাসি।
এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ন বদলে যেতে আরম্ভ করে।
রাতের সময় একটি গাড়ী রাস্তা দিয়ে তীব্র বেগে ছুটে চলেছে। গাড়ী চালাচ্ছে কাব্যের বাবা জয়। রুনু পিছনের সিটে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে। কাব্য ঘুমিয়ে পড়েছে। রুনুর চোখেও ঘুম। জয় ঘন ঘন হাই তুলছে। হঠাৎ কয়েক মুহুর্তের জন্য ঝিমুনি এসে পড়ে। এই কয়েক সেকেন্ডেই গাড়ী রাস্তা থেকে পাশের মাঠে ঢুকে পড়ে। জয় স্টিয়ারিং এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়ী নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই পাশের এক গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। তারপর শুধু কাঁচ ভাঙার শব্দ।
আবার দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটে।
রুনুর জ্ঞান ফিরে আসছে। সারা শরীরে অসহ্য ব্যাথা। মাথাটা মনে হচ্ছে ছিঁড়ে পড়ে যাবে। সামনে জয় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সামনে ড্যাশবোর্ডে তার মাথা ঠুকে আছে। কাব্যের শরীরের নিচের অংশটা এখনও রুনুর হাতে ধরা রয়েছে। কিন্তু উপরের অংশটুকু গাড়ীর জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বের হয়ে রয়েছে। মাথাটা থেতলে গেছে। রুনুর গলা দিয়ে জবাই করা পশুর চিৎকার বেরিয়ে আসে। হঠাৎ করে রুনু বাস্তবতায় ফিরে আসে । সামনে জামিল আহমেদের ভীত মুখ আবিস্কার করে। তার মানে আসলেই সে এতক্ষণ চিৎকার করছিল। রুনু উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। সে রীতিমতো টলছে। ধপ করে আবার চেয়ারে বসে পড়ে।
জামিল আহমেদ এগিয়ে আসেন। আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন। রুনু মাথা নাড়ে। কোন মতে উচ্চারণ করে আমার ছেলে আবার মারা গেছে।
জামিল আহমেদ এক গ্লাস পানি রুনুর দিকে এগিযে দিয়ে বলেন- আপনার কাব্যের মৃত্যূ একবারই হয়েছে। এখন যে মারা গেছে সে আপনার ছেলে নয় । শুধুই একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। আমি এজন্যেই আপনাকে এ অংশটুকু দেখাতে চাচ্ছিলাম না।
আমি কি আবার আমার ছেলেকে দেখতে পারি।
জামিল আহমেদ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে রুনুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। না আপনি আর এই জগতে ঢুকতে পারবেন না। আমার প্রোগ্রামটি নষ্ট করে ফেলেছি। আপনার জন্য আমাদের তৈরী করা প্রোগ্রামের এটাই ছিল শেষ অংশ। আমাদের প্রোগ্রাম এখানেই শেষ।
রুনু কিছুক্ষণ জামিল আহমেদের মুখের দিকে তাকিয়ে কি যেন খোঁজার চেষ্টা করে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
জামিল সাহেব আপনি এক সন্তান হারা মাকে তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছেন। হোক তা ক্ষণিকের কাল্পনিক ভালোবাসা। আপনাকে ধন্যবাদ। এই টুকু বলে রুনু চলে আসে।
জামিল আহমেদের মনটা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। একজন মার সাথে তিনি প্রতারণা করেছেন। প্রোগ্রামটা আসলে নষ্ট করা হয়নি। সম্পূর্ন অক্ষত আছে। এটা করা ছাড়া আসলে উনার কোন উপায় ছিল না। রুনু কাল্পনিক জগতের কাব্য নামক এক চরিত্রকে ভালোবাসতে শুরু করে ছিল। কাল্পনিক এই কাব্যকে বাস্তব জগতের তার ছেলে কাব্যের সাথে মেলাতে চেষ্টা ক
রছিল। এ এক অপার্থিব ভালোবাসা। এত করে শুধু তার কষ্টটুকুই বাড়ত। তারচেয়ে বরং এটাই ভাল হয়েছে। পার্থিব এই জগতে অপার্থিব ভালোবাসার কোন স্থান নেই।
Wednesday, February 11, 2009
অপেক্ষা
জ্যামি পাথরের মূর্তির মতো তার বাবার সামনে বসে আছে। কী নিশ্চিন্তেই না তার বাবা শুয়ে আছেন। একটু আগে কি ভয়ানক ম্বাস কষ্টটাই না তার শুরু হয়েছিল। গলার রগ ফুলে উঠেছিল। সারা শরীর মৃত্যূ যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাচ্ছিল। ডাক্তার-নার্সদের মধ্যে ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এখন সব কেমন নিশ্চুপ। মনে হচ্ছে চারদিকে কোথাও যেন আর কেউ নেই।
তার মনে পড়ে না আগে কখনও এভাবে সে তার বাবার পাশে এসে বসেছে কিনা। অন্য সময় হলে সে অস্বস্তিতে মরে যেত। বাবা-ছেলের সহজ সম্পর্ক তাদের মধ্যে কখনও ছিল না। তার বাবা কখনও তাকে জোরে একটা ধমক পর্যন্ত দেননি। অথচ তারপরও বাবার সামনে আসলে তার গলা শুকিয়ে যেত।
জ্যামি আসলে বড় হয়েছে একটা ঘোরের মধ্যে। তার ছিল নিজের তৈরী অন্য একটি জগত। সে কখনও তার চেনা সেই জগতের বাইরে আসতে চায়নি। তার বাবাও ছেলের এই ভুবনে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। জ্যামিও তার এই ঘর থেকে কখনো্ মুক্তি চায়নি। ফলে নিজের অজান্তেই তারা একটু একটু করে একজন আরেকজনের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে।
অথচ আজ মৃত্যর মতো অসম্ভব এক কুৎসিত জিনিস তার এত দিনের তৈরী শৃঙ্খল থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে। অদৃশ্য ঘরের দেয়াল ভেঙে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
জ্যামি খুব ধীরে তার বাবার কপালে হাত রাখে। ফিসফিস করে বলতে থাকে-হে করুনাময় আমার বাবার প্রতি একটু দয়া করো। জ্যামি খুব শক্ত করে তার বাবাকে ধরে রাখে। মৃত্যূকে পরাজিত করার এক ছেলেমানুষী প্রচেষ্টা।
রাতের আধাঁরে সব কিছু কেমন ভীতিকর মনে হয়। জ্যামি ভোরের অপেক্ষা করতে থাকে। সে জানে না নতুন একটা ভোর তার জন্যে কি নিয়ে আসছে।
জ্যামি বুঝতে পারে না কখন মৃত্যু এসে চুপিচুপি তাকে পরাজিত করে গেছে। জ্যামির বাবা মারা যান ৪.৩০ মিনিটে। নিঃশব্দ এক মৃত্যূ। বাইরে ভোরের তখনও অনেক দেরী।
তার মনে পড়ে না আগে কখনও এভাবে সে তার বাবার পাশে এসে বসেছে কিনা। অন্য সময় হলে সে অস্বস্তিতে মরে যেত। বাবা-ছেলের সহজ সম্পর্ক তাদের মধ্যে কখনও ছিল না। তার বাবা কখনও তাকে জোরে একটা ধমক পর্যন্ত দেননি। অথচ তারপরও বাবার সামনে আসলে তার গলা শুকিয়ে যেত।
জ্যামি আসলে বড় হয়েছে একটা ঘোরের মধ্যে। তার ছিল নিজের তৈরী অন্য একটি জগত। সে কখনও তার চেনা সেই জগতের বাইরে আসতে চায়নি। তার বাবাও ছেলের এই ভুবনে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। জ্যামিও তার এই ঘর থেকে কখনো্ মুক্তি চায়নি। ফলে নিজের অজান্তেই তারা একটু একটু করে একজন আরেকজনের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে।
অথচ আজ মৃত্যর মতো অসম্ভব এক কুৎসিত জিনিস তার এত দিনের তৈরী শৃঙ্খল থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে। অদৃশ্য ঘরের দেয়াল ভেঙে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
জ্যামি খুব ধীরে তার বাবার কপালে হাত রাখে। ফিসফিস করে বলতে থাকে-হে করুনাময় আমার বাবার প্রতি একটু দয়া করো। জ্যামি খুব শক্ত করে তার বাবাকে ধরে রাখে। মৃত্যূকে পরাজিত করার এক ছেলেমানুষী প্রচেষ্টা।
রাতের আধাঁরে সব কিছু কেমন ভীতিকর মনে হয়। জ্যামি ভোরের অপেক্ষা করতে থাকে। সে জানে না নতুন একটা ভোর তার জন্যে কি নিয়ে আসছে।
জ্যামি বুঝতে পারে না কখন মৃত্যু এসে চুপিচুপি তাকে পরাজিত করে গেছে। জ্যামির বাবা মারা যান ৪.৩০ মিনিটে। নিঃশব্দ এক মৃত্যূ। বাইরে ভোরের তখনও অনেক দেরী।
Subscribe to:
Posts (Atom)